বুধবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ

ইফতার পর্যন্ত বাঁচার আকুতি জানিয়েও রেহাই পেলেন না যুবক

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

‘আমি রোজা রেখেছি, একটু পর ইফতার করবো। বেশি ক্লান্ত লাগছে, ইফতার শেষ করলেই তোমরা আমায় মেরো।’ এমন আকুতি জানিয়েও রেহাই পেলেন না মোরশেদ আলী ওরফে বলী মোরশেদ (৩৮)। ইফতারি কেনার সময় তাকে জনসম্মুখে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর চেরাংঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আর রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিওতে তার মৃত্যু হয়।

তিনি এলাকায় ‘অন্যায়ের প্রতিবাদকারী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মোরশেদ পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার মৃত মাওলানা ওমর আলীর ছেলে।

মোরশেদের ভাই জয়নাল আবেদীন, আইনজীবী জাহেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ভাই মোরশেদ ইফতারি কিনতে চেরাংঘর বাজারে যান। সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা মাহমুদুল হক, জয়নাল, কলিম উল্লাহসহ তাদের গোষ্ঠীর অন্তত ১৫-২০ জন লোক লোহার রড, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মোরশেদের উপর হামলে পড়ে। হঠাৎ হামলা ও রোজায় ক্লান্ত মোরশেদ হতবিহবল হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তখন তিনি (মোরশেদ)- হামলাকারীদের বলছিলেন, সারাদিনের রোজায় বেশি ক্লান্ত- মারতে চাইলে ইফতারের পর মারিও। রোজায় ক্লান্ত, ইফতারের সময় দেওয়ার আকুতিতেও হামলাকারীদের মন গলেনি।

তারা মোরশেদকে মাটিতে ফেলে মধ্যযুগীয় কায়দায় প্রায় ২০মিনিট উপর্যুপরি আঘাতের পর চলে যায়। হামলাকারীরা স্থানীয় ভাবে চিহ্নিত অপরাধী হওয়ায় কেউ তাদের বাঁধা দিতে আসেনি।

পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু মোরশেদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে আইসিওতে স্থানান্তর করার পর সেখানকার চিকিৎসকরা রাত ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোরশেদের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সরকারি একটি সেচ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ইজারা নিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন মোরশেদের পরিবার। সেই সেচ প্রকল্পের পানির স্কিম নিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে মোর্শেদ আলীর বিরোধ চলছিল। হামলাকারীরা চাষিদের ভোটে নির্বাচিত স্কিম পরিচালনাকারীদের পানির পাম্পের পাশে জোরপূর্বক নিজেদের পাম্প বসানো বা চলমান প্রকল্প দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু মোরশেদ তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলে আসছিলো।

এদিকে, কিছুদিনের মধ্যে ওই সেচ প্রকল্প নতুন করে ইজারা হওয়ার কথা রয়েছে। ইজারা পাওয়ার জন্য মোরশেদের পরিবার আবারো আবেদন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে প্রতিপক্ষ।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মাহমুদুল হক মেম্বার, জয়নাল আবেদিন হাজারি, কলিম উল্লাহ, আবদুল মালেকসহ হামলার মূল নির্দেশদাতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা আলাল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আলাল, আবদুল মালেকসহ অন্য অভিযুক্তদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সবার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস বলেন, খবর পেয়ে সদর হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের পৃথক টীম। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০