,

ওরা গণদুশমন

বিশেষ সম্পাদকীয় :

লাজ লজ্জাহীন প্রকৃতির মানুষগুলোর চাহিদার কোনো শেষ নেই। রাজনীতি হচ্ছে তাদের একটি ঢাল মাত্র। নীতিহীন এই রাজনীতিবিদদের পিছনে যারা রাজনীতি করেন তারা উচ্ছিষ্ট ভোগি। নমনীয়তা প্রদর্শন যে কোনো মানুষের ভদ্রতা প্রকাশ পায়। লজ্জাহীন এসব লোকের মধ্যে তাও নেই। পদ-পদবি এরা কখনই মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেনি, করেছে নিজের আখের গোঁছানোর কাজে। বাপে তাড়ানো, মায়ে খেদানো বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত পোলাপান দিয়ে কল্যাণমূলক রাজনীতি হয়না।

এক সময় ছাত্রনেতারা কলেজে প্রবেশ করতে যাওয়ার সময় সালাম পাওয়ার বহর বয়ে যেতো। তখনকার ছাত্রনেতাদের বৈশিষ্ট্য এখন আর নেই। ছাত্র রাজনীতি হবে কলেজ কেন্দ্রীক। যেখানে অধিকার বঞ্চিত ছাত্রদের পক্ষ হয়ে কথা বলবে ছাত্রনেতারা। এখনকার কথিত ছাত্রনেতারা গণদুশমনে পরিনত হয়েছেন। ছাত্ররাজনীতি করলে টাকার পিছনে ছুটতে হয়, তা আমার জানা ছিলনা। এরকম ছাত্রনেতাদের আবার সমর্থন করেন, সিনিয়র নেতারা।

একদিন এক লোক এসে বললেন, আমার ছেলে পরীক্ষায় থার্ড হইছে, থার্ড হইছে। অন্যজন জিজ্ঞেস করলেন ছাত্র কয়জন? বললেন তিনজন। এখন কিছু কিছু কথিত ছাত্রনেতার রাজনীতির অবস্থাও তাই। সুষ্ঠুধারার রাজনীতিবিদরা যদি রাজনীতি করার সুযোগ না পায়, তাহলে রাজনীতির ক্লাসে এমন লোকেরা থার্ড ডিভিশনে পাশ করবেই।

ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রত্যেক মানুষের অবশ্যই করণীয়। কিন্তু কেউ কেউ শিক্ষা নেওয়ার ধার ধারেনা। এসব লোকেরা মনে করেন, টাকাই সব-বাকী সব ঝোলাবাতি খেলা। খারাপ লোকেরা এবং তাদের বড় ভাইরা মনে করেন ক্ষমতা থাকতে যেনতেন উপায়ে টাকা রোজগার করে রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলতে হবে।

ফকির লালন শাহ্ বলেছেন- সময় গেলে সাধন হবেনা। এখানে সময় গেলে সাধন হবেনা, এটা লালন সাঁইজি অন্য অর্থে বোঝাইছেন। এদের মত লোকে হয়তো ভেবেছেন, সময় থাকতে ফকির লালন শাহ্ লুটপাট করতে বলেছেন। অসৎ স্বভাবের এসব লোকেরা প্রেমভাজা খেতেও অভ্যস্ত। প্রেমভাজা হলো-বাউলধর্মে বিশ্বাসীদের একটি প্রিয় খাবার। যা কুমারী মেয়েদের ঋতুকালীন রক্ত দিয়ে তৈরী করা হয়।

প্রত্যেক মানুষ শ্রদ্ধার জায়গা থেকে সন্মান পেতে চায়। অপ্রিয় হলেও সত্য এই সমাজের বদ স্বভাবের এসব মানুষেরা মনে করেন ভয়ের সন্মানটাই বড়। আসলে ভয় নয়, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার সন্মানটাই বড়। প্রত্যেক মানুষের মনে একটি শ্রদ্ধার সিংহাসন থাকে। যেখানে ভালো কাজ করলে মানুষ তার মনের সিংহাসনে বসাবেন, না হলে ছুড়ে ফেলে দিবেন।

আমি একজন অতিক্ষুদ্র সংবাদকর্মী। মানুষের আক্ষেপের জায়গাটায় সব সময় আমার বা আমাদের দিকে চোখ থাকে। সমাজের অসঙ্গতিগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরাই আমাদের কাজ। এটাকে যারা প্রতিপক্ষ ভাবেন এবং সংবাদকর্মীর পিছনে লাগার চেষ্টা করেন, তাদের পরিনতি আরো ভয়াবহ হবে। যারা মতলববাজ সাংবাদিকতা করেন আর ২/৩ শ’ টাকার পিছনে ঘোরেন আমি তাদের দলের লোক নই। এই শহরে অনেকে আছেন, যারা খারাপ লোকদের কাছ থেকে কিছু সুবিধা নিয়ে তাদের পক্ষে লেখেন আমি তাদের মত নই। আড়ালে আবডালে থেকে ফেক আইডি দিয়ে কারো পিছনে লাগার চেষ্টা যারা করেন আমি তাদের প্রত্যেককে চিনি।
কথায় আছে : বাঘে ছুঁলে ১৮ঘা, পুলিশে ছুঁলে ৩৬ঘা আর সাংবাদিকে ছুঁলে ৭২ঘা। অতএব সাধু সাবধান।

লেখক : মো. আলী হোসেন- সম্পাদক ও প্রকাশক আকাশবার্তাবিডি ডটকম।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

}