,

পিতার ত্যাগে পুত্র প্রিয়

আকাশবার্তা ডেস্ক :

নগর ভোটে সবার চোখ ঢাকা দক্ষিণে। রাজনীতিবিদ থেকে সচেতন মহল সবার মাঝে দক্ষিণ সিটি নিয়ে নানা হিসাব। প্রভাবশালী দুই প্রার্থীই প্রয়াত বাবার ত্যাগের কারণে সমান তালে সাড়া পাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে প্রার্থীরা দোয়া চাওয়া মাত্র সবাই তার বাবার অতীত অর্জন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।

এ সিটিতে নৌকা-ধানের শীষ প্রতীকের চাইতেও রাজনীতিবিদের ভূমিকা ও অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান ভোটাররা। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রধান দুই প্রার্থী স্থানীয় হওয়ায় পিতৃতান্ত্রিক প্রভাবকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রার্থীরাও সর্বশক্তি প্রয়োগ করছেন।

ঢাকা দক্ষিণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন শেখ ফজলে নূর তাপস আর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত লড়াই করছেন। ফজলে নূর ঐতিহাসিক শেখ পরিবারের সদস্য। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিববাহিনীর অধিনায়ক ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ও মা বেগম আরজু মনি শাহাদাৎ বরণ করেন। লাল-সবুজের দেশে তার বাবা আজীবন অনন্য শিখরে থাকবেন। অন্যদিকে ইশরাক হোসেনের বাবা সাদেক হোসেন খোকা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক সকল পন্থিদের মাঝে কাজের কারণে জনপ্রিয় ছিলেন।

একজন সাদেক হোসেন খোকার কারণে পুরান ঢাকায় বিএনপির দুর্গ গড়ে উঠেছিল। তার শেষ বিদায়ে পুরো ঢাকাবাসী জানাজায় অংশগ্রহণ করে স্মরণ করেছেন। এই দুই প্রার্থী এবার ভোটের মাঠে লড়াইয়ে নামায় শুধু ঢাকা নয়, পুরো দেশের জনগণ বিশেষ নজর রাখছেন।

বয়স ও অভিজ্ঞতায় কিছুটা কমতি থাকলেও ইশরাক হোসেন কয়েক দিনেই জনগণের কাছে পৌঁছে গেছেন বলে মনে করছেন অনেকে। ভোট প্রচারের মাঠে নামার পর থেকে তার সঙ্গে শতশত মানুষের ঢল নামছে। তার কথাবার্তা, ভোট চাওয়ার কৌশল সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করছে। বয়স্ক বৃদ্ধা লোকজনকে দেখলেই জড়িতে ধরছেন। ভোটারদের হাত মাথায় তুলে নিয়ে দোয়া চাচ্ছেন।

গণসংযোগ ও দৌড়াদৌড়িও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চাইতে একটু বেশি করতে দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে রয়েছেন বিএনপি সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা। অন্যদিকে ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপি না থাকায় কিছুটা লোক সমাগমের ভাটা দেখা গেছে।

তবে তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নিচ্ছেন। আর তিনিও প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং আগামী ৩০ তারিখ বিজয়ের দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করছেন।

আলোচিত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের রেখে হঠাৎ এই দুই প্রার্থীকে মাঠে নামানোয় রাজনীতিতেও চড়া হিসাব চলছে। আওয়ামী লীগ সাঈদ খোকনকে বাদ দিয়ে শেষ সময়ে ফজলে নূর তাপসকে আর বিএনপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে রেখে ইশরাক হোসেনকেই মনোনীত করায় রাজনীতির ঘুঁটি জমে উঠেছে বলে ভাষ্য সংশ্লিষ্ট মহলের।

অনেকে মনে করছেন, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। তিনি যদিও বয়সে তরুণ, কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার পক্ষে মানুষের মধ্যে আবেগ-ভালোবাসা এখনো কাজ করছে। আর এটিকে আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ইশরাক তার বাবার জনপ্রিয়তা লুফে নেয়ার শঙ্কা করছে আওয়ামী লীগ।

সিটি ভোটের মাত্র অল্প কিছুদিন আগে সাদেক হোসেন খোকা মারা যাওয়ায় খোকার জনপ্রিয়তা এখনো জীবন্ত। ঢাকার বুকে এখনো খোকার উন্নয়নের চিত্র দৃশ্যত রয়েছে। তাই সাঈদ খোকনের চেয়ে শেখ ফজলে নূর তাপসের ক্লিন ইমেজকেই আওয়ামী লীগ প্রাধান্য দিয়েছে। খোকা মারা গেলেও এখনো তার বিশাল বাহিনী ঢাকা দক্ষিণে সক্রিয় রয়েছে। অপরদিকে ক্লিন ইমেজ, কর্মী ও জনবলে তাপস এগিয়ে রয়েছে।

বাবার স্মৃতিচারণ করে ইশরাক হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমার বাবা একটি জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কিডনি ক্যান্সারে। ২০১৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান উন্নত চিকিৎসার জন্য। তিনি জানতেন যে, তিনি মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। এ রোগের অন্তিম পরিণতি কী। তারপরও তিনি যে আশা নিয়ে বেঁচে থাকতেন, একদিন হয়তো তিনি বাংলাদেশে ফেরত যেতে পারবেন। স্বাধীন দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারবেন। এটাই ওনার বেঁচে থাকার মূল আশা ছিলো।

চিকিৎসা নিয়ে কিছুদিন বেঁচে থাকার দীর্ঘ চেষ্টা করেছিলেন। তার একটাই আশা ছিলো, তিনি এ দেশে ফিরে আসবেন, এখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন। যে দেশে উনি অস্ত্র হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। উনি একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

নামকাওয়াস্তে মুক্তিযোদ্ধা নন। ১৯৭১ সালে ওনার তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা অপারেশন ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার পেয়েছে। এর জন্য আমাদের অনেক কষ্ট আছে। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমার বাবাও বিশ্বাস করতেন না। কোনো কারণে অজুহাত বানিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি এটা তিনি পছন্দ করতেন না।

উনি যে কারণে দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেননি, এই কথাটা আমি তরুণ সমাজের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে এই প্রতিহিংসার রাজনীতি নির্মূল করার জন্য। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান চাই। বাবার কথাগুলো বলে যেতে চাই।’

বাবার স্মৃতিচারণ করে ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমার বাবা-মার স্মৃতি বলতে শুধু মেঝেতে পড়ে থাকা নিথর রক্তাক্ত দুটি লাশ। এ ছাড়া আমি আর কিছুই মনে করতে পারি না! এ স্মৃতিগুলো নিয়েই মানুষের সেবা করার প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

এবার নগরে অভিভাবক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে ভোটের মাঠে নেমে তিনি বলেন, ‘উন্নত ঢাকা গড়ার জন্য নৌকা মার্কায় আমা?কে ভোট দেবে জনগণ। অবহেলিত এই শহর উন্নত শহরে পরিণত হবে। এখানকার রাস্তাঘাট, অলিগলি সবকিছুই উন্নত হবে। নগর ভবনের অভিভাবক হিসেবে আমাকে পাঠানো হলে এই নগরীকে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হ?বে। ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর।

ঢাকা আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে। আমাদের উন্নত ঢাকা গড়ার জন্য নৌকার পক্ষে সকলে ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করতে হবে। এই নতুন যাত্রায় আমরা বিশ্বাস করি, নৌকাকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করে ঢাকাকে আধুনিক রূপে পরিণত করার সুযোগ দেবে জনগণ।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ডিসেম্বর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
}