,

ইয়াং ম্যান, তোমার আবার ডেঙ্গু হলো কীভাবে?

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ডেঙ্গু নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও সেটি বাতিল করে হাসপাতাল পরিদর্শনে বেড়িয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক।

দেশে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রকোপেও মালয়েশিয়ায় পারিবারিক সফর নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর বুধবার রাতে দেশে ফিরেন তিনি।

দেশে অস্বাভাবিকভাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আসন্ন ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঈদুর আজহার সময় ঢাকার বাইরে যেতে সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার) শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪৭৭ জন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৮ সালে ১০ হাজার ১৪৮ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এটি ছিল সেসময়ের রেকর্ড। চলতি বছরের এখনও পাঁচ মাস বাকি। কিন্তু গত বছরের রেকর্ড ইতোমধ্যে ভঙ্গ হয়েছে।

৩১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১৮৩ জন। শুধু জুলাই মাসেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার (১৪ হাজার ৯৯৬ জন) ডেঙ্গু রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) মিটফোর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০০ শয্যার একটি নতুন ওয়ার্ড উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে চিকিৎসারত ডেঙ্গু রোগীদের খোঁজখবর নিতে দলবল নিয়ে উপস্থিত হন তিনি।

এ সময় মহিলা ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের মশারি তুলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে দেখা যায় মন্ত্রীকে। চলে ফটোসেশনও। রোগীর স্বজনরা মুখে কিছু না বললেও তাদের চেহারায় এ সময় বিরক্তির ছাপ লক্ষ্য ছিল।

স্যার সলিমুল্ল্যাহ্ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ১০০ শয্যার চারটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড উদ্বোধন করতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক। তিনি ওয়ার্ডগুলোতে গেলে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মী ও নার্সরা মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে হইহুল্লোর শুরু হয়।

পৌনে ১১টায় মিটফোর্ডের পঞ্চম তলায় উঠে মন্ত্রী প্রথমে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ওয়ার্ড (ইউনিট ১+৫) উদ্বোধনের ফিতা কাটেন। এরপর সেই ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন।

তার সঙ্গে ওয়ার্ডে ঢোকেন প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী। ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিম ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ার্ড উদ্বোধনের পর মন্ত্রী পুরুষ ওয়ার্ডে যান। সেখানে এক যুবক রোগীকে দেখে মন্ত্রী বলেন, ‘ইয়াং ম্যান, তোমার আবার ডেঙ্গু হলো কীভাবে?’ আরেক বয়স্ক রোগীকে দেখে তিনি বলেন, ‘কী খবর, ব্যাথা কমছে? কোনো সমস্যা নাই। চিকিৎসা নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না…।’

পুরুষ ওয়ার্ড ঘুরে রোগী মহিলা ওয়ার্ড-এ যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই ওয়ার্ডে পুরুষদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকলেও মন্ত্রীর সঙ্গে অসংখ্য পুরুষ নেতাকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক হাজির হন। হঠাৎ ওয়ার্ডে পুরুষ দেখে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন মশারির ভেতরে থাকা নারী রোগীরা। এ সময় অনেক রোগীকে তার স্বজনরা চাদর দিয়ে ঢেকে দেন।

আনুমানিক তিন মিনিট মহিলা ওয়ার্ডে অবস্থানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে চলে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। দ্রুতই এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে শুধু চিকিৎসা সেবাই দেয়া হচ্ছে না মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। ২৯ জনের চিকিৎসক টিম সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পরিদর্শন করছেন। কাজ করছেন জেলা সিভিল সার্জনরা। ডেঙ্গু রোগের ওষুধ আনা হচ্ছে।

এ ছাড়া ঈদুল আযহার সময় সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে ডেঙ্গু দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

}