স্পোর্টস ডেস্ক :
রাশিয়া বিশ্বকাপ ফেবারিট তারকা তালিকা থেকে ইতোমধ্যেই হারিয়ে গেছেন মেসি-রোনালদো-ওজিল-মুলার-ইনিয়েস্তারা। টিকে রইলেন নেইমাররা। এবারের হতাশা আর পতনের বিশ্বকাপে পাঁচবারের জয়ী ব্রাজিল এবার দ্বিতীয় রাউন্ডে স্বস্তির জয় পেয়েছে মেক্সিকোর বিপক্ষে। আর এ জয়ের ফলে শেষ আট নিশ্চিত হয় পেলের বংশধরদের।
অন্যদিকে, গতকাল রোস্তভে নকআউট পর্বে শুরুতে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ তে এগিয়ে থেকেও শেষমেষ ৩-২ গোলে হারে ইতিহাস গড়া হলো না জাপানের। এর আগে জাপানের সেরা সাফল্য ছিল ২০০২ ও ২০১০ সালে। সেবার শেষ ১৬ তে অংশ নিয়ে দুবারই নবম স্থান লাভ করেছিল সূর্যদয়ের দেশটি। ২০০২ সালে গ্রুপ পর্বে জাপান ২-২ গোলে ড্র করেছিল এই বেলজিয়ামের সাথেই।
অপরদিকে, সামারায় ব্রাজিলের জয়ের নায়ক ছিলেন দলনায়ক নেইমারই। তিনি যেমন গোল করেছেন তেমনি গোল করিয়েছেনও সতীর্থ ফিরমিনোকে দিয়েও। এটা ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি, আনন্দ আর স্বস্তির সংবাদ। খেলায় ব্রাজিল ২-০ গোলে জয় পায়। ম্যাচের শুরুতেই শক্ত রক্ষণভাগ নিয়ে একাদশ সাজায় মেক্সিকো। কিন্তু প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নেইমারের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। পুরো ম্যাচেই ব্রাজিলের সঙ্গে সমান তালে লড়েছে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে হারানো মেক্সিকো। ম্যাচের দুই মিনিটে আক্রমণ করে বসে মেক্সিকো।
ডান পাশ থেকে ডি বক্সের বাইরে লোজানোর শট মিরান্ডার গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ৫ মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মোট গোলমুখে শট নেয় ব্রাজিল। ২০ গজ দূর থেকে নেইমারের নেওয়া দুর্দান্ত শট রুখে দেন ওচোয়া। মাঝে পুরো আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে মেক্সিকো। তাদের মুহুর্মুহু কাউন্টার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। বারবার ডি বক্সের ভেতর বল পেলেও নিখুঁত ফিনিশিং এবং যোগ্য স্ট্রাইকারের অভাবে গোল বঞ্চিত হতে থাকে মেক্সিকানরা। ম্যাচের ২৫ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর দুজনকে কাঁটিয়ে জোরালো শট নেন নেইমার কিন্তু ওচোয়া আরো একবার বাধা হয়ে দাঁড়ান ব্রাজিলের সামনে। এর ঠিক দুমিনিট পর কৌতিনহোর দূরপাল্লার শট গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৩২ মিনিটে কৌতিনহোর শটকেও রুখে দেন ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে একাই রুখে দেওয়া ওচোয়া। আস্তে আস্তে ম্যাচে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে থাকে ব্রাজিল। ৩৯ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে নেইমারকে ফাউল করে রেফারি ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন। ডি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া নেইমারের ফ্রি-কিকটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হাপ ছেড়ে বাঁচে মেক্সিকো। ম্যাচে আর কোন আক্রমণ না হলে গোলশূন্য থেকেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণের ধার বাড়ায় ব্রাজিল। ৫১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে যেতে থাকেন নেইমার। ডি বক্সের সামান্য বাইরে উইলিয়ানকে দুর্দান্ত ব্যাক পাস দেন তিনি। উইলিয়ান বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে নেইমারকে পাস দিলে দুর্দান্ত গোল করেন নেইমার। বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় গোল। এদিকে, বিশ্বকাপের সবগুলো আসরে খেলা ব্রাজিল রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশ নেয় ২২১টি গোল নিয়ে। ১০৮ ম্যাচ খেলে তাদের জয় ছিল সর্বোচ্চ ৭০টিতে। এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে গিয়ে এখনও পর্যন্ত ব্রাজিল জিতেছে ৩টি আর একটি ড্র করেছে।
জয়ের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি গোল স্কোরিংয়ের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়েছে তারা। আর গতকাল জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধ্যে একের পর এক আক্রমণেও কোনো ফলাফল বের করে আনতে পারেনি শক্তিশালী বেলজিয়াম। অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ জাপান প্রথমার্ধে ঠেকিয়ে রেখেছিল বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট বেলজিয়ামকে। কোনো গোল করতে দেয়নি জাপান তাদের। বরং, উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণদুর্গ কাঁপিয়ে দিয়েছে ব্লু সামুরাইরা। ফিফা র্যাংকিংয়ে দুদলের ব্যবধান ৫৭, বেলজিয়ামের ৩ এবং জাপানের ৬০। তবে মাঠের খেলায় এই ব্যবধান খুব একটা বুঝতে দেননি জাপানিরা। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের অধিকাংশই ছিল বেলজিয়ামের দখলে।
সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেও জাপান ডিফেন্স ভাঙা সম্ভব হয়নি বেলজিয়ামের। রোমেলু লুকাকু কিংবা এডেন হ্যাজার্ডরা দুএকটি শট পোস্টে নিতে পারলেও জাপানের গোলরক্ষক ইজি কাওয়াসিমা দারুণ ক্ষীপ্রতায় সে বলগুলো ঠেকিয়ে দিলেন। জাপানও বেশ কয়েকবার উঠে এসেছিলেন আক্রমণে। বক্সের মধ্যে বলও নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু জাল খুঁজে পায়নি তাদের চেষ্টাগুলো। দুটি ভালো শট ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবাত কুর্তোস। ২-০ তে পিছিয়ে পড়া বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডরা বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শেষ হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এ জয়ে পৌছে যায় শেষ আটে অন্যদিকে, জাপানের বিদায় ঘন্টা বাজে।
নকআউট পর্বের ম্যাচ বলেই আগের ম্যাচের একাদশে একটি-দুটি নয়, দশ-দশটি পরিবর্তন এনেছিলেন বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। রোমেলু লুকাকু, এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনারা ফিরেছেন একাদশে। প্রথমবারের মতো একাদশে সুযোগ পান রক্ষণ-স্তম্ভ ভিনসেন্ট কোম্পানি। প্রথমার্ধে বেলজিয়ামই বেশি আক্রমণ করেছে। ৫৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে ১০টি শট নিয়েছেন লুকাকু-কারাসকোরা। এর মধ্যে গোলপোস্টে ছিল দুটি শট। তার জবাবে জাপান ৪টি শট নিলেও গোলপোস্টে রাখতে পেরেছে মাত্র একটি শট। আগামি ৬ জুলাই (শুক্রবার) কাজান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টা কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।