বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

ফেসবুকে ব্যাহত পড়ালেখা

আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রযুক্তির কল্যাণে সারাবিশ্ব যেভাবে এগিয়ে চলছে এদিক থেকে আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোও পিছিয়ে নেই। তবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এ প্রযুক্তির কল্যাণে এক ভয়ঙ্কর নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। আর তা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। দেখাগেছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিনের বেশিরভাগ সময় ফেসবুকে সময় দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বই পড়ায় সময় দেয়ার চেয়ে তারা ফেসবুক ব্যবহারে সময় নষ্ট করছে বেশি। ফলে মেধাবৃত্তির ব্যাঘাত ঘটছে। অর্থাৎ ফেসবুক তাদের কাছে একটা আসক্তির মতো।

এতে করে ফেসবুক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে দিচ্ছে। এদিকে শিক্ষকগণ বলছেন, প্রযুক্তির অতিরঞ্জিত ব্যবহারে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্ষুধামন্দা, মানসিক বৈকল্য, বিষণ্নতা ও শারীরিক অক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। ফলে কোমলমতি এসব ছেলেমেয়েদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে, কমছে পাঠাভ্যাস। সবকিছু মিলিয়ে নেতৃত্ব ক্ষমতাহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বাস্তবতার বাইরে তৈরি হচ্ছে এক অলীক স্বপ্নময় জীবনের (ভার্চুয়াল লাইফ) নেশায় আসক্ত নতুন প্রজন্ম। সারা দেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছেলেমেয়েরাই পড়ছে ফেসবুকের ভয়ঙ্কর আগ্রাসনে।

এ বিষয়ে মনোচিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে যেসব বাবা-মা চিকিৎসার জন্য সন্তানকে নিয়ে আসেন তাদের প্রায় প্রত্যেকের সমস্যা একই। তার সন্তান খেতে চায় না, ফেসবুক নেশায় বুদ কিংবা চঞ্চলতা কম। যেখানে বসে রাখা হয় সেখানেই থাকে। অর্থাৎ শিশুদের মধ্যে এখন চঞ্চলতা কমে গেছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, বড়দের প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা বাস্তব জীবন থেকে বর্জিত হয়ে সে স্থান দখল করে নিচ্ছে ফেসবুকের ‘লাইক’ আর স্ট্যাটাসের অলীক মোহ। সামাজিক সম্পর্কের বন্ধনে চিড় ধরছে। অপরদিকে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে চাইলে পারছে না। বারবার ফেসবুকে ফিরে যাচ্ছে। সময় নষ্ট করছে। শারীর চর্চা, অবসর সময়ে খেলাধুলা কিংবা ততটা ভালো চিন্তা করতে পারছে না তারা। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, শিক্ষাগ্রহণের এ বয়সে সারাক্ষণ ফেসবুকের নেশায় বুদ হয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব শিরিন খাতুন বলেন, ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে মনে করি সরকারের উচিত ফেসবুক নিয়ন্ত্রণে আনা। শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে সময় নষ্ট করছে। মিটিংয়ে এ বিষয়টি আমি উত্থাপন করব। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন নিয়ে আসা নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফোন না নিয়ে এলেও বাইরে গেলেই ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক চালাতে দেখা যায়। ফেসবুক ব্যবহারের সঠিক নীতিমালা হওয়া দরকার। এটি করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা ক্ষতিকর বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ রাজিব আহমেদ বলেন, সরকার ফেসবুক বন্ধ করলেও অনেক সময় দেখা যায় প্রক্সি সার্ভার দিয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করছে। তবে এসব প্রক্সি সার্ভার বন্ধে টেকনোলজি ব্যবহার করা যেতে পারে। যতগুলো প্রক্সি সফটওয়ার ও আইটি রয়েছে তা বিটিআরসি ব্লক করে দিলে ফেসবুক ব্যবহার করা যাবে না। প্রক্সি সার্ভিস বন্ধ করলে পেইড সার্ভিসে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারলেও তা সীমিত। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ১৮ বছরের নিচে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে না।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ১৮ বছরের নিচের বয়সের ছেলেমেয়েরাও ফেসবুক ব্যবহার করছে। তবে ফেসবুকের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক আছে। বিশেষ করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে ফেসবুক চালনো মোটেও কাম্য নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : আমার সংবাদ প্রিন্ট সংস্করণ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০