আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে গতকাল রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহীতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের এএইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। বরিশালে একই দলের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সিলেটে বিএনপির প্রার্থী ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে সেখানে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও স্থগিত ২টি কেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৭ অর্থাৎ ব্যবধানের চেয়ে স্থগিত ভোট বেশি হওয়ায় সেখানে মেয়র পদে নাম ঘোষণার ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সেখানে মেয়র পদে এখনও কারও নাম ঘোষণা হয়নি।
খায়রুজ্জামান লিটন এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৯২ ভোট। এ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান এই সিটির ১৩৮টি ভোট কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেন।
এদিকে, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান রাত ১২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মোট ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ পেয়েছেন এক লাখ সাত হাজার ৩৫৩ ভোট। বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩৫ ভোট। বাকি ১৬ কেন্দ্রের মোট ভোটারের চেয়ে বেশি ভোটে সাদিক আবদুল্লাহ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এ কারণে সাদিক আবদুল্লাহকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিটিতে বিএনপির প্রার্থী ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার চার ঘণ্টা পর ভোট বর্জন করেন।
সিলেটে বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট, আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। সেই হিসাবে বিএনপির প্রার্থী ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে সেখানে স্থগিত হওয়া দুই কেন্দ্রের ভোটসংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৭। তাই সেই দুই কেন্দ্রের ভোট না হওয়া পর্যন্ত নতুন মেয়রের নাম ঘোষণার ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হতে পারে।
অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে পাওয়া ভোটের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। ভোট ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলই চূড়ান্ত। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফলে পার্থক্য হয় না। কখনো কখনো প্রাপ্ত ভোটের সামান্য হেরফের হয়, যদিও তা জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখে না।
জানা যায়, তিন সিটিতে প্রায় ৯ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ভোটকেন্দ্র দখল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের ভোট কারচুপির অভিযোগ থাকলেও বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা এককথায় এটিকে সর্বকালের ভোট ডাকাতির নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বলেছেন, সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পরাজিত হওয়ার কারণেই বিএনপিসহ অন্যরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে তিন সিটির ভোট নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। বিএনপি এই নির্বাচনকে নীলনকশার নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। বিএনপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছে আ.লীগ।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ