,

অপরাজনীতির অবসান চাই

বিশেষ প্রতিবেদন :

বাঁচতে হলে ন্যায় সঙ্গত লড়াই করে বাঁচতে হবে। সাধারণ মানুষকে সবকিছু খোলামেলা ভাবে জানাতে হবে। কোনটা সাদা কোনটা কালো প্রকাশ করতে হবে। যারা অন্যায় অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের কথা আমরা না বলার কারণে মানুষ জানতে পারছে না আসলে ভেতরে ভেতরে কী হচ্ছে? সুন্দর সুন্দর জামা কাপড় পরলে আর ভালো ভালো কথা বললেই ভালো মানুষ প্রমাণ হয়না। ভালো কাজের মাধ্যমে ভালো মানুষ প্রমাণ করতে হয়।

সব অপকর্মের সাথে গুটি কয়েক লোক জড়িত। কিন্তু বদনামের ভাগিদার দলের সবাই। আমি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নই। রাজনীতি যখন দুর্বৃত্তদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে, তখনই রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছি ১৪ বছর আগে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কখনও দলবাজি প্রকাশ করিনি। নিজ দলেরও কখনও নেংটা দালালি করিনি।

কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যখন ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ করেছি, তখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি। জেলখানা আমাদের জন্য বাড়িঘর নয়, তাদের জন্য বাড়িঘর যারা বেশিরভাগ সময় জেলেই কাটাতে হয়। বাইরে যখন আসে অল্প সময়ের জন্য, তখন তারা মেহমান হিসাবেই আসে।
রাজনীতিতে কতটা নোংরামি চলছে কল্পনা করা যায়না। দলীয় ক্ষমতা এতটাই অন্ধ করে দিয়েছে তাদেরকে, যেখানে মসজিদের সম্পত্তি আর টাকাও তাদের কাছে নিরাপদ নয়। ৭ বছর আগে লটারীর মাধ্যমে চন্দ্রগঞ্জ কেন্দ্রীয় আমিনিয়া জামে মসজিদ দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। জামানতের আড়াই লাখ টাকাও জমা দেননি। আবার ৫ বছর যাবত ভাড়া ভোগ করছেন কিন্তু ভাড়ার টাকার মসজিদের অংশও দিচ্ছেন না। তারা কোন ধরণের মুমিন বা ভদ্র লোক আম-জনতা জানতে চায়?

অন্যদিকে ছাত্ররাজরীতির নামে চলছে অপরাজনীতি। শিক্ষাগত যোগ্যতা বা রানিং ছাত্রত্ব না থাকলে ছাত্রলীগের রাজনীতি এবং পদ থাকে কীভাবে? ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে প্রশ্ন। টাকার জোরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের নীতি-আদর্শ কতটা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে, ভাবতে অবাক লাগে। একজন রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা থাকতে পারে। কিন্তু সেটা কী ধরণের মামলা হবে? নিশ্চই ডাকাতি প্রিপারেশন মামলা হতে পারে না। স্বনাম ধন্য একটি মার্কেটের সামনে দলীয় অফিসের ন্যায় দিনরাত অবস্থান করে এটা কোন ধরণের ছাত্ররাজনীতি। শুধুমাত্র এসব কারণে মার্কেটটি ভালো ব্যবসা বা জমজমাট ব্যবসা করতে পারছে না। এই অভিযোগ আমার নয়, মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। স্কুল পড়ুয়া ছোট ছোট শিশু কিশোরদের রাজনীতিতে ব্যবহার করে পকেট ভারী হচ্ছে দুই একজনের। জনবিচ্ছিন্ন এসব কথিত ছাত্রনেতারা টাকার জোরে এখনও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

পেষ্টুন রাজনীতি নির্ভর এসব অপরাজনীতিবিদদের বিশালাকার পেষ্টুনের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবসায়ী লক্ষ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়ে এবং ডেকোরেশনসহ লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল তুলে দোকানদারি করতে পারছেন না। কারণ, তার দোকানের সামনে রাজনৈতিক দলের বিশাল বিলবোর্ডের কারণে ওই লোকের দোকানটাই দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবাদ করার সাহসও হারিয়ে ফেলেছেন এসব ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

লুটেরা শ্রেণির এই কথিত ছাত্রনেতাদের অনুগতদের হাতে বিগত ১০ বছরে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ দলের অঙ্গসংগঠনের কত নেতা-কর্মী হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার কোন হিসাব নেই। রাগে ক্ষোভে অনেকে দলই ছেড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে চন্দ্রগঞ্জে যুবলীগের কত নেতা-কর্মী ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে মারধর খেয়েছেন তা কল্পনাও করা যাবে না। এসব বিষয়ে দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও কখনও তদন্ত হয়নি।

আমরা হতাশ হই যখন দেখি যারা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন, তারাই এদেরকে আশ্রয় দিচ্ছেন। আশ্রয় দেওয়া উপর মহলের এসব লোকের কত টাকা দরকার? টাকাই কী সব, নীতি আদর্শ বলতে কী কিছুই নেই?

আমার এই লেখায় এখন শুধু চরিত্র তুলে ধরছি, কিন্ত নাম প্রকাশ করছিনা। নাম প্রকাশও করবো খুব শীঘ্রই। আমি জানি, এসব লেখার পর আমার বিরুদ্ধে আরো ষড়যন্ত্র হবে। কিন্তু আমি সর্বশেষ শাস্তি মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। তবুও সত্য আর চাপা দিয়ে রাখতে চাই না।

আওয়ামীলীগের দীর্ঘ মেয়াদি বা টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনায় সামগ্রিক অর্থে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন হলেও এলাকাভিত্তিক অপরাজনীতির কারণে সামাজিক অপরাধ ও অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে। জনসমর্থন কমছে তৃণমূল আওয়ামীলীগের। এই শ্রেণির অপরাধের সাথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় সদস্যেরও সখ্যতা রয়েছে।

অপরাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এসব লুটেরাদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। ছাত্ররাজনীতি যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রকৃত ছাত্রদের হাতে ফিরে আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুর্বৃত্তপনা রাজনীতির অবসান হবে না। কারণ, রাজনীতির অর্থ জনগণের পকেট কাটা নয়।

এসব অপরাজনীতির মদদদাতা হিসাবে এখন যুক্ত হয়েছে কতিপয় হলুদ সাংবাদিকদের আস্ফালন। নাম সর্বস্ব অনলাইন পত্রিকার পরিচয়ে ভূঁইফোঁড় সংগঠন প্রকাশ করা হয়েছে। এদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন রাজনীতিতে জনবিচ্ছিন্ন কিছু লোক। যাদেরকে জনগণ বহু আগে প্রত্যাখ্যান করেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিবর্জিত জামায়াত-শিবির ভাবধারায় বিশ্বাসী এসব কথিত সাংবাদিকদের কোনো প্রকৃত মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী লোক সমর্থন দিতে পারে না।

তাই এখন সময় এসেছে গলা ছেড়ে কথা বলার, সাহস করে এগিয়ে যাওয়ার। এই দীপ্ত শপথ নিয়ে সমাজের এই জঞ্জালদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

মো. আলী হোসেন, সাংবাদিক ও লেখক

ahossain640@gmail.com

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে   জুলাই »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
}