সোমবার ২রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

মাদকবিরোধী অভিযান : র‌্যাব-পুলিশের গুলিতে আরও ৮ জন নিহত

আকাশবার্তা ডেস্ক :


সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে জেলায় জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। র‌্যাব ও পুলিশ এসব ঘটনাকে বর্ণনা করে আসছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে। এসব অভিযানে বিভিন্ন পরিমাণে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের কথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার (২৩মে) সকালের মধ্যে ছয় জেলায় বন্দুকযুদ্ধে আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতে কুষ্টিয়ায় দুইজন এবং জামালপুর, কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে একজন করে মোট চারজন নিহত হয়েছে। আর ফেনী ও গাইবান্ধায় একজন করে মোট দুইজন নিহত হয়েছেন র‌্যাবের গুলিতে।পুলিশ ও র‌্যাবের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলাও রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। নিহতরা হলেন-ফটিক ওরফে গাফফার (৩৭) ও লিটন শেখ (৪৫)। পুলিশের দাবি পৃথক এ ঘটনায় পুলিশের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার লাহিনী পাড়ার গড়াই নদীর পাড় সংলগ্ন ব্রীজের নিচে ও ভেড়ামারা হাওয়াখালী ইটভাটার কাছে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। কুমারখালী থানার ওসি আব্দুল খালেক জানান, মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী লাহিনী পাড়ার গড়াই নদীর পাড় সংলগ্ন ব্রীজের নিচে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য কর গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশ ও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এসময় অন্য সব মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।পুলিশ জানতে পারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী ফটিক ওরফে গাফফার। তিনি পুলিশের তালিকাভূক্ত একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি ও ৭’শ পিচ ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ফটিক ওরফে গাফফার কুমারখালী উপজলার এলেঙ্গীপাড়া গ্রামের মৃত ওসমান গনীর ছেলে।

অপরদিকে ভেড়ামারা মডেল থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ভেড়ামারা হাওয়াখালী ইট ভাটার কাছে একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক বেচাকেনা করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের টহল দল সেখানে অভিযান চালালে পুলিশকে লক্ষ করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালায়। পুলিশ ও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। এসময় সবাই পালিয়ে গেলেও মাদক ব্যবসায়ী লিটন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি এলজি, ৩ রাউন্ড গুলি, ৫০০ পিস ইয়াবা ও ২শ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে। নিহত লিটন শেখ উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার মৃত গোলবার শেখের ছেলে। এ সময় পুলিশের ৩ সদস্য আহত হয়। সে ভেড়ামারার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চোরাকারবারির মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। পুলিশ দুই মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

ফেনী প্রতিনিধি : ফেনী সদর উপজেলার দাউদপুল এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে মো. ফারুক (৩৫) নামে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনীস্থ র‍্যাব-৭ এর কোম্পানি অধিনায়ক সাফায়াত জামিল ফাহিম। নিহত ফারুক চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার অলি আহমদের ছেলে। র‍্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে র‍্যাব ফেনী ক্যাম্পের একটি দল দাউদপুল এলাকায় অভিযান চালায়।এসময় মাদক ব্যবসায়ী মো. ফারুকের নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনীর দাউদপুল এলাকায় পৌঁছালে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ফারুক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহীন নিহত হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের সিরাজুলের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শাহীন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালিসহ বিভিন্ন থানায় ১০ থেকে ১৫টি মামলা রয়েছে। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তারুল আলম জানান, রংপুর নগরীর হাজিরহাট ব্রিজের কাছে রাত আড়াইটায় এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে।ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলভার এবং এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শাহীনের মৃতদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার পশাবাড়িতে র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রাজু মিয়া (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি পলাশবাড়ি উপজেলার রায়গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে। র‍্যাব জানিয়েছে, রাত দেড়টায় নিজ গ্রাম থেকে একটি সংঘবদ্ধ দল মাদক পাচারের জন্য বাইরে যাচ্ছিল। তারা বিশ্রামগাছি এলাকায় পৌঁছালে র‍্যাবের টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এসময় র‍্যাব সদস্যদের উপর গুলি চালালে র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে।পরে অন্যরা পালিয়ে গেলেও একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এসময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে র‍্যাব সদস্যরা একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ম্যাগজিন ও ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। গোলাগুলিতে র‍্যাবের দুজন সদস্য আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় র‍্যাব ক্যাম্পের এএসপি হাবিবুর রহমান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আফতাফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি সাজেদুর রহমানসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তারের ৩ ঘণ্টার মাথায় আফতাফুল নিহত হন।পুলিশের দাবি মাদক উদ্ধারে যাওয়ার সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই মাদক ব্যবসায়ী মারা যান।বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার পারুয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আফতাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পীরগঞ্জ থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে রওনা হয়। রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ পুলিশের উদ্ধার টিমটি পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও সড়কের ভাতারমারী ফার্মে পৌঁছলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের এই বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী আফতাফুল ইসলাম নিহত হন।তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারুয়া গ্রামের ভেলসা মোহাম্মদের ছেলে।এসময় মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে আহত হয় বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম সাজেদুর রহমান ও উপ পরিদর্শক খায়রুজ্জামান। তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, ক্রসফায়ারে নিহত ব্যক্তি একজন মাদক ব্যবসায়ী। মাদক সংক্রান্ত ১৫টি মামলাসহ প্রায় ২০ মামলার আসামি তিনি।

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে জামালপুর শহরতলীর ছনকান্দা মাদ্রাসা বালুঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ভোরে বালুঘাট এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে ওই মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসিমুল ইসলামসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।ঘটনাস্থল থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা, ১০০ গ্রাম হেরোইন, একটি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় গ্রেপ্তারের পর ডিবি ও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যবসায়ীর নাম ইসহাক ওরফে ইছা। পুলিশের দাবি, নিহত তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। নিহত ইসহাক একই উপজেলার গাজীপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১১টি মামলা রয়েছে। এসময় ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার চাঁনপুর ব্রিজসংলগ্ন সামারচর এলাকায় গোমতী বাঁধের কাছে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে মঙ্গলবার বিকালে ইসহাককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার সামারচর এলাকা থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার শেষে ফেরার পথে ইছার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তিনি আরো বলেন, এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ইছার সহযোগীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহউদ্দিন, এসআই মারুফ ও কনস্টেবল মিজানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত এই বন্দুকযুদ্ধে গত পাঁচ দিনে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এসব ঘটনার যে বিবরণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আসছে, তা মোটামুটি একই রকম। তাদের দাবি, অভিযানের সময় মাদক চক্রের সদস্যরা গুলি চালালে পাল্টা গুলিবর্ষণ হয়, তাতেই এদের মৃত্যু ঘটে।তবে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে, ধরে নিয়ে হত্যা করা হয় তাদের স্বজনদের।

মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে তা দমন করছে- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, দেশে ক্রমাগতই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে, এটা বড়ই উদ্বেগের বিষয়। মাদক ব্যবসায়ীসহ যেকোনও সন্ত্রাসীকে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেকোনও অন্যায় অপরাধকে বিচারের আওতায় এনে তার শাস্তি দেওয়া উচিত। অথচ সেটা হচ্ছে না।’

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তরুণ সমাজকে সর্বনাশা ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার একটি ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই অভিযানকে। তার দাবি, এই অভিযানে সারা দেশের মানুষ ‘খুশি’ হয়েছে।

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মঙ্গলবার বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। তাদের জীবন বাঁচাতে বন্দুকযুদ্ধে বাধ্য হচ্ছে।‘দেশে কোনও ক্রসফায়ার হচ্ছে না। যা হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধ। মাদকের বিরুদ্ধে কোনও ছাড় নয়, জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ সামনের দিকে এগুচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা বিভাগওয়ারি এ তালিকা নিয়ে অভিযান চলছে। মাদক বিক্রেতারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

মাদক নির্মূলের নামে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে যায়, তখন তারা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এসময় দু-একটি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে বলেছেন।

তবে র‌্যাবের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, থানা পুলিশ এবং বিজিবিকেও নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে দেখা যাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সাজাও দেওয়া হচ্ছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১