সর্বশেষ:

ইরানের কি আসলেই ক্ষেপণাস্ত্র আছে, নাকি ভুংভাং!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন বিমান হামলায় গেলো শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ইরানের অভিজাত কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চরম প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই চরম প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আসলে কতোটা সক্ষম ইরান? ইরানের সামরিক বাহিনীর শক্তিই বা কতটুকু?

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পরমাণু অস্ত্র আছে ছয় হাজার আটশ। বিশ্বে প্রথম পরমাণু বোমা প্রস্তুতকারক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবং যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যারা এটা যুদ্ধেও ব্যবহার করেছে৷

যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হলেও এখন পর্যন্ত ইরানের বোমা নেই বলে ধারণা করা হয়। মার্কিনিদের হাতে ৭ হাজার ২০০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। তাই পারমাণবিক শক্তির দিক দিয়ে বেশ এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোকাবেলা করতে ইরানের কি ক্ষেপণাস্ত্র আছে? নাকি ভুংভাং। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মতে, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড়, বিশেষ করে স্বল্প পাল্লা আর মাঝারি পাল্লার।

তারা আরও বলছে, ইরান স্পেস টেকনোলজি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে যাতে করে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা যায়। তবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইরান স্থগিত করেছিল ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পর, বলছে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইন্সটিটিউট।

অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি আরব ও উপসাগরীয় এলাকার অনেক টার্গেট ইরানের স্বল্প বা মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতাতেই আছে, বিশেষ করে ইসরায়েলে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলো।

এছাড়া আরও প্রমাণ আছে যে তেহরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও ইরানের সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে বিশেষ করে সৌদি আরব, ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের টার্গেটগুলোর ক্ষেত্রে।

অপ্রচলিত (নন কনভেনশনাল) অস্ত্র কোনগুলো কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২০১৬ সাল থেকেই ইরাকে ড্রোন ব্যবহার করে ইরান।

২০১৯ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করে তারা এই অভিযোগে যে ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এর বাইরে তারা ড্রোন প্রযুক্তি তাদের মিত্রদের কাছেও স্থানান্তর বা বিক্রিও করেছে, বলছেন বিবিসির প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সংবাদদাতা জোনাথন মার্কাস।

২০১৯ সালেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল সৌদি তেল ক্ষেত্রে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইরানকেই দায়ী করেছিল। যদিও তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বরং তারা ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের দায় স্বীকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে।

২০১০ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর বড় ধরনের সাইবার অ্যাটাকের পর তারা সাইবার স্পেস সক্ষমতায় জোর দেয়। আইআরজিসিরি নিজস্ব সাইবার কমান্ড আছে বলে মনে করা হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930