,

ঝাঁজ কমছে পেঁয়াজের

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :

অবশেষে ঝাঁজ কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের। খুচরা পর্যায়ে বাজারভেদে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। সেই সঙ্গে রাজধানীতে নিম্নমুখী সবজি-মাছ-মুরগি-ডিমের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। গত প্রায় চার মাস ধরেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি রয়েছে। গত সপ্তাহে তা সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা কেজিতে উঠে যায়। কিন্তু গতকাল শুক্রবার তা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বাজারভেদে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি আমদানি করা ভারতীয় (বড়) পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। তাই খুচরাতেও দাম কমছে। নতুন করে আদমানি করা পেঁয়াজ দেশের বাজারে এলে দাম ১০০ টাকার নিচে নামবে। আর নতুন পেঁয়াজ উঠলেই আগের দামে ফিরে যাবে পেঁয়াজ। তবে দাম কিছুটা কমলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

তারা বলছেন, একটি সিন্ডিকেট কারসাজি করেই পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়টি তারা অজুহাত হিসেবে সামনে এনে জনগণের পকেট কেটে ফায়দা লুটছে। অবশ্য তাদের এ দাবির পেছনেও যুক্তি রয়েছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট কারসাজির প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামে। সেখানে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর জন্য দণ্ডও দেয়া হয়।

এদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও মসলা জাতীয় অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি দেশি রসুন বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। চায়না রসুন ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ টাকা, চায়না আদা ১৬০ টাকা, প্রতিকেজি কাঁচা আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এদিকে, বাজারে সবধরনের সবজির দামও কমেছে। অধিকাংশ সবজির দামই কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বিভিন্ন বাজারে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ও উসতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটোল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

এছাড়া আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহের মতো চলতি সপ্তাহেও মাছের বাজারে রাজত্ব করছে ইলিশ। বড় সাইজের ইলিশে সয়লাব বাজার। আর দামও বেশ কম বলে জানান বিক্রেতারা। বাজারে এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। এর বাইরে শিং মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বাগদা ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। দাম কমেছে মুরগি ও ডিমের। বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, লাল লেয়ার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ফার্মের ডিম প্রতিডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু, মহিষ ও খাসির মাংসের দাম।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« অক্টোবর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
}