,

ভালোয় ভালোয় শেষ করতে চান মাশরাফি

স্পোর্টস ডেস্ক :

উইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলা ১ টায় ম্যাচটি শুরু হবে। আজ যখন টস করতে নামবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তখনই তিনি গড়ে ফেলবেন প্রথম দেশি ক্রিকেটার হিসেবে দুইশ ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ড। তাই বছরের শেষ সিরিজটা ভালোয় ভালোয় শেষ করতে চান মাশরাফি। সে সাথে তিনি সিরিজ জয়েরও আশাবাদী।

চলতি বছর ১৭ ওয়ানডে খেলে জিতেছে ১১টি বাংলাদেশ। অতএব লাল-সবুজ জার্সি গায়ে মাশরাফির নেতৃত্বে ২০১৮ সালটি দারুণ কেটেছে বেঙ্গল টাইগারদের। সবমিলিয়ে একদিনের ফরম্যাটে টাইগারদের জন্য ভালো একটি মৌসুম গেছে। আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজেও তা ধরে রাখতে চান মাশরাফি।

গতকাল ম্যাচপূর্বক সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, এই বছর আমার কাছে মনে হয়, আমাদের পারফরম্যান্স অনেক ভালো। শুধু দুইটা ফাইনাল বাদে। একটা জিততে পারলে ভালো হতো। বিশেষ করে এশিয়া কাপ ফাইনাল। এই বছরের রেটিং খুব ভালো। তাই শেষটা ভালো করলে বছরটা ভালো যাবে। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচ জিতলেও কোনো ম্যাচে সফরকারীদের অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, জিম্বাবুয়েকে আমরা কোনো ম্যাচেই অলআউট করতে পারিনি। তবে ম্যাচ জেতার জন্য যা প্রয়োজন তা করতে পেরেছি। তবে আমরা কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলাম। যেমন রুবেল জিম্বাবুয়ে সিরিজে ছিল না। এশিয়া কাপে আমাদের সেরা বোলার ছিল সে, কিন্তু ছিল না।

এদিকে ইনজুরি সঙ্গী করেই এশিয়া কাপে খেলেছিলেন মাশরাফি। দেশে ফিরে পুরোপুরি ফিট না হয়েই খেলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ। নিজের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে মাশরাফি বলেন, এশিয়া কাপ থেকেই কিছু ইনজুরি ছিল। এখন ভালোভাবে অনুশীলন করছি। আশা করছি, উইন্ডিজ সিরিজে সব ঠিক থাকবে। মাশরাফি বলেন, ক্যারিবীয় খেলোয়াড়দের পাওয়ার হিটিংয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে তার দলকে। যে কারণে নিজেদের টার্গেট বলতে রাজি হননি মাশরাফি। এর চেয়ে বরং ম্যাচ বাই ম্যাচ এগুনোই ভালো হবে বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসলে ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টিতে অনেক ভালো দল। তাদের মাসল পাওয়ার অনেক বেশি। এই ধরনের ফরম্যাটে একজন বা দুজনই কিন্তু ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে এই জায়গাটায় ওদের কয়েকজন আছে এমন যারা প্রতিপক্ষ বোলিংকে স্রেফ গুঁড়িয়ে দিতে পারে। মাশরাফি আরও বলেন, ওদের বিপক্ষে সীমিত ওভারে খেলতে নামলে এই বিষয়টা (পাওয়ার হিটিং) খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। তবে আসলে তিনটা ম্যাচের কথা তো এখনই বলা যায় না। ওদের জন্য ফরম্যাট যত ছোট হবে তত বেশি সহজ হবে। আমার কাছে মনে হয় প্রথম ম্যাচের দিকেই ফোকাস থাকাই বেশি ভালো। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার ব্যাপার নিয়ে ভাবতে রাজি নন মাশরাফি। এমনকী তিনি এই সিরিজে বাংলাদেশকে ফেবারিট ভাবতেও রাজি নন। সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রে তিনি উভয় দলের ফিফটি-ফিফটি সম্ভাবনা দেখছেন। মাশরাফি বলেন, ফেবারিটের ক্ষেত্রে আমি বলব সমানভাবে। কারণ ওদের দলে কিছু আছে যেটা দুর্দান্ত। একজন ফাস্ট বোলার আছে। জোরে বোলিং করবে। যেটা হয় যে, জোরে বোলারদের অনেক সময় হুটহাট করে উইকেট পড়ে যায়। তাতে শুরুতে চাপ আসে। তাই এই জায়গাগুলো চিন্তা করার ব্যাপার আছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের আসলে মাসল পাওয়ার অনেক বেশি। এই ধরনের ফরম্যাটে একজন দুইজন কিন্তু গেইম চেইঞ্জ করে। এই জায়গাটায় ওদের কয়েকজন আছে এমন, ডেস্ট্রয় করতে পারে। আমাদের ওদের বিপক্ষে এই পার্টটা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ওদের জন্য ফরম্যাট যত ছোট হবে তত বেশি সুট করবে। তাই আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে ওরা যেন জুটি বড় করতে না পারে। আর এমনি এমনি তো জেতা সম্ভব না। অবশ্যই হোম ওয়ার্ক, একইসঙ্গে মাঠে বাস্তবায়নটা শতভাগ ঠিক থাকতে হবে। অন্তত ৮০ ভাগ ঠিক থাকলে হয়তো বা ভালো ম্যাচ হবে। আমি আশা করছি না যে টেস্টের মতো বা আগে পরে যেসব ম্যাচ জিতে আসছি এত সহজ হবে।

এদিকে, দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানা গেছে, আজ ইনজুরি থেকে ফেরা তামিমের সঙ্গী হয়ে ওপেনিংয়ে নামবেন ইমরুল কায়েস। অভিজ্ঞতা ও সীমিত পরিসরে দারুণ ফর্মে থাকায় তাকে বিবেচনায় আনছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। সেক্ষেত্রে লিটন ও সৌম্যকে বসতে হবে সাইড বেঞ্চে!

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

}