আকাশবার্তা ডেস্ক :
দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড আলেক্সান্ডার কার্লাইলকে ভারতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো হাত নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার (১৩জুলাই) দুপুরে গাজীপুরের চন্দ্রায় আগামী কোরবানির ঈদের সড়ক প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে এসে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ভারতে কে আসবে কে আসবে না, ভারতে আসতে কার অনুমতি লাগবে, কীভাবে অনুমতি নিতে হবে, এটা ভারতের নিজেদের নিয়মকানুনের বিষয়। ভারতের নিজেদের সিদ্ধান্তের বিষয়। ভারত কাকে আসতে দেবে, কাকে দেবে না। ভারত থেকে বলা হয়েছে, ফরেন অফিস (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) থেকে যে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস, কাগজপত্র এগুলোর ঘাটতি রয়েছে এবং ঘাটতি থাকার কারণে লর্ড সভার সদস্য কার্লাইলকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এখন এই অনুমতির ব্যাপারটা সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকারের বিষয়। এখানে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা বা বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা এখানে নেই। এটা ভারতের ইন্টারনাল ম্যাটার (অভ্যন্তরীণ বিষয়)। এখানে বাংলাদেশ সরকার কেন এ ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করবে?’
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আমি আবারও আশ্বস্ত করতে চাই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কর্তৃত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের যে নিয়মকানুন, আচরণবিধি আমরা সরকারি দলের পক্ষ থেকে আমরা সব মেনে চলব। এবং আগামী তিনটি নির্বাচন—রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনও নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা হবে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে অন্যান্য বছরের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এতো বেশি পুলিশ মোতায়েন করার প্রয়োজন পড়বে না। কারণ এবার রাস্তা অনেক প্রশস্ত করা হয়েছে এবং ২৩ ব্রিজের উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে পারবে। ঈদে মহাসড়কের পাশে কোনো পশুর হাট বসবে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ফিটনেসবিহীন পশুবাহী গাড়ী যাতে সমস্যায় পড়তে না হয় তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সিটি নির্বাচন নিয়ে সেতুমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুসারে নির্বাচন হবে। সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। এছাড়া সরকার দলের পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাসেক প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার জিকরুল হাসান, ঢাকা বিভাগীয় সড়ক ও জনপথের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খানসহ সড়ক বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার যু্ক্তরাজ্যের উচ্চকক্ষ পার্লামেন্ট হাউস অব লর্ডসের সদস্য ও আইনজীবী লর্ড আলেক্সান্ডার কার্লাইলের ভিসা বাতিল করে ভারত সরকার। ফলে নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে যেতে হয় তাঁকে।
এ বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘তাঁর (লর্ড কার্লাইল) ভিসার আবেদনে উল্লিখিত সফরের উদ্দেশ্যের সঙ্গে তাঁর অভীষ্ট তৎপরতার অসংগতি রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সে কারণে পৌঁছানোর পর তাঁকে ভারতে প্রবেশে নাকচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এনডিটিভি জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার লর্ড কার্লাইলকে ভিসার অনুমতি দেয়নি। সে কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঢাকায় যাওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি খালেদা জিয়ার মামলার জটিলতা তুলে ধরতে চান।
গত ২০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তাঁর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনি পরামর্শ দেবেন ব্রিটেনের আইনজীবী লর্ড কার্লাইল। এসব মামলার বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলা হচ্ছে কি না, সেদিকে লক্ষ রাখবেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলে যুক্ত হওয়ার সম্মতি জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন লর্ড কার্লাইল। সেইসঙ্গে মামলার সব বিষয় গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানিয়েছেন এই আইনজীবী।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলায় আইনি পরামর্শ দেওয়ার জন্যই ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে অনুরোধ করা হলে তিনি আমাদের আইনজীবী প্যনেলের সঙ্গে যোগ দিতে সম্মতি জানান। তিনি এখন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলায় পরামর্শ দেবেন। তিনি দীর্ঘ অনেক বছর ধরে আইনি পেশা ও রাজনীতির সঙ্গে নিয়োজিত আছেন। প্রখ্যাত এ আইনজীবী হাউস অব লর্ডসের সদস্য।’
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। তাঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ