সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

অস্থির ডলার বাজার

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :

দেশে ডলারের বাজারে অস্থিরতা কোনোভাবেই কমছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দাম। গত ৬ মাসে প্রতিটি ডলারে বিনিময় মূল্য বেড়েছে ৪.৫ টাকা। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে আমদানি ব্যয়। আর ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

অনেকেই এখন নগদ টাকা পরিবর্তন করে ডলার জমা করে রাখছে। এতে ডলারের বাজারে চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী ডলারের যোগান দিতে পারছে না। ফলে ডলার ক্রেতাগণ ছুটছে খোলা বাজারের দিকে। খোলা বাজার থেকে তারা বেশি দামে ডলার ক্রয় করতে পারছেন।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে খোলাবাজারে ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮৫.৫০ টাকা। গতকাল খোলাবাজারে ডলারের মূল্য ছিল ৮৭.৫০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২.২০ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখানে দেখা যায়, ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ডলার কেনাবেচা করছে ৮৫ টাকা দলে। তবে ক্রেতার কাছে নগদ ডলার বিক্রি করছে ৮৭ টাকারও বেশি দরে। ক্রেতারা খোলাবাজার থেকে ডলার ক্রয় করছে ৮৭.৪০ টাকা দরে।

চলতি বছরের পুরো সময় ধরেই ডলারে বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। গত দুমাস আগে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম ছিল ৮৪.৭০ টাকা। দাম বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ৮৫ টাকা দরে লেনদেন করছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে গতকাল ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা দরে। অন্যদিকে খোলাবাজারে ৮৭.৩০ টাকা দরে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খোলা বাজারেও দাম বেশ চড়া। সবসময় দেখো যায় ব্যাংক ও খোলা বাজারের মধ্যকার ডলারের দামের ব্যবধান ২ থেকে ২.৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, প্রায় সারা বছরই ডলারের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পণ্যের দাম বাড়ছে। ভোক্তাকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেশকিছু কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। এম মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও ভোগপণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়া। যে পরিমাণে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছি তার চেয়ে ব্যয় হচ্ছে বেশি। এতে এক ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে, যা ডলারের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান পরিচালনা করছে তাতে ডলারের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অভিযানের কারণে অনেকের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবার অনেকে দেশে অবস্থান করছেন তবে টাকা পরিবর্তন করে ডলার জমা করে রাখছেন। এতেও ডলারের বাজারে চাহিদা বেড়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, ব্যাংগুলোতে সংকটের কারণে অনেকেই এখন খোলা বাজার থেকে ডলার ক্রয় করছেন। কারণ ব্যাংক থেকে ডলার ক্রয় করার সময় বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র দেখাতে হয়। কিন্তু খোলা বাজার থেকে ডলার ক্রয় করার সময় কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখানের ঝামেলা নেই।

ডলারের চাহিদা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক সময় ডলারের যোগান দিয়ে থাকে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। ছলতি অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিক্রি করেছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, আগস্ট মাসে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে চাহিদা বাড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করে থাকে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930