সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

একজন মানবিক পুলিশ সদস্যের গল্প

আকাশবার্তা ডেস্ক :

পুলিশ জনগণের বন্ধু, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগে কখনো পুলিশকে হতে হয় বজ্রের মতো কঠিন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কখনো হতে হয় কঠোর স্থানে। পুলিশকে বলা হয়ে থাকে আস্থার বাতিঘর।

জনগণের জীবনই তাদের জীবন, জনগণের সুখই তাদের সুখ। জীবনের রস আস্বাদনের অন্তিম মূহুর্তেও পুলিশের কাঁধে থাকে দেশমাতার অঙ্গীকার নামা “কল অন ডিউটি”। তবু কয়েকজন অপেশাদারি বিপদগামীর ভুলের কারণে কতই না সমালোচনায় বিদ্ধ করি।

ভুলে যাই আমাদের নিরাপত্তায় নিবেদিত প্রাণ এই পুলিশেরাই। ভালোদের মধ্যেও ভালো থাকেন, সেরাদের মধ্যেও সেরা থাকেন। পুলিশ জনগণের শত্রু  নয়, বন্ধু। এ শ্লোগান বাক্যকে প্রমাণ করে যারা হয়ে ওঠেন মানবিক তারাই প্রকৃত বন্ধু।

ভেঙে দেন ভুল ধারণা, কেউ কেউ হয়ে ওঠেন পরম বন্ধু, শুধু তা-ই নয় আত্মার আত্মীয় মানুষের জীবন জুড়ে।

এমনই একজন পুলিশ অফিসারের গল্প বলবো আজ, মানবতার ফেরিওয়ালা। মানবতা ফেরি করে বেড়ান, যেখানেই হাহাকার, দুঃখ-দুর্দশা সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন। বাড়িয়ে দিচ্ছেন মানবতার কোমল হাত। কখনো সর্ব দক্ষিণের রামগঞ্জ কখনো বা পার্বত্য রাঙ্গামাটি। তার ছুটে চলা থেমে থাকে নেই, কোন প্রকার ক্লান্তি-অবসাদ তাকে গ্রাস করে না। আপামর জনতার কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন এক আস্থার প্রতীক,আপাদমস্তক মানবতার মানুষ। হ্যাঁ, তিনিই  এসআই জহির, গণমানুষের জহির ভাই।

এসআই মোঃ জহির বর্তমানে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত। গত ১৯/১০/২০১৯ সালে তিনি রাঙ্গামাটি জেলায় যোগদান করেন।দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও ন্যায় পরায়ণতার পাশাপাশি এই মানুষটি নিজের অলিখিত পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

মানবিক কাজে মানবতার মূলধনে প্রতিনিয়ত অর্জন করে যাচ্ছেন ভালোবাসার অমূল্য মুনাফা, প্রতিদিনই কোনো না কোনো মানবিক কাজ করেই যাচ্ছেন। তার মন-মগজ, চিন্তা চেতনা সম্ভবত মানুষ আর মানবতা নিয়েই, তিনি মূলত সমাজে ছিন্নমূল, হতদরিদ্র, শারীরিক প্রতিবন্ধী, অসহায় মানুষ খুঁজে খুঁজে কাউকে হুইল চেয়ার, কাউকে নগদ অর্থ, শীতবস্ত্র, ত্রাণ সামগ্রীসহ বিভিন্নভাবে সমাজের অস্বচ্ছল অসহায় মানুষদের সহযোগীতা করেন। মানবিক কাজের জন্য ইতিমধ্যেই রাঙ্গামাটিবাসীর সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন।

তিনি করোনাকালীন সময়ে নিজের হজ্বের জন্য জমানো কষ্টার্জিত টাকা তুলে নিয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাঙামাটিতে করোনা পজেটিভ রোগীদের খাদ্য, ওষুধ সহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করেছেন। এমনকি পুরো রমজান জুড়েই চলছে তার মানবিক কাজ, কারো সুপারিশে নয়, নিজ পায়ে হেঁটে, নিজ কাঁধে ত্রাণসামগ্রী বয়ে নিয়ে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

রাঙামাটিতে তার উল্লেখযোগ্য মানবিক কাজ গুলোর মধ্যে বন্ধুকভাঙ্গা ইউনিয়নের মুবাছড়ি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী জয়কুমারী চাকমা(৪০) এবং রাঙ্গামাটি পৌরসভার চম্পকনগর এলাকার আব্দুল জলিলের কলোনীতে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ কামাল হোসেন প্রকাশ রাজা মিয়া(১৪), ভেদভেদী মুসলিম পাড়ার দূর্ঘটনায় মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাওয়া রোগী নয়ন(৩৫), পশ্চিম ভেদভেদী শারীরিক প্রতিবন্ধী আঃ শুক্কুর(২০), পুরানবস্তির দূর্ঘটনায় পা হারানো সেলিম(৪৮), আঞ্জুমুল(৩৩), তবলছড়ি কর্মচারী কলোনীর সিএনজি চালক হেলাল(৪৫), দেরকে হুইল চেয়ারের ব্যবস্থাসহ আর্থিক সহযোগীতা করেছেন।

এছাড়াও তিনি গতবছর করোনায় লকডাউনে কাপ্তাই লেকে ক্ষতিগ্রস্থ জেলেদের, রিজার্ভ বাজার অগ্নিকান্ডে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ দিয়েছেন।

এছাড়া চম্পকনগর শারীরিক প্রতিবন্ধী তানিয়াকে আর্থিক ও ত্রাণ সহায়তা, ভেদভেদী মুসলিমপাড়া ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী মরিয়মের একমাত্র মেয়ে আছমার লেখাপড়ার সহায়তাসহ অসংখ্য মানবিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

বর্তমানে লকডাউনের মাঝে তিনি রমজানের শুরুতে মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ইফতার ও ত্রাণ সামগ্রী পোঁছে দিচ্ছেন। তার এই কাজে বড় একটি আর্থিক সার্পোট দিচ্ছেন মানুষ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসি নাসির কাশেম।

এছাড়া তিনি তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল লক্ষীপুর রামগঞ্জ থানায় একাধিক শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপক মানবিক কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন।

এসআই জহিরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ জনগণের বন্ধু, পুলিশ পরিচয়ের আগে আমি একজন মানুষ, মানুষ মানুষের জন্যই, প্রকৃত মানুষ কখনো অপর মানুষের দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে পারে না।

মানবতা যেখানে গুমরে গুমরে কাঁদছে সেখান থেকে  কেউ সরে দাড়াতে পারে না,নিজের মানবিকতা বোধ থেকেই কাজগুলো করি। মানুষের অতি আপনজন হওয়ার চেষ্টা করি। মানুষের সন্তুষ্টিতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। আমি বিশ্বাস করি আমার কাজের পুরষ্কার আমাকে স্বয়ং আল্লাহ দিবেন,আপনাদের কাছে দোয়া চাই,আল্লাহ যেন আমাকে মানুষের সেবা করার বেশী বেশী সুযোগ করে দেন।

উল্লেখ্য, এসআই জহির একজন দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। পিতার দেশপ্রেমকে বুকে লালন করে এসআই জহির মানুষ ও মানবতার কাজে আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীরা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930