,

তাড়াতাড়ি কেন বিয়ে করছেন জানালেন মিয়া খলিফা

বিনোদন ডেস্ক :

পর্নস্টার মিয়া খলিফা। তবে বেশ কয়েক বছর আগে এই পেশা ছেড়ে দিলেও সারাবিশ্ব তাকে এই নামেই চিনেন। এবার এই পরিচিতি পাকাপাকিভাবে ছেড়ে দিয়ে নতুন পরিচয় নিয়ে বাঁচতে চান তিনি।

জানা গেছে, শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন তিনি। আগামী বছরের শুরুতে বিয়ে সেরে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আর এই ঘোষণা দিতেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে গুঞ্জন ছিল। তবে এখন শোনা যাচ্ছে মিয়ারই নাকি বিয়ের করার জন্যে তাড়া লেগে গেছে। আর সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বয়ফ্রেন্ড রবার্ট স্যান্ডবার্গের সঙ্গেই বিয়ে হতে যাচ্ছে তাঁর। যদিও এভাবে বিয়ে করার জন্যে কেন এত তাড়াতাড়ি তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

এ বিষয়ে নেটিজেনদের প্রশ্ন, তাহলে কী সুখবর দিতে চলেছেন মিয়া খালিফা? যদিও তাঁর অনুরাগীদের এহেন প্রশ্নবানে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন মিয়া।

নিজেই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে বলছেন, না, আমি মোটেও অন্তঃস্বত্ত্বা নই ৷ শুধুমাত্র হবু বরের ক্যারিয়ারের টাইমিং অনুযায়ী পুরো পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে লিবিয়ায় জন্ম মিয়া খলিফা ২০০১ সাল থেকে আমেরিকার বাসিন্দা। ২০১৪-র শেষেরদিকে পর্নো ইন্ডাস্ট্রিতে খুব অল্পসময়ের জন্য (তিনমাস) কাজ করেছেন তিনি। মিয়ার কথায়, আত্মসম্মানের খাতিরেই এই পেশা বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ছোটবেলা আমার ওজনের জন্য ভুগেছি এবং নিজেকে কখনও পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের যোগ্য বলে মনে হতনা এবং হঠাৎ করেই কলেজের প্রথমবর্ষে ওজন কমাতে শুরু করি। কিছু পরিবর্তনও করি এবং কলেজ পাশ করার সঙ্গে সঙ্গে একটা বিশাল পার্থক্য আসে। প্রথমবারের জন্য সেই বৈধতা, সেই প্রশংসা পেতে শুরু করি-যেটা আমি যেতে দিতে চাইনি।

কিন্তু মিয়া যেভাবে চেয়েছিল জীবন সেইভাবে চলেনি। হিজাব পরে তাঁর সেক্সুয়াল ভিডিও পর্নসাইটে ছড়িয়ে যায়। রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। মধ্য-প্রাচ্যের দেশগুলিতে নিন্দার ঝড় ওঠে। এমনকী আইএসআইএস-এর থেকে হুমকিও পান মিয়া। এই একটি দৃশ্য পেশা থেকে বেরিয়ে আসার পরও পিছু ছাড়েনি।

ইউটিউবার মেগান অ্যাবটের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মিয়া বলেন, হিজাব সিন করার পরেই আমার জীবনে পরিবর্তন আসে। আইএসআইএসের কাছ থেকে খুনের হুমকিও পান। কেবমাত্র আমেরিকা নয়, বিশ্বের সব জায়গায় খবর ছড়িয়ে যায়। টুইটারে ট্রেন্ডিং, খবরে সর্বত্র।

মিয়া বলেন, মিশর, আফগানিস্তানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে নিষিদ্ধ করা হয় আমাকে। আসলে মুসলিম দেশগুলি ভীষণ বিরক্ত হয়েছিল এবং আমি ক্যাথলিক। ফলে আমার কাছে বিষয়টি ছিল, হ্যাঁ, এটা খারাপ। কিন্তু তারা যেটা বলতে চাইছিলেন, যে দৃশ্যটা শুট করে আক্ষরিক অর্থের পাপ করেছ। তারপরেই প্রাণে মারার হুমকি।

বিশ্ব জুড়ে মিয়ার ভিডিও জনপ্রিয় হচ্ছিল এবং দুনিয়ার তাঁর প্রতি আকর্ষিত হওয়াটাই মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আমি আইএসআইএসের হুমকিতে আতঙ্কিত ছিলাম না। কিন্তু ভয়ে বাঁচতে চাইছিলাম না। লজ্জায় বাঁচার থেকে বেশি খারাপ ছিল”, ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছিলেন মিয়া।

সবকিছু ছেড়ে প্রাক্তন এই পর্ন তারকা জানিয়েছেন কেবল ১২০০০ ডলার তিনি আয় করেছেন পর্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে। টুইটারেও একথাও জানান তিনি।

মিয়া লেখেন, মানুষ ভাবে আমি প্রচুর টাকা এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে উপার্জন করেছি। তা কিন্তু সত্যি নয়। তবে খারাপটা হয়েছিল ইন্ডাস্ট্রি থেকে বেরিয়ে আসার পর, পর্ন ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার পর কোথাও চাকরি পাওয়া মুশকিল হয়েছিল।  

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

}