,

ছিন্নমূল মানুষের জন্য কক্সবাজারে নির্মাণ হচ্ছে ২০টি বহুতল ভবন

আকাশবার্তা ডেস্ক :

কক্সবাজারের ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো বহুতল ২০টি ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। যাতে করে দরিদ্র ও অবৈধ পেশায় জড়িত জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে এনে উন্নত স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে জীবন-যাপন ফেরানো যায়। খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। কক্সবাজার জেলার খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিতব্য বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট উপকারভোগীদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করার জন্য ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের যুবক সম্প্রদায় ও ছিন্নমূল মানুষ ইয়াবা ব্যবসার সাথে নানাভাবে জড়িয়ে আছে। মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে স্থল ও নৌপথে এ ইয়াবা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকে থাকে। এদের অবৈধ ব্যবসা থেকে ফিরিয়ে আনতে অবশ্যই আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২০টি বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এ প্রকল্পের আওতায় আপাতত ১৮টি সমাপ্তকৃত বহুতল ভবনে ৫৭৬টি পরিবারকে পুনর্বাসনে তালিকা চূড়ান্ত করতে কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।

১২ সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছে, তার সভাপতি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান। কমিটির কার্যপরিধি হচ্ছে পুনর্বাসনযোগ্য পরিবারের পুনর্বাসন শর্ত নির্ধারণ করা। প্রকল্পের ২০টি ভবন নির্মাণ শেষে হস্তান্তর বা বুঝিয়ে দেয়ার কাজ নির্ধারণ করা। প্রকল্পের ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষও নির্ধারণ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এ কমিটি।

কমিটির কার্যপরিধিতে আরো বলা হয়েছে, নামমাত্র মূল্যে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ এবং নির্ধারিত মাসিক ভাড়া উপকারভোগীদের কাছ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হবে, তা কোথায় জমা হবে এবং এ সংক্রান্ত হিসাব কে সংরক্ষণ করবে তা নির্ধারণ।

১৩৯টি বিল্ডিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, উপকারভোগীদের আয়বর্ধন কার্যক্রম কিভাবে পরিচালত হবে তা নির্ধারণ। প্রাথমিকভাবে সমাপ্তকৃত ১৮টি ভবনে ৫৭৬টি পরিবারকে পুনর্বাসনে তালিকা চূড়ান্তকরণ । প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা রক্ষার্থে পুলিশিং ব্যবস্থা কেমন হবে তা নির্ধারণ করবে এ কমিটি।

জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ফ্ল্যাট বরাদ্দ প্রদান ও ব্যবস্থাপনা কমিটি করা যায় কি-না তা নির্ধারণ করা। প্রধানমন্ত্রীর সদয় নির্দেশনা মোতাবেক উপকারভোগীদের কাকে কত বছর পর মালিকানা দেয়া হবে তা নির্ধারণ করা। কোনো অবস্থাতেই উপকারভোগীরা বরাদ্দপ্রাপ্ত ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না মর্মে একটি অনুচ্ছেদ সংযুক্তকরণ।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়াদের জন্য কক্সবাজারে নির্মাণাধীন দেশের সবচেয় বড় খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাঁচতলা বিশিষ্ট ১৩৯টি ভবনের মধ্যে ১০টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আরও ১০টি ভবনের কাজ চলমান, যা শিগগিরই শেষ হবে।

গত সেপ্টেম্বরে সংসদ ভবনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রকল্প পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মাহফুজ আলম বৈঠকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওপর পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যম এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বৈঠকে মো. মাহফুজ আলম বলেন, অনুমোদিত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি চার হাজার ৪৪৮টি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প’ নামে গ্রহণপূর্বক এককভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্র জানায়, এরপর কমিটির সদস্য মো. মোতাহার হোসেন বলেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য দেশের অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সেনাবাহিনী সব কাজ যেভাবে সুনামের সঙ্গে করছে, এখানেও যেন তা থাকে। ব্যয়বহুল এই নির্মাণকাজের জন্য কাজের মান ঠিক রেখে পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তাসহ প্রকল্পের সব কাজ সেনাবাহিনীকে সম্পন্ন করার অনুরোধ করেন তিনি।

তবে তিনি বিশাল এই প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেন। বৈঠকে বহুতল ভবনের কাজের কিছু অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পানির ব্যবস্থা, রাস্তা, বিদ্যুৎ ইত্যাদি সমাধান নিশ্চিত করতে না পেরে ভবন তৈরি করা হচ্ছে, যা আদৌ সেখানে বসবাস উপযোগী করা যাবে কি-না সন্দেহ।

স্কুল, বিদ্যুৎ, পানি, রাস্তা নির্মাণ— এগুলো আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে। এতে করে বোঝা যায়, এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। উপস্থাপনায় যেটা বোঝা গেলো, ১০ কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনার ব্যবস্থা হচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে। বৈঠকে আরো আলোচনা হয়েছে, ভবন ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি হয়ে গেছে, কিন্তু অন্যান্য সুবিধা কবে হবে জানা নেই।

একসময় দেখা যাবে, নির্মিত ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের ব্যবস্থাকরণসহ প্রকল্পের সব কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে করানোর অনুরোধ জানান তিনি।

জানা যায়, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে উদ্বাস্তু হয় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। যাদের মধ্যে অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নেয় কক্সবাজার বিমানবন্দর সংলগ্ন নাজিরারটেক, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায়।

কিন্তু বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আশপাশের সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে বাঁকখালী নদীর পাশে প্রায় ২৫৪ একর জমিতে নেয়া হয় জেলার খুরুশকুল উপজেলায় বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্যোগ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« অক্টোবর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
}