নিজস্ব প্রতিবেদক :
চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ এএইচএম আব্দুল হাইকে হাইকোর্টের নির্দেশে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া তাঁকে লিখিতভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। এরআগে সকাল ১০টায় হাইকোর্টের আদেশের কপিসহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আসেন মাওলানা আব্দুল হাই। এ সময় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দাবি করে একটি পক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বাধা প্রদান করেন। এতে মাওলানা আব্দুল হাই’র পক্ষে মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা মাওলানা আব্দুল হাই’র পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৫ সালের ২০ মার্চ একটি স্বার্থান্বেসী মহলের ইন্ধনে বিভিন্ন অনিয়ম, অপবাধ এবং বিক্ষোভের মুখে অধ্যক্ষ এএইচএম আব্দুল হাই মাদ্রাসা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বিধিবর্হিভূত ভাবে তাঁকে অধ্যক্ষ পদ থেকে বরখাস্ত করেন। পরে অধ্যক্ষ আব্দুল হাই তাঁর বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। এরপর দীর্ঘ ১৩ বছর আইনি মোকাবেলা শেষে উচ্চ আদালত মাওলানা এএইচএম আব্দুল হাইকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের আদেশ দেন। উক্ত আদেশের ভিত্তিতে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর শনিবার অধ্যক্ষ পদে তাঁর দায়িত্ব বুঝে নিতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে বিপুল উত্তেজনা, হই হট্টগোল এবং বিক্ষোভ দেখা দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ছাত্রদের দাবির মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া অধ্যক্ষ হাইকে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অধ্যক্ষ আব্দুল হাইকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।

উল্লেখ্য, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ ‘চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসা’টি ১৯শ’ সালে প্রতিষ্ঠা করেন, মৌলভী আব্দুল হামিদ (বুড়া হুজুর)। মাওলানা আব্দুল হাই দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এতদাঞ্চলে ভালো ফলাফল এবং পড়ালেখার মানোন্নয়নের দিক থেকে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে মাদ্রাসাটি। ওই সময় হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর কলকাকলীতে মুখরিত ছিল এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বিদায় নেওয়ার পর মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ এবং ফলাফল মুখ থুবড়ে পড়ে। তাঁর যোগদানের মধ্যদিয়ে মাদ্রাসাটি আবারো পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে আসবে বলে অভিভাবক ও এলাকাবাসী মনে করেন।