,

রেল সচিব কথা বলছেন সাংবাদিক নাজমুস সালেহীর সাথে।

সাংবাদিককে কেন ‘আত্মহত্যার পরামর্শ’ দিলেন রেল সচিব?

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ঢাকার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ‘খামোশ’ বলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন। এর জের ধরে তাকে দু:খ প্রকাশ করতে হয়েছিলো বিবৃতি দিয়ে এবং ওই প্রতিবেদক সশরীরে দেখা করার পর তাকে সমবেদনা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীও।

সে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার আরেকজন সাংবাদিকের সাথে সরকারের একজন সচিবের কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে ওই সচিব সাংবাদিককে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দিচ্ছেন।

এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রচার করেছে বেসরকারি সময় টেলিভিশন।

প্রতিবেদনে দেখা যায় রিপোর্টার নাজমুস সালেহী গিয়েছিলেন ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে।

সেখানে তিনি দেখতে পান ঢাকা কোলকাতা ট্রেনের টিকেটের দাম হলো ২,৪৩২ টাকা কিন্তু টিকেটে মোট মূল্য লেখা ২,৫০০ টাকা।

প্রতি টিকেটে এভাবে ৬৮ টাকা করে বেশি নেয়া হলে বছরে প্রায় ৬০ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে মোট বেশি নেয়া হচ্ছে বছরে ৪০ লাখেরও বেশি বলে ওই প্রতিবেদন বলা হচ্ছে।

এ টাকা কোথায় যাচ্ছে – তা নিয়ে কর্মকর্তারা কিছু বলতে রাজী হওয়ায় মিস্টার সালেহী যান রেল সচিব মোফাজ্জল হোসেনের কাছে।

তিনি সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করেন, “এটা নিয়ে আপনার এতো উৎসাহ কেনো। যে নিয়মিত কোলকাতায় যায় সে জিজ্ঞেস করুক। তাকে বলবোনে। আমাদের কাছে তো এটার ব্যাখ্যা আছে”।

এ পর্যায়ে রিপোর্টার সে ব্যাখ্যা তাকে (সচিবকে) অন রেকর্ড দিতে বললে সচিব বলেন, “এ ব্যাখ্যা আপনার দরকার কেন?”

এরপর আরেকজন কর্মকর্তা মিয়া জাহানকে ডেকে পাঠান সচিব। সেখানে মিয়া জাহান পরদিন বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান।

কিন্তু একদিন সময় দিয়েও ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে রাজী না হওয়ায় সাংবাদিক নাজমুস সালেহী আবারো সচিবের কাছে যান।

সেখানেই কথোপকথনের এক পর্যায়ে রিপোর্টারকে উদ্দেশ্য করে সচিবের কণ্ঠে শোনা যায়, “আপনি এখন আত্মহত্যা করেন। একটি স্টেটমেন্ট লিখে যান যে রেলের লোকেরা আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেনা। এই মর্মে ঘোষণা দিলাম যে তারা কথা না বলার কারণে আমি আত্মহত্যা করলাম”।

সচিবের এমন বক্তব্য তার কণ্ঠেই সময় টেলিভিশন তার প্রচার করেছে রেল টিকেটের বিষয়ে তাদের প্রতিবেদনে।

রিপোর্টার নাজমুস সালেহী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “প্রতিবেদনে আমরা পুরো ঘটনা তুলে ধরেছি। ঘটনাটা সম্পূর্ণ সত্যি। রেল সচিব আমাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন। এখন আমার অফিস বিষয়টি দেখছে”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

}