,

সাহসী সাংবাদিকতার শূন্যতা

সাংবাদিক মো. আলী হোসেন।

বিশেষ সম্পাদকীয়

খবরের পেছনের খবর, ঘটনার নেপথ্যের ঘটনা অনুসন্ধানে প্রতিনিয়ত একজন সাংবাদিককে সীমাহীন ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ উৎসের পেছনে অবিরাম ছুটতে হয়। জীবন বিপন্নের আশঙ্কা থাকলেও প্রকৃত একজন সংবাদকর্মী কখনও বিচলিত হওয়ার নয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাক্যের গঠনে ভুল হলে, শব্দের প্রয়োগে ভুল হলে কিংবা বানানে ভুল হলে অর্থ বদলে যায়। এতে পাঠক সমাজ বিভ্রান্ত হতে পারেন। তাই সংবাদপত্রে লিখতে হলে শুদ্ধ বানান লেখা অবশ্যই দরকার। সংবাদপত্রের প্রতিটি পর্যায়ের কাজ খুব ব্যস্ততার পরেও ধৈর্য্যতার সহিত সম্পন্ন করতে হয়। এটাই একজন সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য।

সাংবাদিকতা মানে আড্ডা কথাটি বলেছেন, জনপ্রিয় সাংবাদিক মহিম মিজান। তিনি বলেছেন, ‘কাজ শেষে আড্ডা দিতে দিতে প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতাগুলো পরস্পর ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্যে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি রয়েছে। আড্ডার ফাঁকে আধুনিক সাংবাদিকতার বিষয়ে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করে।

বর্তমানে প্রযুক্তি দুনিয়াকে অনেক ছোট করে দিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিতকার সাথে যুক্ত হয়েছে বর্তমান দুনিয়ার তারুণ্য শক্তি। এ দুয়ে মিলে সাংবাদিকতা পেয়েছে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম। সেই সাথে প্রয়োজন অদম্য সাহস ও কাজের গতিশীলতা। যা আমাদের নিয়ে যেতে পারে সাফল্যের শিখরে।

একজন সাংবাদিককে এমন হওয়া উচিত; সৃজনশীল, তীক্ষন বুদ্ধিসম্পন্ন, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, অদম্য সাহসী, বাকপটু, মার্জিত, সৎ এবং জ্ঞানের শাখায় সমৃদ্ধ একজন যথার্থ কলম সৈনিক? যিনি হবেন সত্য এবং বাস্তব ঘটনার বার্তাবাহক। এখন প্রশ্ন হল; কী দেখার কথা ছিল, আর কী দেখছি! জাতি হিসাবে আমরা ভীষন লজ্জিত এবং শঙ্কিত। মনে হচ্ছে, সাংবাদিক আর সাংঘাতিক দুটোই একে অপরের পরিপূরক শব্দ।

বাংলাদেশে এখন একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সাংবাদিক হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন। কারো কারো জন্য বর্তমানে রাজনীতি হলো একটি লাভজনক ব্যবসা। তাও এটা সবসময় নয়। দল ক্ষমতায় থাকলে। এখন রাজনীতি এবং চাকুরীর পাশাপাশি কতিপয় লোক সাংবাদিক হওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা সাংবাদিকতা পেশাকেও সারাজীবনের লাভজনক ব্যবসা ভাবছেন। কেউ কেউ সাংবাদিকদের কলমের খোঁচা খেয়ে এখন নিজে সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এরকম অনেকে সাংবাদিকতার টিকেটও জোগাড় করে ফেলেছেন। বাস্তবে এরা কখনও দেশ-জাতির সেবায় প্রকৃত সাংবাদিক হতে পারবেনা। কারণ, তাদের উদ্দেশ্য সৎ নয়।

কিছু কিছু পেশা আছে একবার ধরলে আর ছাড়া যায়না, তারমধ্যে সাংবাদিকতা পেশাটি অন্যতম। কারণ, এই পেশার মধ্যে এক ধরনের নেশা কাজ করে। তবে, অলাভজনক পেশায় সাধারণত দিন দিন লোক কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু ব্যতিক্রম এ পেশাটিতে দিন দিন লোক সংখ্যা বাড়ছে।

আপনার পকেটে একটি পরিচয়পত্র থাকলেই আপনি সাংবাদিক হয়ে গেলেন। আর বিভিন্ন অফিসের দালালী, বাটপারী করার একটি বৈধ লাইসেন্স পেয়ে গেলেন। যেমনটি ঘটছে এখন আমাদের দেশে।

শেষ মূহুর্তে একটি কথা বলতেই চাই’। এতো কিছুর পরও কিছু সাংবাদিক আছেন যারা সাংবাদিকতাকে মহৎ পেশা হিসাবেই বেচে নিয়েছেন। সমাজের প্রতি দেশের প্রতি একাগ্রতা চিত্তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অনেকে সত্য কথা লিখতে গিয়ে অনেক হয়রানি বা অপদস্ত হয়েছেন কিংবা হচ্ছেন। তাদের কারণেই এ পেশাটি বা নেশাটি এখনো সমাজে অনেক সম্মানের। আমার ব্যক্তিগত জীবনে যেসব আদর্শবান ব্যক্তির কর্মকান্ডে ও তাঁদের জীবন বৃত্তান্ত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে নিজেকে সংবাদকর্মী হিসাবে পরিচয় দেয়ার চেষ্টা করি। তাঁদের কয়েকজনের কথা না বল্লেই নয়;

লক্ষ্মীপুর জেলার সাংবাদিকতা পেশার পথিকৃৎ প্রয়াত সাংবাদিক এম এ মঈদ ও প্রয়াত সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন। তাঁদের দুজনেরই আমি কম বেশি সান্নিধ্য পেয়েছি। সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন আমাকে ছোট ভাইয়ের মত স্নেহ করতেন। এম এ মঈদ বিটিভির জেলা সংবাদদাতা হিসাবে আমার কলেজ জীবনে একবার বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে এসেছেন। সেখানেই পরিচয়। এরপর প্রায় দেখা স্বাক্ষাত হতো, কথা হতো। কাছে টেনে নিয়ে কথা বলতেন, খোঁজখবর নিতেন। সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন দৈনিক সংবাদ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। এই দুজন মানুষ লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিকতা পেশাকে যেমন আলোকিত করেছেন তেমনি সাহসিকতায় সমৃদ্ধ করেছেন।

মো. আলী হোসেন, সাংবাদিক ও লেখক (ahossain640@gmail.com)।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ   মে »
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
}