আকাশবার্তা ডেস্ক :
বৈঠক শেষে ইসি সচিব বলেন, সিইসি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া সব প্রার্থীর সঙ্গে যেন সম আচরণ করা হয় সে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন বলে ইসি সচিব জানান।
এ দুই সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে কোনও রকম গুজব না ছড়ানো হয় সেজন্য বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বৈঠক করবে বলে সচিব জানান।
এছাড়াও শিল্প এলাকা গাজীপুরে যাতে সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে তা নিশ্চিত করতে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের দুই শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে পৃথক বৈঠক করা হবে।
নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দুই সিটি করপোরেশনের দু-একটি ওয়ার্ডে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা করছে ইসি। তবে এখনও ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়নি।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুনুর রশীদ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন-বিএনপি প্রার্থীর এমন দাবির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা তার (এসপি) বিষয়ে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে খবর নিয়েছি। তারা তার (এসপি’র) কাছে কোনো রকম অসহযোগিতামূলক আচরণ পাননি বরং সহযোগিতাই পেয়েছেন। তাছাড়া আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে হবে। সে ধরনের কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পুলিশ, বিজিবি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাসহ দুই সিটির নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৫ মে ভোটের দিন রেখে দুই সিটির নির্বাচনের যে তফসিল নির্বাচন কমিশন দিয়েছে, সে অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ ছিল গত ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত।
সর্বশেষ ২০১৩ সালের নির্বাচনে গাজীপুরে এম এ মান্নান এবং খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি বিএনপির মনোনয়নে ভোটে জিতে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তাদের বদলে গাজীপুরে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন হাসানউদ্দিন সরকার; আর খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোটার আছেন ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। আর খুলনা সিটির ৩১টি সাধারণ এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন।
ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিবউদ্দিন মণ্ডল গাজীপুর সিটি করপোরেশনে এবং খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন।