আকাশবার্তা ডেস্ক :
সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, রাতের অন্ধকারে গোপন বৈঠক, আমরা জানি কোথায় কারা কারা বৈঠক করছেন। টেমস নদীর পাড়ে কখন কার সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে; ব্যাংকক, দুবাইয়ে বসে কারা কোন গডফাদারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। দেশেও রাতের অন্ধকারে বসে কোন বৈঠক হচ্ছে সব আমাদের নলেজে আছে। ধৈর্য ধরে আছি, মনিটর করছি। আরও খোঁজ খবর নিচ্ছি। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশে যখন শান্তিময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে তখন এক-এগারোর কুশীলবরা রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। বিএনপি ওয়ান-ইলেভেনের সেই কুশীলবদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন কোনও ষড়যন্ত্রের জাল বোনা যায় কিনা, সেই গোপন চক্রান্ত করে যাচ্ছে।’
বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা সরকার হটানোর চক্রান্তের অংশ হিসেবে ঢাকা অচলের কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা অচল করার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ অচল করতে চেয়েছে। কিন্তু তাদের অতীদের সব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। এই অপপ্রায়সও ভেস্তে যাবে। ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার পথে। এখানেও তাদের মিশন ফেল। আর কত ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করবে?’
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি (মওদুদ) বলছেন, অতি দ্রুত দেশের রাজনৈতিক চিত্র বদল হবে। কিভাবে বদল হবে, কেন বদল হবে, কি কারণে বদল হবে? ‘মওদুদ সাহেবদের কি ম্যাজিক আছে যে ম্যাজিক দিয়ে বদল করবেন? বদল হবে বাংলাদেশের জনগণের রায়ে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু অন্য কোনো উপায়ে বদল হওয়ার যে খোয়াব দেখছেন, এই রঙিন খোয়াব অচিরেই কর্পুরের মত হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।’
কাদের বলেন, আপনারা বলছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেষ। কিভাবে শেষ, রাতের অন্ধকারে কী বৈঠক করছেন? সরকার কে বদলাবে, জনগণ? জনগণ কী আপনারে চায়? নয় বছরেও কী বুঝেন না। দিন শেষ, আজকে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির দিন শেষ। ‘সময় শেষ আজকে বিএনপির ছদ্মবেশী রাজনীতির সময় শেষ। ধোকা দিয়ে বোকা বানাবেন, বাংলাদেশের জনগণ এতো বোকা নয়!’
আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সময়টা ভালো নয়, আমি আমাদের নেতৃবৃন্দের কাছে, আমার সহকর্মীদের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো, যার যার সীমানা পেরিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেবেন না। সরকারকে বিব্রত করে এমন বক্তব্য কেউ দেবেন না, যাতে দল ও সরকার বিভ্রত হয়। এমন কোনো কথা দয়া করে কেউ বলবেন না। হোম ওয়ার্ক করে কথা বলবেন, পলিসির ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে তারপর কথা বলবেন, ফ্রি স্টাইলে কথা বলা যাবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে নিজের ছবি দিয়ে আত্মপ্রচার বন্ধ করতে হবে। ছবি প্রদর্শনের এই প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন। বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করে, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে আত্মপ্রচারে যারা নিমগ্ন তাদের রাজনীতির কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে। একজন এমপি তার বাড়ি ঢাকা থেকে অনেক দূরে একটি দ্বীপে, তিনিও ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছবি দিয়ে পোস্টার বিলবোর্ড করেছেন। কেন? এটা কি তাদের নির্বাচনী এলাকা। দয়া করে এইসব প্র্যাকটিস বন্ধ করুন। এইসব ছবি প্রদর্শন করে নমিনেশন পাওয়া যাবে না।
‘বঙ্গবন্ধু একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, মন্ত্রীরা বিদেশ যেতে চায়। নেতারা কথা বেশি বলে কাজ তেমন করে না। বর্তমানে নেতাদের বঙ্গবন্ধুর সেই উক্তি স্বরণ করার অনুরোধ করছি। আমি আশা করি আমাদের সরকারের পদে আমরা যারা মন্ত্রী আছি, নেতা আছি আমাদের সবার মনে রাখা উচিৎ।