বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

লক্ষ্মীপুরে অর্ধশত ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ! শিক্ষক আটক

আকাশবার্তা ডেস্ক :

লক্ষ্মীপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। শনিবার অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে লক্ষ্মীপুর মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে, সদর উপজেলার নন্দনপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। আটক ওই মাদ্রাসার কৃষি বিভাগের শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে আরো অন্তত ৫০ জন ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ২৪ ছাত্রী মাদ্রাসার সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ছাত্রীরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ মাদ্রাসায় না আসার কথাও লিখিতভাবে জানান। তবে গুরুত্বর এমন অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার নিয়ম রক্ষার কারণ দর্শানোর নোটিশ করেই দায় সারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ছাত্রীদের ধর্ষণের বিষয়ে শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি এক জরুরী সভার আয়োজন করে। এ সময় শিক্ষকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। এমন পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা সুপার ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দনপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রায় দুইবছর আগে ইমাম হোসেন কৃষিশিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমাম হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার খানপুর গ্রামের আবদুল খালেকের পুত্র। তিনি শুরু থেকেই ছাত্রীদেরকে মাদ্রাসার পাশের একটি বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় ধর্ষণ এবং মাদ্রাসায় ক্লাসে পড়ানোর সময় যৌন হয়রানি করতেন।

গত তিনমাস ধরে ছাত্রীদের সাথে এসব করে আসছেন তিনি। কিন্তু শিক্ষকের যৌন হয়রানির বিষয়টি ছাত্রীরা একাধিকবার সুপারকে জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি।

সম্প্রতি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির ২৪ জন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেন সুপারের কাছে। এতে সুপার শিক্ষক ইমাম হোসেনকে গত ১০ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন। এরপর ইমাম হোসেন অনেকটা আত্মগোপনে চলে যায়। ১২ অক্টোবর তিনি শোকজের জবাব দেন। ওই মাদ্রাসায় ১২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন ছাত্রী জানায়, শিক্ষক ইমাম হোসেন কৌশলে তাদের সাথে প্রাইভেট পড়ানোর সময় রুমে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। ওই শিক্ষক তাদেরমত অন্তত আরো ৪০-৫০ জন ছাত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক করেছেন বলেও তারা জানান। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের ক্ষতি হবে বলে চুপ থাকতে ভয়ভীতি দেখান।

মাদ্রাসার সুপার মো. আতিকুর রহমান বলেন, শিক্ষক ইমামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে দু’বার তাকে শোকজ করা হয়েছে। জবাবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটি দেওয়া হয়।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবুল কাশেম বলেন, বিষয়টি লজ্জাজনক। এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয় ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ছাত্রীদের অভিভাবকরা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০