সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে গুলি করে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধানকে হত্যা লক্ষ্মীপুরে ৫ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে ব্রিকফিল্ড মালিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন : চলছে সংস্কার কাজ মান্দারী ক্লাবের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বাবলু, সম্পাদক জাহিদ  লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে : সিইসি

আকাশবার্তা ডেস্ক :


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। তবে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর এবং খুলনার ধারাবাহিকতায় আগামী ২৬ জুন গাজীপুর এবং ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই।বুধবার (০৬জুন) দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে ইভিএম এর ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমান, নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ও অঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানসহ প্রমুখ।

সিইসি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির দাবি অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। তবে কোনো দলকে ভোটে আসতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা ব্যালটের বদলে ভোট নিতে চান ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন, ইভিএমে। সনাতন পদ্ধতিতে ভোটে নানা ঝামেলা হয়। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চান তারা।

স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত। আর গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ বিএনপিকে ভোটে নিয়ে আসা। তবে কোনো দলকে ভোটে নিয়ে আসা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। আর এ বিষয়ে কমিশনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই আগে দেওয়া বক্তব্যই আবার তুলে ধরেন সিইসি।

‘জাতীয় নির্বাচনে আমরা আলাদা কোন উদ্যোগ নিতে পারবো না কোন বিশেষ দলের জন্য। আমরা আকুল আহ্বান জানাই এবং সব সময় জানিয়েছি যেন সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। যাতে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হয়।’ ‘বিএনপি নির্বাচনে আসবে এটা আমরা প্রত্যাশা করি। কিন্তু কোন দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না তা নিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ আমাদের নেই।’

ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্সে ফেলার পুরনো পদ্ধতিকে ‘বিড়ম্বনা’ আখ্যা দিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা আর পুরানো পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিড়ম্বনা পোহাতে চাই না। ২০০৮ সালে এই পদ্ধতি নিয়ে নিরীক্ষা করার পর এর সুফল পাওয়ায় আমরা চাচ্ছি পর্যায়ক্রমে এর ব্যবহার প্রসারিত করার। আমরা চাচ্ছি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার। এজন্য ইভিএম পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম।’

ইভিএম নিয়ে বিএনপির আপত্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নুরুল হুদা বলেন, ‘ভোট নিয়ে অভিযোগ বন্ধ হবে যদি ইভিএম পুরোপুরি চালু হয় তবে। তখন আর ভোট নিয়ে অভিযোগের সুযোগই থাকবে না।’ ‘ইভিএম নিয়ে নানান অভিযোগের কারণে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রদর্শনের মাধ্যমে এটা যে সঠিকভাবে কাজ করে তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি তাদের (অভিযোগকারীদের) বোঝাতে সক্ষম হবো যে ইভিএমের মাধ্যমেই সুষ্ঠু ভোট সম্ভব।’

অন্য এক প্রশ্নে সিইসি দাবি করেন গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে হাতে গোনা দুই একটি কেন্দ্রে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে। ‘তিনটি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে সেই তিনটা কেন্দ্র আমরা বন্ধ করেছি। আরও কয়েকটা কেন্দ্রে অনিয়মের ব্যাপারে আমরা অনুসন্ধান করেছি এবং একটি কেন্দ্রে ত্রুটি পেয়েছি সে কেন্দ্রের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’ ‘তবে সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া সবগুলোতে সঠিকভাবে ভোট হয়েছে। মানুষের ভোটের প্রতিফলন সঠিক হয়েছে।’

‘এখন আমরা শুধু বরিশালে নয়, অন্যান্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব যাতে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়। খুলনায় যে ভুলত্রুটি ধরা পড়েছে সেগুলো কীভাবে শোধরানো যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান, বরিশাল মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। দিনভর এই কর্মশালায় বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলের উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে ভোটে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনসহ নানা দাবি জানিয়েছে। দলটি মনে করে সেনাবাহিনী থাকলে কারচুপি করা সম্ভব হবে না। বিএনপির সেনা মোতায়েন বিষয়ে দাবি পূরণ হলেও ইভিএম বিষয়ে দলটির আপত্তি গুরুত্ব পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশনের কাছে।

এএইচ/আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31