নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে ‘ল্যান্ড কিং হাউজিং’ নামক একটি প্রতারক চক্র। যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল ষ্টেট কোম্পানীর নামে খরিদকৃত ভূমি নিজেদের নামে ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল সৃজন করে ল্যান্ড কিং হাউজিং নামক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় ওই প্রতারক চক্রটি। এরপর যুবক এবং ল্যান্ড কিং হাউজিংয়ের গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে ভুয়া আমমোক্তারনামা দলিল ব্যবহার জমি ছাপকবলা রেজিষ্ট্রি দেয়া হয় গ্রাহকদের নামে। কিন্তু ছাপকবলা রেজিঃ নেওয়া গ্রাহকরা তাদের জমির দখল আজো বুঝে নিতে পারেনি। অন্যদিকে, যুবকের জমি ভুয়া আমমোক্তারনামা সৃজন করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং লক্ষ্মীপুর সদর সাবরেজিষ্টারসহ ২৭ জনকে বিবাদি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল ষ্টেট কোম্পানীর নোয়াখালী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হুদা চৌধুরী।

অভিযোগে জানা যায়, বিগত জোট সরকারের আমলে ‘যুবক হাউজিং এন্ড রিয়েল ষ্টেট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সারাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এই কোম্পানীটি সারাদেশে জমি বা ফ্লট বরাদ্দ দেওয়ার নামে সারাদেশে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে গ্রাহক হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার কিস্তি জমা নেয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০০৪-০৫ সালে কোম্পানীটি সারাদেশে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এই সুযোগে তৎকালিন সময়ে লক্ষ্মীপুরে যুবকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রায়পুরের বাসিন্দা ডাক্তার মিজানুর রহমান, সদর উপজেলার মান্দারী এলাকার মো. সেলিম ও আব্দুল মন্নান গংরা পরস্পর যোগসাজসে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে অবস্থিত যুবক অফিসের সাইনবোর্ড রাতারাতি পরিবর্তন করে ল্যান্ড কিং হাউজিং এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়।
এ দিকে যুবক তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে আমানত (সঞ্চয়) জমাকারী লক্ষ্মীপুরের শত শত গ্রাহক তাদের টাকা বা জমি বুঝে নেওয়ার জন্য ওই কার্যালয়ে ধর্ণা দিলে তালবাহানা শুরু করে ডাক্তার মিজানুর রহমান, মো. সেলিম ও আব্দুল মন্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয় ‘ল্যান্ড কিং হাউজিং’য়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এই ৩ কর্মকর্তা। তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে যুবকের নামে খরিদকৃত জমি হস্তান্তরের জন্য ভুয়া পাওয়ার অব এটর্ণি (আমমোক্তারনামা) সৃজন করে গ্রাহকদের কাছ থেকে আরো অতিরিক্ত টাকা নিয়ে অনেক গ্রাহককে জমি রেজিষ্ট্রি দেয়। লক্ষ্মীপুর জেলখানার বিপরীতে হোগলডহরি গ্রামে ল্যান্ড কিং হাউজিংয়ের সাইনবোর্ড লাগানো জমির দাগ খতিয়ান ব্যবহার করে এবং অন্যান্যস্থানে যুবকের খরিদকৃত জায়গা নিজেদের দাবি করে গ্রাহকদের নামে ছাপকবলা রেজিষ্ট্রি দিতে থাকে। তাদের এই প্রতারণামূলক কাজের সাথে লক্ষ্মীপুর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জড়িত বলে অভিযোগে জানা গেছে। যার কারণে, যুবক কর্মকর্তা রাশেদুল হুদা চৌধুরী তার দায়েরকৃত মামলায় সাবরেজিষ্টারকেও বিবাদি করেছেন। এদিকে ছাপকবলা নেওয়া জমির গ্রাহকরা আদালত থেকে সমনজারী নোটিশ পাওয়ার পর আরো হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে গ্রাহকরা জমির রেজিষ্ট্রি পেলেও দখল আজো বুঝে পাননি, অপরদিকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় উল্টো মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসাবে দেখা দিয়েছে মামলাটি।
সরেজমিনে জানা গেছে, একই দাগের জমি রেজিষ্ট্রি দেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। যার কারণে একপক্ষ ওই দাগ ও মৌজায় জমি বুঝে নিতে গেলে আরেকটি পক্ষ এই জমি তাদের দাবি করে বাধা দিচ্ছে। এতে জমির দাবিদার দুই বা আরো একাধিক পক্ষের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জমির ছাপকবলমূলে মালিকানা দাবিদার প্রবাসী বেলাল হোসেন ও দত্তপাড়ার আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, একই দাগের একই জমি আমাদের দুজনের নামে রেজিষ্ট্রি দেওয়া হয়েছে। তবে আগে রেজিষ্ট্রি নিয়েছেন প্রবাসী বেলাল হোসেন। এ দিকে ল্যান্ড কিং হাউজিংয়ের কর্ণধার ডাক্তার মিজানুর রহমান, মো. সেলিম ও আব্দুল মন্নানগংরা গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এবং গ্রাহকদের জমি বুঝিয়ে না দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি গ্রাহকরা অভিযুক্তদের তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এএইচ/এবি