আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নতুন নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষার সময় আবারো বাড়লো। অনিশ্চয়তা কাটেনি কারা আসছেন নেতৃত্বে, কবে নাগাদ ঘোষণা হতে পারে কমিটি। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের বৈঠকে নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি। বরং পদপ্রত্যাশীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, হট্টগোলে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিব্রত হয়েছেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবার পরপরই আলোচনায় উঠে আসে কথিত সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের বিষয়টি আলোচনায় আসায় ক্ষুব্ধ হন ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাদের ত্যাগ, পরিবারের আদ্যোপান্ত, আগামীদিনের রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম মাথায় রেখেই নতুন নেতৃত্ব এগিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
পরে ১১ মে সম্মেলনের উদ্বোধনকালে বিদায়ী কমিটির মেয়াদ ৯ মাস বেশি অতিবাহিত হওয়ায় কেউ যাতে বাদ না পড়ে, সেজন্য ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ ২৭ বছর বয়সসীমা ২৮ বছর পর্যন্ত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনকালে ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই সমঝোতার মাধ্যমে তোমরা নেতৃত্ব নিয়ে এসো। তোমরা নিজেরা বসে সমঝোতার মাধ্যমে করো, সেটাই আমরা চাই। তোমরা এমন নেতৃত্ব আনবে যারা সংগঠনটি সঠিকভাবে পরিচালনা করবে। সেক্রিফাইস করতে শিখতে হবে, স্যাক্রিফাইস না করলে কিন্তু কিছু অর্জন করা যায় না। অর্জন তখনই করতে পারবে যখন কিছু দিতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে দাখিলকৃত মনোনয়ন ফরম নিয়ে বৈঠকে বসে গঠিত নির্বাচন কমিশন। পরে সভাপতি পদে ৬৬ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬৯ জন বৈধ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩২৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ১২ মে কাউন্সিল অধিবেশনে ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির পদপ্রত্যাশীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী- ভোটে নয়, সমঝোতার কমিটির পক্ষে মত দেন উপস্থিত ছাত্রনেতারা।
পরে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনের পর কমিটি ঘোষণার নিয়ম থাকলেও শীর্ষ পদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে সময় নেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রার্থীদের রাজপথে ত্যাগ, মেধাবী, ক্লিন ইমেজ এবং পরিবার সম্পর্কে অধিকতর খোঁজ নেয়া হয়েছে।
আওয়ামী পরিবারের বাইরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কারো যাতে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বলন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তালিকা দেওয়ার পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ওঠে। সম্ভাব্য ছাত্রনেতাদের ব্যক্তিগত ও পরিবার সম্পর্কে নেতিবাচক নানা তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভেসে বেড়াচ্ছে। একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী শিবিরের যোগাযোগ এবং আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধীরা অভিযোগ ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।
এসব অভিযোগ ওঠার পর ঐসব প্রার্থী সম্পর্কে আরও অধিকতর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা আরও বিলম্বিত হয়। এরপর প্রায় দুমাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি পায়নি সংগঠনটি। একাধিক বার গণভবনে ডাকার গুঞ্জন শোনা গেলেও প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। পরে গত ৪ জুলাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণভবনে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে নতুন কমিটি ঘোষণার কথা শোনা গেলেও হয়নি। বরং অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
বৈঠকে ছাত্রলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য শোনেন শেখ হাসিনা। সকল বক্তাই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নিজের ত্যাগ ও পরিবারে আওয়ামী লীগের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের বর্তমান নেতাদের সমালোচনা করেন। বৈঠকে একপর্যায়ে পক্ষ-বিপক্ষের সৃষ্টি হয়। একপক্ষ আরেক পক্ষের বক্তব্যের সময় হট্টগোল ও মিথ্যা, ভিত্তিহীন বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে এসএসএফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিব্রত হয়েছেন বলে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে হট্টগোলের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা জানতে চান, নেতা নির্বাচনে তাদের কোনো পছন্দ আছে কিনা? তখন সকলেই বলেন না, নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি সবার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়েছি। তবে কমিটি ঘোষণা করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। বৈঠকের হট্টগোলে বিষয়ে ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
তথ্য মতে, ছাত্রলীগের নতুন কমিটি চূড়ান্ত থাকলেও নেতাদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে কমিটি ঘোষণা হয়নি। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দেয়া বক্তব্য আরেকটু যাচাই-বাছাই করে কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর যে কোনো দিন কমিটির ঘোষণা হতে পারে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতি এবং জাকির হোসাইন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ