স্পোর্টস ডেস্ক :
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল ১০টায় ম্যাচ শুরু হয়েছে। ব্যাটিং করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে কঠিন বিপদে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এরমধ্যে লঙ্কানদের ৩ উইকেট তুলে নেন খালেদ আহমেদ।
ফিল্ডিং করতে নেমে দিনের শুরুতেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী জুটি। প্রথম ওভারে ২ রান দেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ওভার করতে এসে নিশান মাদুশকাকে ফেরান সৈয়দ খালেদ আহমেদ। তার ফুল লেংথ ডেলিভারি ড্রাইভ করার চেষ্টায় লঙ্কান ওপেনারের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটের পেছনে। তৃতীয় স্লিপে বাম দিকে হাত বাড়িয়ে দারুণ রিফ্লেক্সে ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৯ বলে ২ রান করে ফেরেন মাদুশকা।
এরপর পানি বিরতির আগের ওভারে দারুণ বাউন্সারে মেন্ডিসকে ফেরালেন খালেদ। শরীর বরাবর আসা বাউন্সারে কাট করবেন নাকি ছেড়ে দেবেন এই দ্বিধায় শেষ পর্যন্ত ব্যাটে লেগে চলে যায় গালিতে। দুইবারের চেষ্টায় ক্যাচ নেন জাকির হাসান। ফেরার আগে ২ চারে ২৬ বলে ১৬ রান করেন মেন্ডিস। দ্বিতীয় রান নেওয়ার সময় পূর্ণ হয় তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪ হাজার রান।
কুসাল মেন্ডিসের পর একই ওভারে দিমুথ কারুনারাত্নের উইকেটও নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন লঙ্কান ওপেনার। বলের লাইনে যেতে পারেননি তিনি, ব্যাট আর প্যাডে ফাঁক থেকে যায় অনেকটা। তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢুকে যাওয়া ডেলিভারিতে সেই ফাঁক দিয়ে আঘাত করে অফ স্টাম্পের চূড়ায়। ১ চারে ৩৭ বলে ১৭ রান করে ফিরলেন কারুনারাত্নে। এরপর দলকে আরো চাপে ফেলে রান আউট হয়ে ফিরেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। পঞ্চাশের আগে ৪ উইকেট হারিয়ে কঠিন বিপদে শ্রীলঙ্কা।
সৈয়দ খালেদ আহমেদের হালকা লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারি কভারের দিকে খেলেই রানের জন্য ছোটেন দিনেশ চান্দিমাল। আলসেভাবে সাড়া দেন ম্যাথিউস। মিড অফ থেকে দৌড়ে এসে সরাসরি থ্রোয়ে স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বিদায়ঘণ্টা বাজে ৭ বলে ৫ রান করা ম্যাথিউসের।
ম্যাথিউসের পর আউট হয়ে যান দিনেশ চান্দিমালও। ১৫তম ওভারে শরিফুল ইসলামকে আক্রমণে ফেরানোর পরই লেগ স্লিপ রেখে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই জায়গায়ই ধরা পড়লেন দিনেশ চান্দিমাল। শরিফুলের লেগ স্টাম্পের ওপর করা ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি গ্ল্যান্স করেন চান্দিমাল। লেগ স্লিপে সামনে ঝুঁকে দারুণ ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩ বলে ৯ রান করে ফেরেন চান্দিমাল। স্রেফ ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে গভীর খাঁদে শ্রীলঙ্কা।
এর আগে তিন পেসারকে নিয়ে সকালের কন্ডিশনটা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, ২০২২ সালে ভারতের কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর ২০২৩ সালে কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে নিজেদের প্রথম টেস্ট সিরিজে অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখতে চাইবে টাইগাররা।
গেল বছর ঘরের মাঠে সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অধীনে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে তিন ফরম্যাটে দায়িত্ব নেয়ার পর টেস্ট ফরম্যাটে দেশের বাইরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করা এবং ঘরের মাঠে যতটা সম্ভব ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য স্থির করেন শান্ত।
ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে কখনো টেস্ট জিততে পারেনি টাইগাররা। তাই স্বাভাবিকভাবেই এবার শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের জন্য নিজেদের সেরাটা উজার করে দেবে টাইগাররা।
এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪টি টেস্ট খেলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরমধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। ২০১৭ সালে কলম্বোতে নিজেদের শততম টেস্টে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ও শেষ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। একমাত্র জয়ের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮টিতে হার এবং পাঁচটি টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে টাইগাররা। এরমধ্যে শ্রীলঙ্কার জয় ৭টিতে এবং বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়।
বাংলাদেশ একাদশ : মাহমুদুল হাসান, জাকির হাসান, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুমিনুল হক, শাহাদাত হোসেন, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
শ্রীলঙ্কা একাদশ : দিমুথ করুনারত্নে, নিশান ফার্নান্ডো, কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, দিনেশ চান্ডিমাল, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, কামিন্দু মেন্ডিস, প্রভাত জয়সুরিয়া, বিশ্ব ফার্নান্ডো, কাসুন রাজিতা ও লাহিরু কুমারা।