,

সমরশক্তিতে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সামরিক শক্তিতে চীনের দ্রুতগতির উত্থান মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে আমেরিকাসহ বিশ্ববাসীর। যদিও পুরোপুরিভাবে এখনও বেশ বাকি, তারপরও সমরশক্তিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইতোমধ্যেই এগিয়ে গেছে চীন। একইসঙ্গে নিজেদের অস্ত্রাগার নতুন নতুন উন্নত ও ভয়ঙ্কর যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে সমৃদ্ধ করে দেশটি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে বলা চলে, সামরিক শক্তিতে শিগগির আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে বেইজিং।

চীনের দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া দেখে যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই একরকম উদ্বিগ্নতায় ভুগছে। এর ওপর আবার শক্তিতে বেইজিং যে তাদেরও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম, এ রকম একটি তথ্য দিয়ে নতুন করে দেশটির মাথা ব্যথার কারণ সৃষ্টি করে দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল জ্যাক কেয়েনে।

তার মতে, এশিয়া দেশ চীন সামরিক শক্তিতে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। যা বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাপিয়ে দেবে। সে হারেই সামরিক সক্ষমতা দ্রুতগতিতে বাড়াচ্ছে দেশটি।

আমেরিকান টেলিভিশন চ্যানেল দ্য ফক্স বিজনেসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এ শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা বলেন, চীন শিগগির এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হবে। এছাড়া বিশেষ করে প্রযুক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই প্রায় সক্ষম হয়ে গেছে দেশটি।

এদিকে, চীন যে উন্নত অস্ত্রের নতুন দিগন্ত খুলছে; আকাশ, মহাকাশ এবং সমুদ্রে দিনদিন বাড়াচ্ছে ভয়ঙ্কর অস্ত্রে ঝলকানি, এর তথ্য পেয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক মারিয়া বারটিরোমোও। মূলত তিনিই জ্যাক কেয়েনের কাছ থেকে তার দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতা থেকে নিজেদের জন্য এমন অশনি সংকেত বের করে এনেছেন।

ব্যাখ্যা দিয়ে জ্যাক কেয়েনে বলেন, চীন প্রচুর সুবিধা নিজেদের আওতায় নিয়ে আমাদের ধরে ফেলেছে; যেসব সুবিধা আগে আমাদের ছিল। কেননা, তাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে দিয়েছেন। এছাড়া তারা সক্ষম, এমন একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে তাদের মনে। পাশাপাশি আজ তারা বৈশ্বিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে যেতে পারে- এমন সক্ষমতা অর্জনের আত্মবিশ্বাসেও দৃঢ়। সঙ্গে এটাও বলতে হবে- দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতেও যথাযথভাবে সামরিক শক্তি কাজে লাগাচ্ছে চীন, এই হলো তাদের সামরিক বাহিনী।

তিনি বলেন, বাণিজ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধিতেও নতুন দিগন্তের রচনা করতে যাচ্ছে চীন। কেননা, দেশটি দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের সামরিক স্থাপনা বসাচ্ছে, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী নিজেদের নৌ চলাচলের নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়া সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী এ দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও ছিন্ন হয়ে গেছে চীনের বাণিজ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে।

চীনা সেনাবাহিনীর মহড়া। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সামরিক খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পরে দেশটি বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বেশি সামরিক ব্যয় বহনকারী হিসেবে। তাদের প্রতিরক্ষাখাতের বাজেট গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। ২০১৮ অর্থবছরে চীন এ খাতে বরাদ্দ রেখেছে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, একের পর এক অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র বানিয়ে আসছে চীন। তারা বিশেষ করে প্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সবমিলে তারা আকাশ, মহাকাশ এবং সমুদ্রে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। বলা হচ্ছে, শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তাইওয়ানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি।

বেইজিংয়ের দ্রুতগতিতে সামরিক উত্থানের পেছনে মূল ভিত্তি কী, তা নিয়ে এ বছরের শুরুতে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা বলেছিলেন, প্রযুক্তির বলে বলীয়ান হয়েই বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হওয়ার মতো অস্ত্রের মালিক হয়েছে চীন।

এদিকে, গত বছরের আগস্টে রাশিয়ার পর বিশ্বে দ্বিতীয় হিসেবে হাইপারসনিক যুগে প্রবেশ করে চীন। শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি গতির ‘স্টাররি স্কাই-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এগিয়ে আছে দেশটি। কেননা, সবদিক থেকে অগ্রসর থাকলেও এখনও হাইপারসনিক অস্ত্রের মালিক হতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। যদিও গত বছরের অক্টোবরে নিজেদের অস্ত্রাগারে প্রথম হাইপারসনিক যোগ হচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব ডিফেন্স প্যাথ্রিক শানাহান।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মে ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল   জুন »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
}