বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন বানচাল বা বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান সভাপতি সমীর চন্দ্র কর্মকার, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অপূর্ব লাল রায়, ভাইস চেয়ারম্যান জুলাশ কুরী, জেনারেল সেক্রেটারি প্রার্থী পলাশ চন্দ্র কুরী, সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রার্থী লিটন কর্মকার, জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রার্থী অমিত নন্দী, বিপ্লব দেবনাথ, ট্রেজারার প্রার্থী হৃদয় পালসহ বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এক্সিকিউটিভ মেম্বার প্রার্থীরা।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবু দিলীপ কুমার সাহা, মানিক সাহা, কার্তিক কুরী, তপন নন্দী, শংকর বৈষ্ণব, শংকর নন্দীসহ জেলার শতাধিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী।
‘নির্বাচন কোনোভাবেই বানচাল করতে দেওয়া হবে না’ :
সভায় বক্তারা বলেন, বাজুস ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন। তাই সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে নির্ধারিত নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হোক এটি সাধারণ ব্যবসায়ীরা চায় না।
বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, ‘একটি পক্ষ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচাল করতে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজুস শুধু আমাদের আবেগের জায়গা নয়, এটি আমাদের ব্যবসা ও রুটি-রুজির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চাই। আগামী দুই বছরের জন্য যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদের কাছ থেকে আমরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সেবা প্রত্যাশা করব।’
সমীর কর্মকার আরো বলেন, ‘আমাদের এই সুন্দর ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে যারা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে সাংগঠনিক ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ জানাবেন।’
‘নির্বাচন বন্ধের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে’ :
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কোনো কোনো প্রার্থী পরাজয়ের আশঙ্কায় নির্ধারিত নির্বাচন বন্ধ বা স্থগিত করার জন্য অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য সভায় পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘আমরা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা করা হলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবেন।’
প্রসঙ্গত, বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় জানানো হয়, এ নির্বাচনে বিভিন্ন পদে বর্তমান সভাপতি সমীর কর্মকারসহ মোট ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জেলার জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশিত নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে৷