বুধবার ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

ব্যাপক শোডাউনে আ.লীগ মাঠে বিএনপি

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে উত্তাপের হাওয়া শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার ১৩৩তম দিন পর এই প্রথম গতকাল রাজপথে মাঠের কর্মসূচির মুখ দেখলো দলটি। এদিকে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ভোটের রাজনীতির নানা সমীকরণের বার্তা দেবেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাজধানীতে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যাপক সংবর্ধনা দিয়ে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে দলটি। এজন্য রাজধানী সেজেছে বর্ণিল সাজে।

অপরদিকে গতকাল বিএনপির সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও রাজপথে নেমে আসেন জোটের শরিক দল। দলের এই সমাবেশ রূপ নেয় জনসমুদ্রে। বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থক হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, মাথায় হেডার ও ব্যাজ পরে হাজির হন। তাদের স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পল্টন সড়ক। খালেদা কারাবন্দি হওয়ার পর বিএনপি এতদিন মানববন্ধন, অবস্থান, অনশন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদান, কালো পতাকা প্রদর্শন, লিফলেট বিতরণসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এলেও এই প্রথম মাঠের সরব আন্দোলনের চরিত্রে দেখা গেলো দলটিকে।

অতীতের কর্মকাণ্ডে কেউ মাফ পায়নি ক্ষমতাসীন সরকারকে এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে। সমাবেশ থেকে দলের শীর্ষ নেতারা ঘোষণা দেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকতে হবে। সমাবেশ থেকে অভিনন্দন জানানো হয় গতকাল ৮ বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটকে। কোটা আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগের তা-ব খান সেনাদের ভূমিকার চেয়েও ভয়াবহ বলেও দাবি বিএনপির। নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দল, পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দলটির শীর্ষ নেতারা সমাবেশ থেকে গণঅভ্যুত্থানের মতো আন্দোলনের হুমকি প্রদান করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের রাজপথে আন্দোলনে প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয় সমাবেশ থেকে।

সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না সময় এসেছে গণঅভ্যুত্থানের  : মোশাররফ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জনগণের ওপর এই সরকারের কোনো আস্থা নাই। তাই ২০১৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। দেশের সকল স্তম্ভ ভেঙে দিয়েছে সরকার। বিচার বিভাগ, প্রশাসন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে তারা আবারো গায়ের জোরে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু তা হতে দেবো না। যতোই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশের মানুষ কোনো নির্বাচন হতে দেবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন এবং গণতন্ত্র একসূত্রে গাঁথা।’তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। খালেদা জিয়া এবং সকল নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে এবং কিছুদিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না। তাই সময় এসেছে গণঅভ্যুত্থানের। এই স্বৈরাচার সরকারের অবসান করবে ঐক্যবদ্ধ জনগণ। আমরা মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।

কেউ মাফ পায়নি  : আব্বাস 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচন যাবো। কেউ যদি মনে করেন, ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন তাহলে ভুল করবেন। আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাবো। এ ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।মির্জা আব্বাস বলেন, এদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকেছে তা কারো বুঝতে বাকি নেই। কারণ ঢাকা মহানগরের এক নেতা বরিশালের পুলিশ কমিশনারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েছে। তাহলে দেশের অবস্থা কী আপনারা বোঝেন। সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, যারা নির্যাতন করছে তারা কেউ মাফ পায়নি। তাই জনগণকে নির্যাতন করবেন না। আমরা এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো। এর বাইরে কোনো নির্বাচন হবে না। আর ভোটের আগে এ নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই পুনর্গঠন করতে হবে।

শিশু আলফাজও খালেদার মুক্তি চায়! 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলো চার বছরের ছোট্ট শিশু আলফাজ হোসেনও। ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার ভয় নাই’ সেøাগান দিতে দিতে সে তার বাবা ও দাদার হাত ধরে বংশাল থেকে গতকাল বিএনপির সমাবেশে যোগ দেয়।মঞ্চের সামনের সারি থেকে উপস্থিত নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের নজর কাড়ে সে। উপস্থিত সাংবাদিকরা আলফাজকে যখন জিজ্ঞেস করলো তুমি কেন এখানে এসেছো শিশু আলফাজ বলে, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, তার কোনো ভয় নেই, আমি তার সঙ্গে আছি।’ শিশুটির বাবা আক্তার হোসেন বলেন, দুপুরে জুমার নামাজের আগে বাসা থেকে বের হবো সমাবেশে আসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমার ছেলে আলফাজ সমাবেশে আমার সঙ্গে আসার জন্য জোর করে। একপর্যায়ে সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। এই দেখে আমি ওর মাকে বলি রেডি করে দিতে। তিনি আরও বলেন, বংশাল থেকে সমাবেশে আসার পথে অনেকের স্লোগান ও মিছিল আমার ছেলে শুনেছে। সেগুলো এখন খুব স্পষ্টভাবে সে বলছে। শিশুটির দাদা এমএ কাইয়ুম বলেন, ‘আমি বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। আমি ও আমার ছেলে সমাবেশে আসবো এমন সময় আমার নাতিও সমাবেশে আসার জন্য বায়না ধরে। উপায় না দেখে নাতিকে নিয়েই সমাবেশে এলাম।

সমাবেশে অর্ধশত মাইক ব্যবহার
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করার জন্য গত পাঁচ মাসে বেশ কবার অনুমতি চায় বিএনপি। কিন্তু কিছুতেই মিলছিল না পুলিশি অনুমতি। অবশেষে অনুমতি পায় তারা। আর এই অনুমতি পাওয়ার পর ‘বড়’ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয় দলটি। সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিদ্যুৎ ও ল্যাম্পপোস্টের খুটিতে প্রায় অর্ধশত মাইক লাগায় বিএনপি। নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনের সড়কের পূর্বদিকে পল্টন মসজিদ এবং পশ্চিম দিকে ঢাকা ব্যাংক ভবন পর্যন্ত মাইক লাগানোর মৌখিক অনুমতি পায় তারা। অনুমোদিত এই জায়গাটুকুতেই সমাবেশ করার কথা বলা হয় বিএনপিকে। দীর্ঘদিন পর সমাবেশ করার অনুমতি পেয়ে তা পুরোপুরি কাজে লাগায়। ২৪ ঘণ্টার প্রস্তুতিতে ‘বিশাল’ জনসভার আয়োজন করে তারা। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ জানান, নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনের সড়কের পূর্বদিকে পল্টন মসজিদ এবং পশ্চিম দিকে ঢাকা ব্যাংক ভবন পর্যন্ত মাইক লাগানোর মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পর অনুমোদিত এই জায়গাটুকুতেই সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ‘অনুমতি পাওয়ার পর ফোন করে বিএনপির সব ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। আমরা যেমনটি প্রত্যাশা করেছিলাম তার অনেকটাই পূরণ হয়েছে।’

জনসমুদ্র নয়াপল্টনে সমাবেশে নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটেনি  : প্রশাসন 
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত বিএনপির সমাবেশের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল প্রশাসন। বিএনপি অফিস ও নাইটিংগেল মোড়, ফকিরাপুল মোড়সহ এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন করা হয়। মতিঝিল জোনের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন জানান, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি চোখে পড়েনি। যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করতো তাহলে কঠোর ব্যবস্থা ছিলো।’ পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। সাদা পোশাকেও পুলিশ রয়েছে। নিরাপত্তার কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।’ সমাবেশে আরও উপস্থিত ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হাসান মিন্টু, সহ-সভাপতি নাজমুল, জহুরুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১