মঙ্গলবার ১৭ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদকে বিএনপির রাঘববোয়ালদেরও খোঁজা হচ্ছে : কাদের

আকাশবার্তা ডেস্ক :


বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবাদুল কাদের বলেছেন, ‘আপনাদের মধ্যেও কে কোথায় আছে, কে রাঘববোয়াল, কে চুনোপুটি, তা খোঁজা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কারা জড়িত তা দেখা হচ্ছে। বিএনপির ঢাকা উত্তর সিটির কমিটির বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় দেখলাম। পত্রিকার রিপোর্টে আছে, এর মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী এ কমিটিতে। তাই আপনারাই তো স্বীকার করলেন, সদ্যঘোষিত কমিটিতে মাদকাসক্ত,মাদক ব্যবসায়ী আছে। আর কোথায় কোথায় আছে তা খোঁজা হচ্ছে।’

মঙ্গলবার (০৫জুন) জাতীয় যাদুঘরে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বজলুল হকের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- ঢাবির আর্থ ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ঢাবির উপ উপাচার্য অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান প্রমুখ।

বাংলাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশনগুলো। গতকাল সোমবার (০৪জুন) ইইউ জোটভূক্ত দেশগুলোর ঢাকাস্থ মিশন প্রধানদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আশা করি, কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সন্দেহভাজন অপরাধীদের মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। ঢাকায় ইইউ দেশগুলোর মিশন প্রধানদের সম্মতিতে ইইউ ডেলিগেশন প্রধানের তরফে ওই বিবৃতি দেয়া হয়।

সেখানে বলা হয়, মাদক ও এর চোরাকারবার বিশ্বজুড়েই একটি বড় সমস্যা। বাংলাদেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, সেখানে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে, এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে ১২০ জনেরও বেশি মানুষ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে আইন ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেইসঙ্গে তারা যাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে না করে- তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়া হয় বিবৃতিতে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তদন্ত নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তদন্ত করে, করুক। এটি তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই যথেষ্ট। আমরা এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছি। কে রাঘববোয়াল, কে চুনোপুঁটি খোঁজা হচ্ছে।’ ‘যারা মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে কথা বলে সেই বিএনপিতেও মাদকের গডফাদার আছে, এগুলো খোঁজা হচ্ছে। বিএনপির ঢাকা উত্তর কমিটিতে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী আছে বলে পত্রিকায় বক্তব্য ছাপা হয়েছে, এগুলোও খোঁজা হচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কক্সবাজারের একরামের বিষয়ে সরকার তদন্ত করছে। যেটা যেটা অভিযোগ আসছে, সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা সরকারই তদন্তের বিষয়ে যথেষ্ট। অন্য কারো মাথা ঘামানোর দরকার নেই।’ ‘শেখ হাসিনা অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেন না। তিনি বারবার বলেছেন, এ অভিযানে যদি কোনও নিরীহ মানুষ টার্গেট হয়, যারা দোষী তারা রেহাই পাবে না। তাদেরও বিচার হবে। আমরা আঁটঘাট বেঁধে নেমেছি।’

অভিযানে প্রাণহানি নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে কাদের বলেন, ‘একরাম কার লোক? আপনাদেরও (বিএনপির) কে কে আছে তা খোঁজা হচ্ছে। আর একরামকে যদি অন্যায়ভাবে কেউ মেরে ফেলে সেটারও কিন্তু বিচার হবে, প্রমাণিত হলে।’ ‘আপনাদের (বিএনপি) মধ্যেও কে কোথায় আছে, কে রাঘববোয়াল, কে চুনোপুটি, তা খোঁজা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত।’

কাদের বলেন, দেশের পরিবেশ যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তা নিয়ে রাজনীতিবিদরা কোনও কথা বলছেন না। তারা দূষণ, ভেজাল, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেন না।
‘সবাই তত্ত্ব কথা বলেন, রাজনীতির নানা তত্ত্ব দিয়ে বেড়াচ্ছে সরকার খারাপ, দেশ খারাপ। দেশ আজকে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, পরমাণু ক্লাবে যুক্ত হয়েছে এর কোনও সুনাম নেই।’

‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হাইকোর্টে হলো, আপিল বিভাগেও হলো। তখন কি সরকার হস্তক্ষেপ করেছে? এখন যখন জামিনের আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে তখন তারা তা মেনে ‍নিতে পারছে না। তারা আদালত মানে না।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ‘নিয়ম অনুযায়ী’ হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন বিএনপি না আসলে সময় স্রোত তো অপেক্ষো করবে না। সংবিধান ও গণতন্ত্র কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। ৫ জানুয়ারির ভুলের পুনরুবৃত্তি হলে ভুলের মাশুল বিএনপিকেই দিতে হবে।’

চার বছর আগে বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মুখে ১৫৩ আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। ক্ষমতাসীন জোট বা সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় নেতারা সেসব আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছেন। তবে এবার আর সে ‘ফাঁদে’ ফেলার ‘খোয়াব’ দেখে লাভ হবে না বলে বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন কাদের।

‘বিএনপি না আসলেও তাঁরা ছাড়া বাকি সব নিবন্ধিত দলই আসবে। নিবন্ধিত দলতো ৩৭টি আছে। একটা গেলে আরও ৩৬টা থাকবে। কোনও অসুবিধা আছে?’ ‘বিএনপি ছাড়া সকল নিবন্ধিত দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই ৫ জানুয়ারির মতো আগামী নির্বাচনও তাদের জন্য থেমে থাকবে না।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১