,

সরকারের এত উন্নয়ন, এত অর্জন সব ভেস্তে যাচ্ছে

……..মো. আলী হোসেন :

সরকারের এত উন্নয়ন, এত অর্জন সব ভেস্তে যাচ্ছে দলীয় কিছু নেতা-কর্মীর অপকর্মের কারণে। বিগত দশ বছরে একদিকে যেমন কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়েছে, তেমনি উন্নয়নের নামে কিছু কিছু খাতে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লোপাট হয়েছে। যা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে এসব খাতের দুর্নীতির খবর। পর্দা কেলেংকারী, বালিশ ও বালিশের কভার কেলেংকারী যার অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতি না হলে উন্নয়ন আরো ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হতো।

অন্যদিকে সরকার প্রধানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে। সেভাবে সরকারের অন্যান্য ব্যক্তিদের আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, হিসাবে দেখা যাচ্ছে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি হলে বা অচলাবস্থা দেখা দিলে সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বুত পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। তাহলে সবকিছু যদি প্রধানমন্ত্রীকেই দেখভাল করতে হয়, অন্যরা তাহলে কী দায়িত্ব পালন করছেন?

অতি সম্প্রতি দলীয় ওয়ার্কিং কমিটির এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু আমার একার ইমেজ দিয়ে দেশ এবং দল চলতে পারে না। আপনারা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের ক্লিন ইমেজ তৈরী করুন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথাটি কতটা গভীর থেকে বলেছেন তা অনুধাবন করার মত বর্তমানে দলের মধ্যে সেরকম নেতা-কর্মীর যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় ছাত্রলীগের ১১ নেতা-কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বুয়েটের সিসিটিভি ক্যামেরায় ওইসব অভিযুক্তদের জড়িত থাকার ফুটেজ হাতে পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিমধ্যে সংগ্রহিত এসব ফুটেজ ইউটিউবের মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার খবরও এসেছে গণমাধ্যমে। উদ্বুত পরিস্থিতিতে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ এবং খুনিদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। আশাব্যঞ্জক খবর হচ্ছে-প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্যতম খুনিদের অনেককে গ্রেপ্তার করতে পেরেছেন।

কথা হচ্ছে-ভারত সফররত থাকা অবস্থায় দায়িত্বশীল মন্ত্রী বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কেন বুয়েটের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে দেরি হলো? বুধবার বিকালে জাতিসংঘে ও ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষ চাইলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে পারে। এ সময় খুনি যেই হোক তাদেরকে ক্ষমা করা হবেনা বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে গণমাধ্যমও সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযান, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ভারতের সাথে দ্বি-পাক্ষিক সমস্যা, রোহিঙ্গা প্রত্যাব্যাসন ইস্যু, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিদের পদত্যাগ নিয়ে আন্দোলন এবং বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি সমসাময়িক বিষয়ে ব্যাপক খবর প্রচার হচ্ছে গণমাধ্যমে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই নেতার পদত্যাগ অন্যতম ইস্যু ছিল।

বাংলাদেশের এবং এশিয়া মহাদেশের ইতিহাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির একটি গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে। যে ছাত্রলীগ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই ছাত্রলীগ আজকে জনতার কাঠগড়ায় কেন? হাজারো অভিযোগে আজকের ছাত্রলীগ ক্ষতবিক্ষত। মাঠের রাজনীতিতে আজকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্ররা নেই। অছাত্র, বিবাহিত, চাঁদাবাজ এবং টেন্ডারবাজ নেতৃত্বের কারণে আজকে অনেক মেধাবী ছাত্র বা প্রকৃত ছাত্ররা ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গোয়েন্দাদের একেরপর এক অভিযোগের কারণে আজকে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগসহ নিজদলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। চলমান এই অভিযান ভবিষ্যতে কতটা সফলতা বয়ে আনবে, তা সময়ই বলে দিবে।

আজকে দেখা যাচ্ছে সব ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। তিনি হস্তক্ষেপ না করলে যেন সেটা সমাধান হচ্ছে না। তাহলে এত মন্ত্রী, এমপি, জেলায়-উপজেলায় দলের নেতারা কী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাজ কী শুধু সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে কমিশন খাওয়া? দলের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম বা দলীয় কোন্দল নিরসনে এসব নেতাদের ভূমিকা কী? ছাত্রলীগের কমিটি বিনিময়ে টাকার লেনদেন কোনো ভাবেই প্রত্যাশা করা যায় না। এই অসমবিনিময়ের কারণে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব পাচ্ছে অছাত্র, বিবাহিত বা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। জেলার দায়িত্বশীল এমপি, মন্ত্রী বা দলের নেতারা এসবের দায় এড়াতে পারে না।

দলের অভ্যন্তরে এমনও অভিযোগ রয়েছে-ধান্ধাবাজদের নেতা বানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি-মন্ত্রীরা তদবির করেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের কাছে। কথায় আছে, লাখ টাকার বাগান খায় তিন টাকার ছাগলে। একটি সংগঠনের নেতৃত্বের যোগ্যতা যদি এমনই হয়, তাহলে তাদেরকে দিয়ে কখনও ভালো সংগঠন গড়ে তোলা আশা করা যায় না।

এসব অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী ও অছাত্র নেতৃত্ব ঠেকাতে জেলা পর্যায়ের নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সবকিছু দলের প্রধান বা সরকার প্রধান শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে থাকলে কখনও কাঙ্খিত ফলাফল আশা করা যায় না। কারণ, সরকার প্রধান নিজেই বলেছেন শুধু আমার একার ইমেজ দিয়ে দল এবং সরকার চলতে পারে না।

..মো. আলী হোসেন, সাংবাদিক ও লেখক (ahossain640@gmail.com)

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

}