সর্বশেষ:

৪২ লাখ ঘুষসহ চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ কর্মচারী আটক

আকাশবার্তা ডেস্ক :

লাখে এক হাজার টাকা ঘুষ দিলেই কোনরকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া কাগজপত্রে দ্রুত মেলে কনজ্যুমার লোন। কিন্তু যারা এই শর্তে ঘুষ দিতে অপারগ তাদের কপালে জুটে না ঋণ সুবিধা। এমনি দশা সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম বন্দর শাখায়।

একটি অভিযোগের সূত্র ধরে লোন পাইয়ে দেয়ার কাজে জড়িত চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ কর্মচারীকে আটকের পর বেরিয়ে আসে এমন তথ্য। এ সময় তাদের কাছ থেকে চেক ও নগদসহ ৪২ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৯ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর থানার ওসি নুরুল হুদা।

তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বন্দরের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃতদের বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রবিবার রাতে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রকৌশল বিভাগের খালাসী আব্দুল মান্নান (৪০), প্রকৌশল বিভাগের এসএস টেন্ডার আবুল কালাম আজাদ (৪২), নৌ-বিভাগের লস্কর মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৬)। এছাড়া মেরিন বিভাগের লস্কর পদে থাকা অভিযুক্ত শামসুল হক টুকু পলাতক রয়েছেন।

৪২ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৯ টাকার মধ্যে নগদ ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪০০ টাকা ও ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৯ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রশিদ রয়েছে।

এছড়া ১৬৮টি ব্যাংক চেক, ৬টি চেকবই ও ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড পাওয়া গেছে। আটককৃত বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কী না তা খতিয়ে দেখতে প্রত্যেকের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান ওসি নুরুল হুদা।

তিনি জানান, ব্যাংকের ওই শাখায় ঋণ চাইতে গিয়ে লাখে এক হাজার টাকা ঘুষের অফারে পড়েন অভিযোগকারী ব্যক্তি। ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে মাসের পর মাস হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ ঘুষ দিয়ে অনেকেই কোনরকম যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুয়া কাগজপত্রে দ্রুত ঋণ নেওয়ার তথ্য দেন তিনি। এরপর অভিযানে নামে এনএসআই।

অভিযানে আটককৃতরা ঘুষ নিয়ে ঋণ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের একজন বলেন, সোনালী ব্যাংকে প্রায় গ্রাহকের লোন ফাইল হল ১ থেকে ৬ লাখ টাকা। যারা লাখে এক হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার চুক্তি মেনে আসেন তাদের লোন পাশ হচ্ছিল দ্রুত। চুক্তির বাইরে আসলে লোনের পরিবর্তে পেতে হচ্ছিল ভোগান্তি।

সোনালী ব্যাংকের বন্দর শাখার ম্যানেজার সাইফুল ইসলামের (এজিএম) সহযোগীতায় গ্রাহকদের কনজ্যুমার লোন পেতে সহযোগিতা করেন তারা। এতে যাচাই বাছাই না করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে লোন দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিদিন বিকেলের দিকে ঘুষের লেনদেনের টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে স্বীকারোক্তি দেন।

এ সুযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বেতনের বাইরেও কনজ্যুমার লোন নিতে ভিড় জমায়। সেখানে প্রতিদিন ৫-৮টি লোন দেয়া হয়। প্রতি মাসে প্রায় ১২০-১৯০টি কনজ্যুমার লোন পাশ করা হয়। মাসে এসব লোন ফাইল থেকে প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930