-
- খেলা, শীর্ষ খবর
- বাজছে বিশ্বকাপের দামামা
- আপডেট : June, 9, 2018, 6:16 am
- 454 জন পড়েছেন
স্পোর্টস ডেস্ক :
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত, ১৮-ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি বিশ্বকাপ ট্রফিটি খবরের কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের বাগান থেকে উদ্ধার করে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের গোল হয় মাত্র ১১ সেকেন্ডে। ব্রাজিল ৫ বার বিশ্বকাপ জয় করে আর হাত দিয়ে গোল করে ইতিহাস গড়েন আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা। এরকমই বহু ঘটনা নিয়ে লিখেছেন, জিয়া উল ইসলাম
ফিফা কী : ফিফা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে অবস্থিত। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফা ফুটবলের প্রধান অনুষ্ঠানগুলো বিশেষ করে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন ও তত্ত্বাবধান করে থাকে।
বিশ্বকাপ যেভাবে শুরু : ১৮৭২ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যে বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ছিল ১৮৮৪ সালে শুরু হওয়া ব্রিটিশ হোম চ্যাম্পিয়নশিপ। এ সময়ে গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের বাইরে ফুটবল খেলা বলতে গেলে অনুষ্ঠিতই হত না। সেই শতাব্দীর শেষের দিকে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এটিকে ১৯০০, ১৯০৪ ও ১৯০৬ সালের অলিম্পিকে প্রদর্শনী খেলা হিসেবে রাখা হয় তবে এর জন্য কোন পুরস্কার বরাদ্দ ছিল না। ১৯০৮ সালের অলিম্পিকে ফুটবল প্রথম আনুষ্ঠানিক খেলার মর্যাদা পায়। এফএ’র পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতা ছিল অপেশাদার খেলোয়ারদের জন্য এবং এটিকে প্রতিযোগিতার চেযে প্রদর্শনী হিসেবেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হত। ১৯০৮ ও ১৯১২ দু’টি অলিম্পিকেই গ্রেট ব্রিটেন (ইংল্যান্ড) জয়লাভ করে।
১৯০৪ সালে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঠিক পরেই, ১৯০৬ সালে ফিফা সুইজারল্যান্ডে অলিম্পিকের আদল থেকে ভিন্ন একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। অলিম্পিকে অপেশাদার দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলার পাশাপাশি স্যার থমাস লিপটন ১৯০৯ সালে তুরিনে স্যার থমাস লিপটন ট্রফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এটি ছিল বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্লাবের (জাতীয় দল নয়) মধ্যে একটি চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা। এসব দলের প্রত্যেকে আলাদা আলাদা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিল, এজন্য এই প্রতিযোগিতাকে অনেকে প্রথম বিশ্বকাপ বলেন। এতে ইতালি, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা পেশাদার দল অংশ নেয়। কিন্তু ইংল্যান্ডের দ্য ফুটবল এসোসিয়েশন এই প্রতিযোগিতার সাথে জড়িত থাকতে ও পেশাদার দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য লিপটন পশ্চিম অকল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানান যা ছিল ডারহাম কাউন্টির একটি অপেশাদার দল। পশ্চিম অকল্যান্ড এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালের প্রতিযোগিতায় শিরোপা ধরে রাখতে সমর্থ হয়। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুসারে তাদেরকে চিরতরে ট্রফিটি দিয়ে দেয়া হয়।১৯১৪ সালে, ফিফা অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত ফুটবল প্রতিযোগিতাকে “অপেশাদার বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ” হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয এবং এই প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্ব নেয। এর ফলে ১৯২০ সালের গ্রীষ্ম অলিম্পিকে বিশ্বের প্রথম আন্তমহাদেশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় মিশর ও তেরটি ইউরোপীয়ান দল। এতে বেলজিয়াম স্বর্ণপদক জিতে নেয। উরুগুয়ে ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতায স্বর্ণ লাভ করে। ১৯২৮ সালে ফিফা অলিম্পিকের বাইরে আলাদাভাবে নিজস্ব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৩০ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ পা দেয়া দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে ফিফা তাদের ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হিসেবে নির্বাচন করে।
প্রথম বিশ্বকাপ : ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় স্টাডিও সেন্টেনারিও, মোন্তেবিদেও, উরুগুয়ের স্টেডিয়ামে। ১৯৩২ সালের লস এঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্ম অলিম্পিকে ফুটবলকে না রাখার পরিকল্পনা করা হয় কারণ যুক্তরাষ্ট্রে তখন ফুটবল জনপ্রিয় ছিল না। ফুটবলের পরিবর্তে ওখানে আমেরিকান ফুটবল (রাগবি ফুটবল) জনপ্রিয় ছিল। ফিফা এবং আইওসি’র মাঝে অপেশাদার খেলার মর্যাদা নিয়ে মতবিরোধও দেখা দেয়। ফলে ফুটবল অলিম্পিক থেকে বাদ পড়ে যায়। একারনে ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। নির্বাচিত বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ আয়োজনের অর্থ ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সফরে আসতে হবে। এজন্য কোন ইউরোপীয় দেশ প্রতিযোগিতা শুরুর দুইমাস আগেও দল পাঠাতে সম্মত হয়নি। রিমে শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া, ও যুগোস্লাভিযা থেকে দল আনাতে সক্ষম হন। মোট ১৩টি দেশ এতে অংশ নেয়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সাতটি, ইউরোপ থেকে দু’টি ও উত্তর আমেরিকা থেকে দু’টি। প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় যাতে অংশ নেয় ফ্রান্স ও মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। ফ্রান্স ৪-১ এবং যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ ব্যবধানে এতে জয়ী হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত। ফাইনালে ৯৩,০০০ দর্শকের সামনে উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব লাভ করে।

বিশ্বকাপ ট্রফি : ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পুরস্কারটির নাম। এটিকে মূলত “ভিক্টোরি” নামকরণ করা হলেও সর্ব-সাধারনে “বিশ্বকাপ” বা কোউপ ডু মোন্ডনামে পরিচিত, যা ১৯৪৬ সালে ফিফার সাবেক সভাপতি জুলে রিমের স্মরণে পুনরায় ‘জুলে রিমে ট্রফি’ নামে নামকরণ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ট্রফিটি ছিলো ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালী দলের নিকটে। নাজিদের হাত থকে ট্রফিটিকে রক্ষা করার জন্য ফিফার সহ-সভাপতি ও এফআইজিসি-এর সভাপতি ইতালীর অধিবাসী অট্টোরিনো বারাস্সি খুব সন্তর্পনে এটিকে একটি ব্যাংক থেকে তুলে রোমে নিযে যান এবং একটি জুতার বাক্সের ভেতরে ভরে তার নিজের বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চার মাস আগে ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ তারিখ ওয়েস্টমিনিস্টার সেন্ট্রাল হলে আয়োজিত একটি উম্মুক্ত প্রদর্শনী থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। মাত্র সাতদিন পর খবরের কাগজে মোড়ানো অবস্থায় এটি পিকেল্স নামক একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের আপার নরউড অঞ্চলের শহরতলীর বাগানের পার্শ্বস্থ এলাকা থেকে উদ্ধার করে।বাজিল ১৯৭০ সালে তৃতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করার পর এটি তাদেরকে স্থায়ীভাবে দিয়ে দেয়া হয়। এটিকে রিও ডি জেনিরোতে অবস্থিত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তরে একটি তাকিয়ায় সাজেয়ে রাখা হয় যার সম্মুখভাগ বুলেট প্রুফ কাচ দ্বারা নির্মিত।
১৯ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে কাঠের অংশটি ভেঙ্গে কাপটি পুনরায় চুরি হয়ে যায, চার ব্যক্তিকে দায়ী করা হয এবং জেরা করা হয় কিন্তু ট্রফিটি আর পাওয়া যায়নি।প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায চোর ট্রফিটিকে গলিয়ে ফেলেছে। ১৯৭০ সালের পর আরেকটি নতুন ট্রফির যা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নামে পরিচিত, নকশা প্রণয়ন করা হয়। সাতটি মহাদেশ থেকে আগত বিশেষজ্ঞগণ ফিফাকে ৫৩টি মডেল প্রদর্শন করেন। শেষপর্যন্ত ইতালিয় নকশাকার সিলভিও গাজ্জানিগার তৈরীকৃত নমুনা বিশ্বকাপ ট্রফি হিসেবে গৃহীত হয়। এ নতুন ট্রফিটির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার, ১৮-ক্যারট সোনা দিয়ে তৈরি ও ওজন ৬,১৭৫ গ্রাম। এর ভিত্তি দু’স্তরের মূল্যবান ম্যালাকাইট দিয়ে তৈরি। ভিত্তির নিচের দিকে ১৯৭৪ থেকে আজ পর্যন্ত সকল বিশ্বকাপজয়ীর নাম গ্রথিত করা আছে। এই নতুন ট্রফি বিজয়ী দেশকে স্থায়ীভাবে আর দেয়া হয় না, তা তারা যতবারই জিতুক না কেন। বিশ্বকাপ জযী দল পরবর্তী বিশকাপ পর্যন্ত ট্রফিটি তাদের কাছে রাখতে পারে। এরপর তাদেরকে সোনার প্রলেপ দেয়া নকল বিশ্বকাপ দেয়া হয়। আর্জেন্টিনা, জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি হিসেবে), ইতালি ও ব্রাজিল প্রত্যেকে দ্বিতীয় ট্রফিটি দু’বার করে জিতেছে, ফ্রান্স কেবল একবার এটি জিতেছে। ২০৩৮ সালে এটির ভিত্তিতে নতুন বিজয়ী দলের নাম লেখার মত আর জাযগা থাকবে না। তখন এ ট্রফিটি হযতো বাদ দেয়া হবে।
প্রথম দ্রুততম গোল : বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের গোল হয় মাত্র ১১ সেকেন্ডে। ২০০২ সালে জাপান-কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তুরস্কের তারকা স্ট্রাইকার হাকান সুকুর খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের। তুরস্কের অন্যতম অভিজ্ঞ এই তারকা ফুটবলারের তাঁর ওই দ্রুততম গোলটির আগে ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেললেও গোল পাননি তার একটিতেও। ওই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থানটি দখল করে নেয় তুর্কির।
প্রথম বিজয়ী দল উরুগুয়ে : উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দল হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ের প্রতিনিধি। এখন পর্যন্ত দলটি দুইবার ফিফা বিশ্বকাপ জয় করেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম শিরোপাটি উরুগুয়ের দখলে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের এই ফাইনালে উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে। দলটি তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে ১৯৩০ সালে। সেবার তারা স্বাগতিক ব্রাজিলকে ফাইনালে ২-১ গোলে পরাজিত করে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকেও উরুগুয়ে সফল একটি দল। তারা দুইবার (১৯২৪ ও ১৯২৮) গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক জয় করে। ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওযার আগেই তারা এ দুটি স্বর্ণপদক জয় করে। উরুগুয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল একটি দল। এখন পর্যন্ত দলটি ১৮টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উঁচু মর্যাদা বিশিষ্ট টাইটেল অর্জন করেছে। এর মধ্যে আছে ২ বার ফিফা বিশ্বকাপ, ২ বার অলিম্পিক গেমস, ও ১৪টি কোপা আমেরিকা শিরোপা।
ফিফা বিশ্বকাপ পুরস্কার : প্রতিটি বিশ্বকাপ শেষে খেলোয়াড় ও দলের বিশেষ অর্জনের জন্য কিছু পুরস্কার দেয়া হয়। বর্তমানে ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে: -এডিডাস সোনালী জুতা শীর্ষ গোলদাতার জন্য সাধারনভাবে গোল্ডেন শু বা গোল্ডেন বুট নামে পরিচিত, যা প্রথম দেয়া হয় ১৯৩০ বিশ্বকাপে ; সর্বসাম্প্রতিককালে, রুপালী জুতা ও ব্রোঞ্জ জুতা দেযা হচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরা গোলদাতাকে;এডিডাস সোনালী বল শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের জন্য, যা গণমাধ্যম কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় গোল্ডেন বল নামে পরিচিত, যা প্রথম দেয়া হয় ১৯৮২ বিশ্বকাপে ; রুপালি বল ও ব্রোঞ্জ বল দেয়া হয় ভোটে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরাদের;ইয়েসিন পুরস্কার শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের জন্য প্রথম দেয়া হয় ১৯৯৪ বিশ্বকাপেফিফা ফেয়ার প্লে ট্রফি যে দলের ক্রীড়া আচরণ সবচেয়ে ভাল তাদের জন্য প্রথম দেয়া হয ১৯৭৮ বিশ্বকাপে; মোস্ট এন্টারটেইনিং টিম যে দলের খেলা দর্শকদের সবচেয়ে আনন্দ দেয় তাদের জন্য, দর্শক ভোটে নির্ধারন করা হয় প্রথম দেয়া হয় ১৯৯৪ বিশ্বকাপে;জিলেট শ্রেষ্ঠ তরুণ খেলোয়াড় ২১ বছরের কমবয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা খেলোয়াড়কে দেয়া হয় প্রথম দেয়া হয় ২০০৬ বিশ্বকাপে পূর্ণ-তারকা দল শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বাছাই করে বিশ্বকাপের শেষে একটি দল ঘোষণা করা হয়, যেটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে চালু হযেছে।
প্রথম টেলিভিশনে সম্প্রচার বিশ্বকাপ : ১৯৫৪ সালে বিশ্বকাপ প্রথম টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। বর্তমানে এটি টেলিভিশনে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এমনকি অলিম্পিক গেমসের চেয়েও বেশি মানুষ বিশ্বকাপ দেখে থাকে। ২০০২ বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচের সর্বমোট দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ২৮.৮ বিলিয়ন। ১.১ বিলিয়ন মানুষ সরাসরি এ বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখেছেন যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ছয় ভাগের এক ভাগ। ২০০৬ বিশ্বকাপের ড্র, যা বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলের গ্রুপ নির্ধারন করে, তা দেখেছেন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন দর্শক।
এই বিভাগের আরও সংবাদ