,

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধের খবরে আতঙ্ক

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :

সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। গতকাল রোববার ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক আদেশে এই রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে বলে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এ খবরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ের মধ্যেই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ১৫ দিন আগে ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার একদিন পর বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে যায়। এবার দেশটি পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করায় দেশে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ বিষয়ক মুখপাত্র সীতাংশু কর জানিয়েছেন, রপ্তানি নীতির সংশোধন করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানিতে এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত মূলত বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পেঁয়াজ রপ্তানি করে থাকে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটি ৪৯৬ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পেঁয়াজ রপ্তানি করে। কিন্তু চলতি বছরে বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় পেঁয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই এ বছর ভারতের বাজারেও পেঁয়াজের মূল্য বেশ চড়া।

ভারতের ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, দেশটিতে এরই মধ্যে পেঁয়াজের কেজি ৮০ রুপিতে উঠেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার রান্নার জন্য অতি প্রয়োজনীয় এ উপাদানটির রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ। কিন্তু সমপ্রতি ভারতের বেশকিছু শহরে সবজির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। উৎপাদন কম এবং বছরের শেষে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন। তাই ভোগ্যপণ্য বিষয়ে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

গত জুনে ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলে সরকার তখন রপ্তানি ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেয়। মূলত আগের বছরের মজুদ থেকে এ বছরে পেঁয়াজ সরবরাহের পরিমাণ হ্রাস ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বপনে বিলম্ব হওয়ায় এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশটি।

ভারতের বেশকিছু রাজ্যে চলতি বছরে দ্বিতীয় দফায় টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় অনেক আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় পেঁয়াজের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হয়নি। ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ করেছিলেন তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। আগামী অক্টোবরের শেষে নতুন ফসল ওঠা পর্যন্ত এ সংকট থাকবে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।

এর আগে চলতি মাসের ১৩ তারিখ ভারতে কাঁচা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ সংস্থা ন্যাপিড প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজ রপ্তানিতে মূল্য নির্ধারণ করে দেয় ৮৫০ মার্কিন ডলার। অথচ এর একদিন আগেও ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলারে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। ভারতের ঘোষণার পরদিন থেকেই দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এতে করে ক্রেতাদের পাশাপাশি আমদানি কারকরাও বিপাকে পড়েন।

বর্তমানে দেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকায় উঠেছে। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করে ভারত থেকে। তাই তারা পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। এবার দেশটি রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় দাম আরও বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিকল্প উৎস হিসেবে মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেগুলো দেশে পৌঁছাতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে আসতে শুরু করেছে।

ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার পর দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু বিকল্প উৎস থেকে এরই মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু রোববার ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে যে, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে। তবে এটা নিয়ে বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরই মধ্যে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ এসেছে। মিসর ও তুরস্ক থেকেও কয়েকদিনের মধ্যেই পেঁয়াজ চলে আসবে। তখন দাম আরও কমে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আমাদের দেশে অন্তত দুই-তিন মাসের পেঁয়াজ মজুদ আছে। আর যেহেতু এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে, সেক্ষেত্রে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা তো সুযোগ সন্ধানী। তারা অতি মুনাফার লোভে কোনো ছুতো পেলেই দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকার চাইলে বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) খোলাবাজারে ট্রাকে করে রাজধানীর ১৬টি স্থানে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। ভারত থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয় ১১ লাখ ৩৬ হাজার টন। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ১০ লাখ টন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« আগষ্ট   অক্টোবর »
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
}