বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


লক্ষ্মীপুরে ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযানে নেমেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১)। এতে ভুক্তভোগি পরিবারসহ সর্বস্তরের মানুষ এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এর সফলতা কামনা করেছেন। এর ধারাবাহিতায় গত একসপ্তাহ যাবত জেলা শহরসহ বিভিন্নস্থানে সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইউপি চেয়ারম্যানসহ মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীসহ অনন্ত ১৫ জনকে আটক করে জরিমানা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় লাইসেন্সবিহীন মাদক সেবনের দায়ে সাত মাদকসেবীকে আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়। একই সাথে তাদের কাছে অবৈধভাবে মদ বিক্রির দায়ে পাট্টা মালিক কিশোর কুমার দত্তকে ১০ হাজার টাকা ও ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এরআগে বুধবার রাতে শহরের সাহাপুর এলাকা থেকে ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে প্রত্যেকের ৬ মাস করে কারাদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্তরা হলো, মো. মামুন, মো. সুমন, রিয়াজ ও মফিজ উল্লাহ।

এ দিকে গত রোববার রাতে সদর উপজেলার জকসিন বাজারে ব্যক্তিগত নিজ কার্যালয়ে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় লাহারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মুশু পাটোয়ারীকে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

পৃথকভাবে এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. খবিরুল আহসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নরেশ চাকমা, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন।

অপরদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহম্মেদ। এরই অংশ হিসাবে লক্ষ্মীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্সে মাঠে নামে র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের লাগাতার এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মাদকের নির্মম কুফলের শিকার যেসব পরিবার। এমন কয়েকটি পরিবারের অভিভাবকদের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তারা নিজেদের চরম অসহায়ত্বের কথা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিজাত পরিবারের অভিভাবক ক্ষুব্ধ কন্ঠে জানান, তিনি প্রতিদিন তার সন্তানের নেশার টাকা নিজে সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সন্তানের বালিশের নীচে টাকা রেখে আসেন। কারণ যদি টাকা রেখে না আসেন, নাহলে ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে সে। আরেক অভিভাবক জানান, টাকা না দিলে অন্যের বাসা বাড়িতে বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি করতে যায় তার ছেলে। এতে লোকলজ্জার পাশাপাশি পুলিশি জামেলা এড়াতে তিনি বাধ্য হয়ে ছেলেকে নেশার জন্য টাকা দেন।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো. মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এই অভিযান যেন লোক দেখানো না হয়। তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে এর শিকড় থেকে মূল উৎপাটন করতে হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক শেল্টার কারা দেয় তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এই অভিযানে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ কম্বিং অপারেশন চালানোর দাবি জানান তিনি। একই সাথে মাদকের কুফল সম্পর্কে মসজিদে মসজিদে জুম্মার খোদবায় ইমাম সাহেবরা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এই শিক্ষাবিদ।

র‌্যাবের অভিযান সম্পর্কে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন হাওলাদার বলেন, পেশাগত অবস্থান থেকে আমি সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, একটি সমাজের জন্য ইয়াবা একটি মরণঘাতি নেশা। ইয়াবাসহ সকল মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে কোনো অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে সব সময় সোচ্চার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলী হোসেন বলেন, সমাজের সব শিশু, তরুণ ও যুবকরা যেন ভালো থাকে। তাই আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ এই সমাজ এই দেশ আমাদের। এই দেশের শিশু, তরুণ ও যুবকরা যদি মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। তাহলে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তিও ধ্বংস হয়ে যাবে।

এএইচ/এবি

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০