নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে একের পর এক ধরাসায়ী হচ্ছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। গত রমজান মাসের শুরু থেকে সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ ও র্যাব। এতে মাদক ব্যবসায় জড়িতরা গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে অনেকে নিহত হয়। চলমান এই মাদক বিরোধী অভিযানে টিকতে না পেরে এখন কৌশল পাল্টে ফেলেছে মাদক ব্যবসায়ীরাও। আত্মগোপনে থাকা অথবা কারাগারে আটক থাকা মাদক বিক্রেতারা তাদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে স্ত্রী ও সন্তানদের মাধ্যমে। এ কাজে অন্যান্য নারী ও শিশুদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুইদিনে জেলার চন্দ্রগঞ্জে এককেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের এক সহযোগিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরআগে রামগঞ্জ পৌরসভার রতনপুর ফিসারী এলাকা থেকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ মনি বেগম নামে এক মাদক সম্রাজ্ঞীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার বিকালে বেগমগঞ্জের ভবভদ্রী এলাকা থেকে নুর ইসলাম বাবু (৩১) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। সে ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে বলে র্যাব-১১ এর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্প থেকে জানানো হয়।
এছাড়াও জেলার রায়পুরে গত সপ্তাহে সুরাইয়া সোহেল রানা নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। গত দুইমাসে গ্রেপ্তার হয়েছে অন্ততপক্ষে দুই শতাধিক। গ্রেপ্তারকৃত এসব ব্যক্তিদের পূর্বের গ্রেপ্তারী পরোয়ানাসহ নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আগেই গ্রেপ্তার হওয়া বেগমগঞ্জের তলবসেন বাড়ির লোকমানের মাদক ব্যবসা এখন নিয়ন্ত্রণ করছে তার স্ত্রী ও ছেলে। ভবভদ্রীর সাহাদাতের ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তার একান্ত বিশ্বস্ত রুবেল। চন্দ্রগঞ্জের দেওপাড়া গ্রামের পিচ্চি মানিকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তার স্ত্রী ও এলাকার কিছু শিশু-কিশোর। ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালার মত ২/৪/৫ পিস পরনের লুঙ্গির ঘোঁছায় রেখে বিক্রি করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
অভিজ্ঞ মহলের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চললেও বিভিন্ন কৌশলে এখনো চলছে মাদক বেচাকেনা। এই জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও অভিযানের কৌশল পাল্টাতে হবে। সমূলে মাদকের বিষবৃক্ষ উৎপাটন করতে হলে অভিযানের ধরণ পাল্টাতে হবে এবং নারী ও বখে যাওয়া শিশুদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারী বাড়াতে হবে। না হলে মাদক বিরোধী অভিযানের লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।