সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

শ্রমিক থেকে ৭ প্রতিষ্ঠানের মালিক!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভাগ্য অন্বেষণে অল্প বয়সে বিদেশে পাড়ি জমান শাহজাহান আলী আহম্মেদ (এসএম আহম্মেদ)। যে বয়সে আড্ডায় মজে থাকার কথা সেই বয়সেই প্রবাসী শ্রমিকের খাতায় নাম লেখান তিনি। ভাগ্য বদলে ১৯৮১ সালে কাতার যান তিনি। সেখানে বেশ  কয়েক বছর কাটিয়ে স্বপ্ন দেখেন দেশের মাটিতে ব্যবসা করার। সে অনুযায়ী রেস্টুরেন্ট করেন। কিন্তু দেশের পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে কিছুতেই খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না তখনকার তরুণ এসএম আহম্মেদ। প্রতি বছর রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় লোকসান।

তাই আবার বিদেশ চলে যান। তবে এবার আর কাতার নয়, যান মালয়েশিয়া। ১৯৯২ সালের ২৯ জুন টুরিস্ট ভিসায় কুয়ালালামপুর পাড়ি জমান এসএম আহম্মেদ।  শুরুতে ভিসা পারমিট করা নিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়। ছিলো ধরা খাওয়ার ভয়ও। তাই অনেক কষ্টে কোনোরকম টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হয় তাকে। পেয়ে যান একটি বেকারি ফ্যাক্টরির কাজ। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে দেখে খুশি হন ফ্যাক্টরির মালিক। তাই এক বছরের মাথায় তাকে ফ্যাক্টরির সুপারভাইজর এবং  দুই বছরের মাথায় ম্যানেজার করা হয়। সেই যে উপরে উঠার সিঁড়ি পান আর পেছনে ফিরতে হয়নি।

১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ফ্যাক্টরিতে কাজ করার পর কুয়ালালামপুরের বুচাইলামাতে একটি কারওয়াশের দোকান দেন। সেখানে ৬ মাস ব্যবসা করার পর চলে যান মালয়েশিয়ার সর্ব দক্ষিণের প্রদেশ জোহর বাহরুতে। সেখানে জালান (রোড) আব্দুল্লাহ তাহেরে কারওয়াশের দোকান দেন।

মাসে ৬০০ রিঙ্গিত দোকান ভাড়া ও শ্রমিকের বেতন দিয়েও তার মাসে আয় দাঁড়ায় ৭০০০ হাজার রিঙ্গিত। তার আগে আরও কিছু বাঙালি জোহর বাহরুতে কারওয়াশের দোকান দিয়ে সফল হন। সেই একটি কারওয়াশের দোকান থেকে এখন জোহর বাহরুতে ৪ টা কারওয়াশ, দুইটা ক্যানটিন একটি রেস্টুরেন্ট। বাঙালি হিসেবে গর্বিত এসএম আহম্মেদ। সে প্রবাসীদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন সততা আর কর্মঠ হলে বিদেশেও অনেক কিছু করা যায়।

প্রথম জীবনে শ্রমিক এসএম আহম্মেদ এখন তার নিজপ্রতিষ্ঠানে ৬৮ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান হিসেবে স্বপ্ন দেখেন নিজ দেশ কবে মালয়েশিয়ার পর্যায়ে পৌছাবে। তার হাত ধরে অনেক প্রবাসী বাঙালি মালয়েশিয়াতে সফল ব্যবসায়ী হয়েছেন।

জোহর বাহরুতে কারওয়াশের দোকান অনেক সম্ভাবনাময় সেক্টরে পরিণত হয়েছে। কাজের মান অন্য দেশের তুলনায় ভালো হওয়ায় দ্রুত বাঙালি কারওয়াশের দোকান প্রসার ঘটছে।

এসএম আহম্মেদ ৩৬ বছর অর্থাৎ তিন যুগ ধরে প্রবাসী। তাই প্রবাসীদের দুঃখ কষ্ট বুঝতে পেরে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব জোহুর, মালয়েশিয়া (বিসিজেএম) নামের সংগঠনে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে বিসিজেএম’র সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জোহুর বাহরু, মালয়েশিয়ার সহ-সভাপতি।

কুমিল্লার মুরাদ নগরের সন্তান এখন মালয়েশিয়ায় সফল ব্যবসায়ী ও সংগঠক। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র ছাত্র। আর এক ছেলে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৫০তম স্থান অধিকার করেন। সবার ছোট মেয়েটাও এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মালয়েশিয়ায় রয়েছে নিজের ফ্লাট ও নিজস্ব গাড়ি। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী এসএম আহম্মেদের একটাই স্বপ্ন মেয়েকে ডাক্তার বানাবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখনো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930