বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি বছরের অক্টোবরে : ইসি

আকাশবার্তা ডেস্ক :


চলতি বছরের অক্টোবর মাসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। তবে অক্টোবরে তফসিল হবে জানালেও কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।

সোমবার (৩০এপ্রিল) সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

তফসিলের সুনির্দিষ্ট তারিখের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অক্টোবরের কত তারিখে জাতীয় নির্বাচনের সিডিউল বঘোষণা করা হবে সেটা কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, এবার ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৫টি আসনে পরিবর্তন এনেছে কমিশন। তবে ঢাকার কোন আসনের সীমানা বদল হয়নি।

তিনি বলেন, ৩০০ আসনের সীমানা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৭৫টি আসনের ক্ষেত্রে দশম সংসদের সীমানাই বহাল থাকছে। বাকি ২৫টি আসনে পরিবর্তিত সীমানায় ভোট হবে।

গত ১৪ মার্চ পুননির্ধারিত সীমানার খসড়ায় ৪০ আসনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করে বাকি ২৬০টি আসনে দশম সংসদের সীমানা বহাল রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু এরপর ৬০টি আসনের বিষয়ে আপত্তি বা আবেদন আসে।

গত ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল এসব আপত্তির ওপর শুনানি শেষে ৬০টি আসনের মধ্যে ৩৫টির আপিল মঞ্জুর করে ইসি। ফলে সেসব আসনে দশম সংসদের সীমানাই বহাল থাকছে। বাকি ২৫টির আবেদন না মঞ্জুর হওয়ায় সেখঅনে পরিবর্তন আসছে।

যেসব আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলো হলো- নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর- ১ ও ৩, কুড়িগ্রাম- ৩ ও ৪, সিরাজগঞ্জ ১ ও ২, খুলনা ৩ ও ৪, জামালপুর ৪ ও ৫, নারায়ণগঞ্জ ৪ ও ৫, সিলেট ২ ও ৩, মৌলভীবাজার ২ ও ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ ও ৬, কুমিল্লা ৯ ও ১০ এবং নোয়াখালী ৪ ও ৫।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে। দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২৯ জানুয়ারি। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটের আয়োজন করতে হবে।

চলতি বছর ১২ জানুয়ারি সরকারের চার বছর পূর্তির দিন জাতির ‍উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে ভোট হবে বলে জানান। তবে পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানান, নির্বাচন হবে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে।

এর মধ্যে প্রথমবারের মতো তফসিলের বিষয়ে একটি দিনক্ষণের ঘোষণা এলো নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। নির্বাচনকালীর নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট এবং সমমনারা।

বিএনপির সে দাবি পূরণ হচ্ছে, এমন কোনো নমুনা এখনও হয়নি। আর বিএনপি আগামী ভোটে আসবে এমন কোনো ঘোষণাও দেয়নি। দলটির কাছে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদরে কারাবন্দী নেতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি।

এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তফসিলের ঘোষণা এসেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ভোট যখনই হোক, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে কমিশনের তফসিলের বিষয়ে এখন কোনো বক্তব্য নেই। এটা আমাদের দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হবে।’

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। গত ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে এই প্রচারযুদ্ধ উদ্বোধন করেন তিনি। গঠন হয়েছে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও। তবে এই কমিটি এখনও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেনি।

অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট বলে যাচ্ছে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে আটক খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে তারা নির্বাচনে আসবে না। অবশ্য খালেদা জিয়ার মুক্তিই একমাত্র দাবি না, এটাও জানিয়ে রাখছে তারা। দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্ব থেকে শেখ হাসিনাকে সরে দাঁড়াতে হবে।

বিএনপি তফসিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোটে সবার অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে তাগিদ দিয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সকলের অংশগ্রহণে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন না হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই তফসিল ঘোষণার চেয়েও সকল রাজনৈতিক দলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। তারা কী চায় সেটা আমলে নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করা প্রয়োজন।’

‘নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা। সেই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কি না সেটা মূল বিষয়। না হলে তো সমস্যা। তেমনটা না হলে নির্বাচন আবারও বিতর্কিত করা হবে।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১