আকাশবার্তা ডেস্ক :
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন।”
দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কোন্দলের খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে শনিবার (০৮সেপ্টেম্বর) ট্রেনে উত্তরাঞ্চল সফরের সময় টাঙ্গাইল রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময় এক পথসভায় এই হুঁশিয়ারি দেন কাদের।
কাদেরের সফরসঙ্গী হিসাবে আছেন- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই শোকজ যাবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন ও তা ঠেকানোর ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে তারা সফল হয়নি এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে।
দশম জাতীয় সংসদের মতো আগামী সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে কি না সে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সেজন্য তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। সেজন্য প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে। আমাদের এই যাত্রা তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে।’
নির্বাচনকে সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলা সফরের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে আজ সকাল আটটায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেসে চড়ে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হন দলটির একটি প্রতিনিধিদল। ১৫টি সাংগঠনিক দলের চলমান সফরের অংশ হিসেবে এই সফর করছেন প্রতিনিধিদল। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের।
নীলফামারী গিয়ে থামার আগে যাত্রাপথে ওবায়দুল কাদের টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার অন্তর্ভুক্ত রেলস্টেশনগুলোতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন।
ট্রেনে ওঠার আগে কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার জন্যই আমাদের এই সফর। এর মাধ্যমে আমরা তৃণমূলের কিছু বার্তা দিতে চাই।’ ভবিষ্যতে নৌ ও সড়ক পথেও এই সফর করা হবে বলে জানান তিনি।
কাদের বলেন, এটা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এই ট্রেন যাত্রার মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নির্বাচনী সফর করবে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃণমূলের মানুষ যেন বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতির নিয়ে সচেতন হয়, সে বিষয়ে দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কাদের বলেন, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনী সফর করব আমরা। এরপর সড়কপথে আমাদের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে।