সোমবার ২রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

ইয়াবাসেবীদের জন্য গ্রীণ টি’ সদৃশ গাঁজা আমদানি

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারিরা থামছে না। সারাদেশে র‌্যাব পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশে বিশেষ করে ইয়াবার ব্যবসায়ী ও সেবকরা কিছুটা কোণঠাসা হলেও এদের রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে বাংলাদেশের মাদকসেবীদের ইয়াবার বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরা আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গ্রিন টি’সহ ভিন্ন ভিন্ন নামে মাদক সরবরাহ করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। আফ্রিকার ইথিওপিয়া থেকে আমদানি করা নতুন ধরনের মাদক উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

গ্রিন টিয়ের মতো দেখতে হলেও এটি মূলত এক ধরনের গাঁজা, যাকে নিউ সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস (এনপিএস) বলা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভবনের ফরেইন পোস্ট অফিস থেকে ইথিওপিয়া থেকে আসা ১৬০ কেজি গাঁজা জাতীয় মাদকদ্রব্য গতকাল শনিবার জব্দ করা হয় বলে ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী জানিয়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে আগত জেট এয়ারওয়েজের ৯ ডব্লিউ ২৭৬ ফ্লাইটে ৯টি কার্টন আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টম হাউসের একটি দল এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসআই)-এর সহযোগিতায় ৯টি সন্দেহজনক কার্টনকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর জব্দ করা হয়। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে কার্টনগুলো খোলার পর তার ভেতরে ‘গ্রিন টি’-এর মতো দেখতে পণ্যগুলো আটক করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে তারপর মাদকসেবীরা সেবন করে থাকে। আর এই মাদক সেবনের পর মানবদেহে এক ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করে। যাতে অনেকটা ইয়াবার মতো প্রতিক্রিয়া হয়। এটি বাংলাদেশে আনা নতুন এক ধরনের মাদক। উদ্ধারকৃত মাদকের কার্টনের রপ্তানিকারক ইথিওপিয়ার জিয়াদ মুহাম্মদ ইউসুফ। আর আমদানিকারক এশা এন্টারপ্রাইজ। রাজধানীর তুরাগের ডি-ব্লকের বাদলদী এলাকার দুই নম্বর সড়কের ২৮ নম্বর বাড়িকে আমদানিকারকের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মাদকের পণ্য চালানটির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে আন্তর্জাতিক একটি মাদকবিরোধী সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভিন্ন ধরনের মাদকসহ মো. নাজিম (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করে। ইতিহাদ বিমানের একটি ফ্লাইটে নওয়াহিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় মাদকের চালানটি আনা হয়েছিল। পরে আটক নাজিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শান্তিনগরের নওশীন এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০ কেজি পরিমাণ খাট উদ্ধার করা হয়। জব্দ হওয়া মাদকদ্রব্য সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ফজলুর রহমান খান বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, হর্ন অব আফ্রিকা ও আবর উপ-দ্বীপাঞ্চলে জন্মায় গুল্মজাতীয় এই মাদক। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘কাথা ইডুলিস, যদিও স্থানীয়ভাবে একে খাট, কাট, খাত, ঘাট, চাট, অ্যাবিসিনিয়ান টি, সোমালি টি, মিরা, অ্যারাবিয়ান টি ও কাফতা নামেও ডাকা হয়। খাটে অ্যালকালোইড ক্যাথিনন নামক এক ধরনের উদ্দীপক উপাদান থাকে, যার কারণে উত্তেজনা বাড়ে, ক্ষুধা কমে যায় এবং শরীরের উষ্ণতায় তারতম্য ঘটে। আমেরিকান কোকো পাতা, এশিয়ান পানের মতোই স্থানীয়দের মধ্যে হাজার বছর ধরে এই নেশাদ্রব্যের শুকনো পাতা চিবিয়ে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার গত ১ সেপ্টেম্বর নতুন ধরনের মাদকজাতীয় বস্তু উদ্ধারের ব্যাপারে আমার সংবাদকে জানান, এইগুলো উদ্ধার বাংলাদেশে এটিই প্রথম। এর আগে কখনো উদ্ধার হয়নি। এগুলো বাংলাদেশে আর কখনো দেখা যায়নি। তবে যেহেতু বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী কোন দেশেও উৎপাদন হয় না। আর বিভিন্ন দেশ ঘুরে এগুলো আনা হয়েছে। তাই আমদের সন্দেহ এসব বস্তু আমদানির সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মো. নামিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্টেও হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে একই ধরনের ৪৬০ কেজি ওজনের আরেকটি পণ্য চালান আটক করা হয়েছিল।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১