,

নৌকা-ধানে ভোটের উৎসব

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ঢাকার দুই নগরে ভোটের উৎসব। নৌকা প্রতীকে নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আর প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল ধানের শীষ প্রতীকে। দু’দলই জয়ের স্বপ্নে প্রতিযোগিতা নিয়ে মাঠে নামায় রাজধানীজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল প্রতীক পেয়েই ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপস ডেমরায় প্রথম পথসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন।

অন্যদিকে, বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করে লিফলেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামেন ইশরাক হোসেন। একইভাবে ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম জুমার নামাজ আদায় করে উত্তরায় নির্বাচনি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে প্রচারণা শুরু করেন।

অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে জুমার নামাজ আদায় করে প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারণার শুরুর দিনই আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সাথে দলের হেভিওয়েট কোনো ব্যক্তিকে প্রচারণায় দেখা যায়নি। প্রচারণায় নির্বাচন কমিশন থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কেউ অংশ নিতে পারেননি বলে জানান দলটির নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, ভিন্ন চিত্র ছিলো বিএনপির ক্ষেত্রে। প্রধান দুই প্রার্থীর সঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের দেখা গেছে। গণসংযোগে লোক উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো।

প্রতীক পেয়ে পথসভার মধ্য দিয়ে গণসংযোগ ও নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপস। তিনি গতকাল ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউনের ই-হক স্কুলের সামনে পথসভায় প্রচার শুরু করেন।

নিজের নির্বাচনি প্রচারণায় জনগণের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩০ জানুয়ারি বিজয় সুনিশ্চিত করে প্রাণপ্রিয় ঢাকাকে ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা গড়বো।

সেই উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে আজ থেকে আমার যাত্রা শুরু। এসময় জনগণের কাছে ভোট ও দোয়া প্রত্যাশা করে তাপস বলেন, ‘আপামর জনগণ সেবক হিসেবে নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়ে একসাথে এই যাত্রায় শরিক হবেন।

দোয়া করবেন, সমর্থন করবেন।’ এ সময় কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ৭০ নং ওয়ার্ডের আতিকুর রহমান, ৬৯ ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান হাসু এবং সংরক্ষিত আসনে সেলিনা খানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হিসেবে প্রচারণায় আলাদাভাবে দৃষ্টি কাড়েন তাপস। এসময় তাপস দোয়া চেয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন ও নৌকার লিফলেট দিয়ে ভোট চান।

এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, ডেমরা থানার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সজল ও স্থানীয় সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা তাপসের সঙ্গে ছিলেন।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন ধানের শীষের প্রতীক পেয়েই প্রয়াত অবিভক্ত ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কবর জিয়ার করে গতকাল বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করে দক্ষিণ গেট থেকে প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

এসময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনীত বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। আজকের এই নির্বাচনকে আমরা গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য, দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য, এই নির্বাচনকে আমরা একটা আন্দোলন হিসেবে নিয়েছি। আজ থেকে আমাদের নতুনভাবে আন্দোলন শুরু হলো।

এই আন্দোলন হচ্ছে— জনগণকে মুক্ত করার আন্দোলন। এই আন্দোলন হচ্ছে— খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন, দেশের মানুষকে মুক্ত করার আন্দোলন।’ এ সময় মির্জা ফখরুল স্লোগান তুলে বলেন, ‘আমাদের মার্কা কি— ধানের শীষ, ধানের শীষ’।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি, আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

আমরা যে আন্দোলন-সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছি, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মা! সেই মায়ের মুক্তির আন্দোলনে, গণতন্ত্রের মুক্তি আন্দোলন আমরা অবতীর্ণ হয়েছি, তাই আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। ধানের শীষে ভোট দেবেন। ইনশাআল্লাহ, আমাদের বিজয় আসবে।’

এর আগে ইশরাক হোসেন ধানের শীর্ষ প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে জুরাইনে বাবা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার কবর জিয়ারত করেন। সকালে রাজধানীর গোপীবাগ রোডের সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের ডিএসসিসির রিটার্নিং অফিসের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ধানের শীর্ষ প্রতীক বরাদ্দ নেন।

এসময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি মেরুদণ্ডহীন, দন্তহীন বাঘের ভূমিকায় রয়েছে। তিন দিন আগেও তাদেরকে আমি একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমার যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী, তার নামে বহু রঙিন পোস্টারে ঢাকার দক্ষিণ সয়লাভ হয়ে গেছে। আমরা প্রমাণসহ একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম। তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। আজকের দিনটি আমার জন্য অবশ্যই গর্বের। আমার জীবনের স্মরণীয় দিন। আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলে অবশ্যই আমার জন্য গর্ববোধ করতেন।’

গতকাল শুক্রবার উত্তরা ৪ নং সেক্টর এলাকা থেকে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকের প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম। ভোটের প্রচারণায় তিনি অংশগ্রহণ করে বলেন, ‘আপনার দেখেছেন, নির্বাচনি প্রচারে এমপি বা মন্ত্রীদের অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমার কথা হচ্ছে, আজ যারা এমপি আছেন, তারাও তো দলের সদস্য। তাদেরও তো ইচ্ছা করে আমার সঙ্গে প্রচারে নামাতে।’

প্রতিপক্ষ বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মওদুদ আহমদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আতিকুল বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো, অন্ততপক্ষে যারা এমপি আছেন, তারা যেন আমাদের সঙ্গে মাঠে নেমে কাজ করতে পারেন।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য এই বাধাটুকু যেন না থাকে।’ প্রতিপক্ষকে কীভাবে দেখছেন? এ প্রশ্নের জবাবে আতিকুল বলেন, ‘আমাদের চাচা-ভাতিজা সম্পর্ক। প্রতিপক্ষের বাবা একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। যেকোনো প্রতিপক্ষকেই আমরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলে মনে করি। কাউকেই ছোট করে দেখবো না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সিটি নির্বাচনে শুধু মেয়র প্রার্থী নয়, প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। বিগত দিনে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে আজ থেকে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, মহানগরের দুই অংশের মূল দল এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মূলত মুজিববর্ষের অংশ হিসেবে আসন্ন ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনে কোনোভাবেই হারা যাবে না, এমন পরিকল্পনা সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে মাঠে নামতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, ভোটের প্রচারণায় প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে পৌঁছাতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নেত্রীর এমন নির্দেশনা এবং দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা। এদিকে রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে ১ নং রোডের মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা শুরু করেন তাবিথ আউয়াল।

এসময় তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করা কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব। তারা যদি জনগণের আওয়াজ শুনতে পান, তাহলে অবশ্যই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছি। ঢাকাকে বাঁচাতে আমাদের সকল পরিকল্পনা শুরু করতে হবে। আধুনিক ঢাকা গড়তে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে ভোটাররা দুর্নীতি অপশাসন ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা এর জবাব চান, বিচার চান। সেই বিচার আমরা জনগণকে সঙ্গে করবো। ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমরা ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।’

এসময় তাবিথের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাইস চেয়ারপারসন আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক জিলানী মিল্টন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল নেতাকর্মী।

আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও কাস্তে প্রতীক নিয়ে সিপিবির আহম্মেদ সাজেদুল হক রুবেল, লাঙ্গল নিয়ে জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, হাতপাখা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও আব্দুর রহমান, আম প্রতীক নিয়ে এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান ও বাহারানে সুলতান বাহার, বাঘ প্রতীকে পিডিপির শাহীন খান, মাছ নিয়ে গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ নির্বাচন করছেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ডিসেম্বর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
}