আকাশবার্তা ডেস্ক :
দশ বছর ধরে কাজ করছেন। নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এরমধ্যেই সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। নির্বাচনের আগে সরকারের হাতে এখন সময় আছে আর মাত্র তিন মাস। তাই এই তিন মাসের মধ্যেই এই দশ বছরের সকল কাজের ফসল ঘরে তুলতে হবে। জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়নের সব বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের (পিআরও)।
সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দীর্ঘ এক বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত পিআরওদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এসময় ৫৪ জন পিআরওর মধ্যে ৫২ জনই উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিটিভি, বেতার ও সরকারি এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরাও এই বৈঠকে ছিলেন।
দুপুরে শুরু হওয়া এই বৈঠক সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। একাধিক পিআরওর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক থেকে তাদের বলা হয়েছে, এই সরকার টানা দশ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এখন নির্বাচনের আগে সরকারের হাতে সময় আছে মাত্র তিন মাস। এই তিন মাসের মধ্যেই দশ বছরের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচারণা চালাতে হবে। এজন্য টিভি, রেডিও, পত্রিকা, অনলাইনসহ সামাজিক যোগাযোগের ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপসহ এ জাতীয় যত মাধ্যম আছে তার সব মাধ্যমেই প্রচারণা চালাতে হবে। যাতে প্রতিটা মানুষ জানতে পারে সরকার কি কি উন্নয়ন করেছে।
বৈঠকে বলা হয়, দশ বছরে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছে, কিন্তু এসব উন্নয়নের সঠিক প্রচার-প্রচারণা নেই। আপনারা এই সরকারের দশ বছর ধরে কাজ করছেন। এখন সরকারের হাতে মাত্র তিন মাস সময় আছে। সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগেই সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ জনগণকে জানাতে হবে। ফলে আপনাদের এই তিন মাসেই সব মাধ্যমে তা প্রচার করতে হবে। তিন মাসেই দশ বছরের ফসল ঘরে তুলতে হবে। অতএব সেভাবেই আপনাদের কাজ করতে হবে।
সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে সব পিআরওকেই কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পিআরওরা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কথা বলেন। এবং এ ধরনের বৈঠক মাঝে মাঝেই করা হবে বলেও তাদের বলা হয়েছে বলেও তারা জানান। এসময় বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। ফলে এই ডিজিটালের সুফল আওয়ামী লীগেরই প্রাপ্য। তাহলে আওয়ামী লীগ কেনো তা কাজে লাগাবে না। তাই এর সুফল নিতে আওয়ামী লীগের জন্য আপনারা ডিজিটাল প্রচারণা জোরদার করুন।
পিআরওদের সাথে কথা বললে তারা জানান, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি প্রচারণা নিজের ফেসবুক বা টুইটার একাউন্টে চালালে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। নিজের একাউন্টে সরকারি প্রচারণার কোনো পোস্ট দিলে অনেক সময় কেউ কেউ অনেক বাজে মন্তব্য করে। যা স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবরা দেখলে বিব্রত হতে হয়। ফলে নিজের একাউন্টে এ জাতীয় পোস্ট দেয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। আর মন্ত্রণালয় বা বিভাগের যেসব একাউন্ট আছে তাতে এমনিতেই প্রতিটা কর্মকান্ডের প্রচার করা হয়ে থাকে। তবে এসব একাউন্টে সাধারণত সাধারণ মানুষের নজরে খুব একটা আসে না। আর বিকল্প কোনো পদ্ধতিও বৈঠকে বলা হয়নি বলেও জানান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে হবে তা নির্বাচন কমিশন থেকেই বলা হয়েছে। আর সরকার থেকে বলা হচ্ছে নির্বাচনের তিন মাস দেশ পরিচালনা করবে নির্বাচনকালীন সরকার। এজন্য বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে ছোট পরিসরের একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হবে। যার প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তবে বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে।
এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ২৭ ডিসেম্বর হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বুধবার জানিয়েছেন। অবশ্য পরের দিন বৃহস্পতিবার তিনি তার অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বলেন, এই তারিখ তার ধারণা থেকে বলেছেন।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ