নিজস্ব প্রতিবেদক :
সমাজের বিত্তবান সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি একটি আকুল আবেদন মাসুমকে বাঁচাতে সবাই এগিয়ে আসবেন। সদা হাসোজ্জল মাসুমের দুটি কিডনি ড্যামেজ। এই তো সেদিন অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসতো যে মাসুম, আজ তার নিজের জীবনই সঙ্কটাপন্ন। মাসুমের হাসিমাখা মুখখানি আমরা কী আর দেখতে পাবনা? দরিদ্র বাবার সন্তান মাসুম লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম পাঁচপাড়া গ্রামের (ছমর উদ্দিন মিছাবের বাড়ি) আহসান উল্যাহর ছেলে।
জানা যায়, চলতি ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে খারাপ করে মাসুম আলম। এতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে “ইউনিক পাওয়ার” নামীয় ঘাস নিধনের জন্য ব্যবহার্য্য এসিড পান করে সে। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। কিন্তু বিষয়টি সে গোপন রাখে।
এরপর মাসুমকে নোয়াখালীর মাইজদী প্রাইম হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. মাসুদ রানাকে দেখালে তিনি ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে ICU তে রাখতে পরামর্শ দেন কিন্তু ICU তে সীট না পাওয়ায় হতাশায়গ্রস্ত হয়ে পড়েন সবাই।
সোহরাওয়ার্দী হসপিটালের ডাক্তার জানান, মাসুমের কিডনি দুটোই ড্যামেজ! লিভার খারাপ! মুখমন্ডল এসিডে ক্ষত হয়ে গেছে। বাঁচার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীন। পরে মাসুমের অভিভাবকরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে মাসুমের সহপাঠীরা এবং এলাকার লোকজন তাকে দেখতে বাড়িতে ভীড় জমায়।
এ সময় মাসুমের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ চালাতে তার পরিবারের পক্ষথেকে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। এ সময় মাসুমের শুভাকাঙ্খি আব্দুর রহমান, কামাল উদ্দিন, আরিফ উদ্যোগ নিয়ে চাঁদা তুলে তাকে আবারো প্রাইম হসপিটালে নিয়ে যান। এরপর নোয়াখালী সদরে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. মাসুদ রানা ও ডা. সালাহ্উদ্দিন মামুনের ত্বত্তাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মাসুম। তবে, বর্তমানে আগের তুলনায় তার অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অসহায় মাসুমের চিকিৎসার উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, অন্যের জীবন বাঁচাতে যে মাসুম সবসময় এগিয়ে আসতো, আজ তার জীবন বাঁচাতে সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। মাসুম এ পর্যন্ত জীবন সঙ্কটাপন্ন অন্তত ৫ জনকে রক্ত দিয়ে সাহায্য করেছেন। আজকে আমরা তার চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।
মাসুমের জন্য সাহায্য পাঠাতে নিন্মোক্ত বিকাশ নাম্বারগুলো দেওয়া হলো : বিকাশ-০১৭২২৯৩২২৬৩ (আবদুর রহমান), ০১৮৩১৯২১৩২৭ (কামাল উদ্দিন), ০১৭৩৩৪২৮৪১১ (আরিফ)।