বিশেষ প্রতিবেদন :
পরিবারের সঙ্গ ছাড়া এবারো খালেদার ঈদ কাটবে জেলে! দুটি মামলার জামিন না হওয়ায় ৭৪ বছরে পা রাখা সাবেক তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রীকে চতুর্থবারের মতো কারাগারেই ঈদ করতে হবে। এর আগে ১/১১ সরকারের সময় রোজার ঈদ ও কুরবানির ঈদ কেটেছিল তার সংসদ ভবন এলাকার সাব জেলে। তখন কারাগারে তার পাশের রুমেই দুই ঈদ কাটিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে নাজিম উদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। ঈদুল ফিতরের সময়ও কারাগারে ছিলেন তিনি। পরিবার-পরিজন ছাড়াই তাকে সেই ঈদ কাটাতে হয় এবং কারাগার থেকেই গত ঈদে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
এরআগে ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর যখন প্রথম কারাগারে ঈদ কাটান তখন তার ছেলে তারেক রহমান, আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও তাদের সন্তানরা দেখা করতে পারলেও এবার সেটা হচ্ছে না। যেটা গত ঈদেও হয়নি। কারণ তারেক রহমানসহ তার দুই ছেলের তিন সন্তান এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। আর আরাফাত রহমান কোকো দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের মুখ দেখেই ঈদ সময় পার করতে হবে তাকে।
ঈদের আগে খালেদা জিয়ার জামিন মিলছে না এমন ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ধারণা করছি ঈদের আগে হয়তো খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না তবে আর দুটি মামলায় জামিন মিললে তার আর মুক্তিতে কোনো বাধা থাকবে না।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দলীয় নেত্রীকে কারাগারে রেখে ঈদ পালন করাটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। যদিও তিনি অত্যন্ত দৃঢ় মনোবলের। এ বিষয়ে অভ্যস্থ। কিন্তু আমাদের মানতে কষ্ট হয়। মিথ্যা মামলায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকার খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখেছে। সরকার চায় বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে। কিন্তু তা সম্ভব হবে না। আমরা তাকে মুক্ত করবোই। তাকে মুক্ত করে তবেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, যারা আদর্শিক রাজনীতি করে, মানবতার পক্ষে কাজ করে, জনগণের অধিকার নিয়ে কাজ করে যুগে যুগে এমন ব্যক্তিদের উদাহরণ বহু রয়েছে। তেমনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও ইতিহাস হয়ে থাকবেন। খালেদা জিয়াকে এই সরকার অন্যায়ভাবে আটক রেখেছে। আমরা মর্মাহত! পুরো জাতি মর্মাহত! এই সরকারকে একদিন এর মাশুল দিতেই হবে। মনে রাখা উচিত, আমরা এখনো ঐতিহ্য থেকে বের হতে পারিনি। সেই ঐতিহ্য হিসাব করলে এই সরকারও রেহাই পাওয়ার কথা নয়। এর সাথে যোগ হয়েছে নতুন নেতৃত্ব। তাদের কাছেও ক্ষমা পাওয়া যাবে না। এই ফ্যাসিবাদীর আচরণে তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। আর খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে গেছে। তাই বলবো এই সরকারকে একদিনের জন্য হলেও ইতিহাসের সম্মুখীন হতে হবে।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ঈদের দিন পরিবারের সদস্যরা কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। এছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা ঈদের নামাজের পর কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার প্রস্তুতি রেখেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন তার সঙ্গে দেখা করার জন্য এরই মধ্যে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন। ওই রায়ের পর থেকেই খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন। পরে খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করলে তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন আদালত। তবে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি মুক্তি পাননি।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ