বুধবার ১১ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় অবাধে চলছে গলদা ও বাগদা চিংড়ির পোনা আহরণ

পলাশ সাহা :


লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ। এতে ধ্বংস হচ্ছে নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। ফলে মেঘনায় দিন দিন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে গলদা ও বাগদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। জেলেরা প্রকাশ্যে গলদা-বাগদা চিংড়ি পোনা আহরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের উপূুলীয় এলাকায় মাছের পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুর সদরের বুড়ির ঘাট এলাকা থেকে কমলনগরের মতিরহাট, সাহেবের হাট, লুধুয়া ঘাট এলাকাসহ রামগতি উপজেলার চরগজারিয়ায় মেঘনার নদীর বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে এভাবেই চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ি পোনা ধরার মহোৎসব। এ পোনা অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় তা ধরতে যে জাল ব্যবহার করা হয় তাতে ধ্বংস হয় বিভিন্ন প্রজাতির পোনাও। এ জন্য নদীতে চিংড়ি পোনা শিকার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে সে নিষেধাজ্ঞা মানছেনা জেলেরা। বাজারে প্রতিটি গলদা-বাগদা চিংড়ি পোনা বিক্রি হয় ১/২ টাকা করে। এক এক জেলে প্রতিদিন বিক্রি করছে ২শ’ থেকে ৩শ’ পোনা। মহাজনরা অগ্রিম ঋণ দেয়ায় পোনা শিকারে উৎসাহী হয়ে উঠেছে জেলেরা।

রেণু পোনা শিকারীরা জানান, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই রেণু পোনা শিকার করতে হচ্ছে তাদের।

এ দিকে স্থানীয়রা জানান, নদীতে চিংড়ি রেণু পোনা শিকার নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা এ চিংড়ি ধরতে গিয়ে হাজারো প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। ফলে মেঘনায় দিন দিন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে গলদা-বাগদা, ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশ বিস্তার।

রেণু ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেদের কাছ থেকে তারা এক টাকা ধরে রেণু পোনা কিনে খুলনা, আলায়পুর ও ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন জেলার গলদা ও বাগদা চিংড়ির ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম মহিব উল্যাহ্ অবাধে গলদা চিংড়ির রেণু পোনা ধরার কথা স্বীকার করে। তিনি বলেন, মেঘনার অভয়াশ্রমে চিংড়ি পোনা শিকারিদের নিভৃত করার জন্য ঝটিকা অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ সব রেণু পোনা রক্ষায় মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও নজরদারী জোরদার করা হলে নদী ও সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতির চাকা।

পিএস/এবি

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১