,

ওবায়দুলকে ফখরুল, ‘আপনিও চালান আমিও চালাই’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের কাজে নামুন।

তিনি বলেছেন, গতকাল খুব দুঃখ করে ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, যদি ফখরুল ইসলাম নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন, তাহলে আমি পারবো না কেন। ১০০ বার পারবেন। এ মুহূর্তে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করুন। আসুন একসঙ্গে নির্বাচন করি। আইন তো তাই বলে।

আইন বলে আপনি মন্ত্রী বা এমপি থাকলে নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তাই আপনি মন্ত্রিত্ব এবং এমপিত্ব ছেড়ে দিয়ে আসুন। আপনি নৌকার জন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালান আর আমি ধানের শীষের প্রচারণা চালাই। দেখা যাক জনগণ কোন দিকে থাকে।

আজকে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে পারি, ক্ষমতা থেকে নেমে এসে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তিন বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আজ গণতন্ত্রের জন্য কারাবরণ করে আছেন। তাকে বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখা হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে, আদালত তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার দেশের সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে দখল করার পাশাপাশি বিচার বিভাগকে দখল করে নিয়েছে।

বারবার বলেছি, এখনও বলছি, খালেদা জিয়াকে যে আইনের ধারায় আটক করে রাখা হয়েছে, সেই আইনের ধারায় অনেক মানুষকেই আপনারা জামিন দিয়েছেন। আমার বিচার বিভাগের কাছে প্রশ্ন- মানুষ সব জায়গায় নির্যাতিত-নিপীড়িত হলে সর্বশেষ বিচার বিভাগের কাছে যায়, যাতে তারা আশ্রয় পায়। কিন্তু সেই জায়গা থেকে একটা মানুষের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। যিনি কিনা দেশের ১৬ কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেত্রী।

ফখরুল বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রকে পুরোপুরি সমাহিত করা হয়েছে। আজকে আপনারা উৎসব পালন করছেন খুব ভালো কথা। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আপনারা উৎসব পালন করছেন। এই উৎসবে এদেশের মানুষের হৃদয় কতটা থাকবে, সেটাই দেখার বিষয়। এদেশের মানুষকে অসুস্থ রেখে তাদের এ উৎসব কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেটা এখন ভেবে দেখতে হবে।

‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া এতটা অসুস্থ নন যে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে। এই কথা আমরা আপনার কাছ থেকে আশা করি না। আশা করি দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার জন্য সঠিক কথা বলবেন। খালেদা জিয়ার জামিন এখন আদালতের কাছে বহাল নেই। এখন আপনাদের কোর্টে বহাল। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য সব দায়-দায়িত্ব আপনাদের। খালেদা জিয়ার যদি কোনো ক্ষতি হয় তাহলে এর সব দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। এভাবে জোর করে, দখল করে, নির্যাতন করে দাবিয়ে রেখে, ঘুম খুন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। আমি আপনাদের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

তিনি বলেছিলেন, বাংলার মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। এখনও বলতে চাই, দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বাংলার মানুষকে কখনই দাবিয়ে রাখা যায়নি। নির্বাচন দিচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন খেলা করছেন সেটা আমরা জানি। তারপরও আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। কারণ সেটা খুব পরিষ্কার করে বলেছি, আমরা দেশে গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম দেশনেত্রীর মুক্তি সংগ্রামের একটা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনটাকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছি।

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল অমিন গাজী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ডিসেম্বর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
}