বুধবার ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপিজোট তছনছে নাটের গুরু অলি

আকাশবার্তা ডেস্ক :


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আটকের পর থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ২০ দল! জোটে অভিজ্ঞ ও সিনিয়রদের নেই কোনো মূল্যায়ন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য ঐক্যফ্রন্টকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। দলের ত্যাগী নেতাদের মতামত ও জনপ্রিয়তাকেও বিবেচনা করা হচ্ছে না। ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশের পর ড. কামালকে পাশে বসিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাষ্য ছিলো, ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি! ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে বলে ঘোষণা দেন মোশাররফ হোসেন।

আর মওদুদ আহমদ বললেন, ঐক্যই প্রধান অস্ত্র। এরপর থেকেই জোটে ক্ষোভ ও ভাঙনের সূত্রপাত ঘটে। আসন বণ্টন এবং নির্বাচনি কোনো ছক নিয়ে ২০ দলের সাথে আলোচনা হচ্ছে না। গতকাল ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে দলের মহাসচিবের আক্রমণাত্মক নির্দেশনায় অনেকে মনোক্ষুণ্ন হন। এদিকে এর আগেই ইঙ্গিত ছিলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ২০ দলীয় জোটে থাকবেন না, তার মাধ্যমেই বিএনপি ভাঙনের সূচনা হবে কিন্তু শেষ দৃশ্যটা উল্টো দিকেই ঘুরে গেলো।

বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি এবং আরেক শরিক দল এনডিপির চেয়ারম্যন খোন্দকার গোলাম মোরতাজার মাধ্যমেই অবশেষে বিএনপি জোট তছনছের সূচনা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নতুন বন্ধুদের বক্তব্য ও আচরণে ক্ষোভ জানিয়ে ২০ দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার ঘোষণা দেন তারা।

এ সময় তারা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আরেকটি অগণতান্ত্রিক ও অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্রের অংশ হতে যাচ্ছে কিনা তাও তাদের ভাবিয়ে তুলছে। ১/১১-র কুশীলব, মাইনাস টু ফরমুলা বাস্তবায়নকারীরা যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তখন বিএনপি তার সকল নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

একান্ত মন্তব্যে ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের কিছু স্বপ্ন থাকে, কিছু উদ্দেশ্য থাকে, সেখানে আমাদেরও ছিলো কিন্তু বিএনপি সেখানে অবস্থান করছে না। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপির প্রতি এখন আর আমাদের কোনো আস্থা নেই। জোটের শরিকদের ওপর বিএনপির কোনো আস্থা নেই। তারা কোন শক্তির জন্য আমাদের সাথে লুকোচুরি করে যাচ্ছে। তবে তাদের চাহিদা পূরণ হলে বিএনপিতে ফের যাওয়ার ইঙ্গিতও দেন ন্যাপ চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, আমরা জোট নিয়ে সন্ধিহান তাই আমরা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছি। নতুন পথ চলায় প্রস্থান করেছি। আওয়ামী লীগ কিংবা জাতীয় পার্টি কোনো জোটে যাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনো কোনো জোট থেকে সাড়া পাইনি তবে সরকার যদি আমাদের কোনো প্রস্তাব দেয় তাহলে অবশ্যই আমাদের চিন্তা-ভাবনার সুযোগ থাকবে। যেহেতু রাজনীতিতে লোভ এবং চাহিদা অস্বীকার কারার সুযোগ নেই, তেমনি আমাদেরও লক্ষ্য-চাহিদা আছে।

জোট ভাঙনের পর বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের আগেই জোট তছতছ ও ভাঙনের পেছনে অন্য শরিকদের বড় ইঙ্গিত ছিলো। এ ক্ষেত্রে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে বেশি সন্দেহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি নির্বাচনকালীন সরকারের কথা উঠলে ক্ষমতাসীন সরকারের পছন্দের প্রথম তালিকায়ও ছিলো কর্নেল অলি।

এছাড়া খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই নানা কৌশলে তিনি বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে চেষ্টা করেছিলেন। ৭৯ বছর বয়সি এই রাজনীতিক ব্যক্তিকে বিএনপি কিছুটা অবজ্ঞা করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাছাড়া তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মন্ত্রি হয়েছেন পাঁচবার। কিন্তু বিএনপি এই অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের এই অন্যতম শীর্ষ নেতা দীর্ঘদিন ধরেই জোটের কোনো বৈঠকেও যোগ দেননি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে জোটের কোনো শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেননি। নতুন ঐক্যজোট গঠনে বিএনপির তৎপরতা তার সমর্থনও ছিলো না।

যে জন্য জোটের রাজনীতিতে তাকে সক্রিয় করতে গত রোববার রাতে তার মহাখালীর পুরনো ডিওএইচএসের বাসায় যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। তখন তিনি বিএনপিকে এখন থেকে পাশে থাকার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু দুদিন পার না হতেই জোট ভাঙার পেছনে কর্নেল অলির কোনো হাত আছে কিনা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, এ জোট ভাঙার পেছনে তার হাত থাকার বড় ভূমিকা থাকতে পারে। তিনি বলেন, ভেঙে যাওয়া দুটি জোটকে কর্নেল অলি আওয়ামী লীগে শরিক করার ব্যবস্থা করতে চূড়ান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে বিএনপি থেকে সর্বোচ্চ সুযোগ আদায় করতে কৌশলে চাপ প্রয়োগ করবে। তবে ইতোমধ্যে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে কিছু ধারণা করছেন, এটা কর্নেল অলির রাজনৈতিক চাল হতে পারে। এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘২০ দলীয় জোট শরিক হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাপ এবং এনডিপি সাংবিধানিক নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে জোটের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, এছাড়াও কাজী ফারুক হোসেন, কামাল ভুইয়া, শাহিদুল কবির, কামাল ভুইয়া, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু প্রমুখ।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে গাণি বলেন, ‘আমরা নতুন করে পথ চলতে চাই। প্রকৃত দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্য চাই।’ চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই। গাণি বলেন, ‘ন্যাপ ও এনডিপি সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে।

শুধুমাত্র ক্ষমতার পালা বদলের নামে কোনো অশুভ শক্তি ক্ষমতা গ্রহণ করুক একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি না।’ বিএনপিকে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের কারণে কেউ চাপে থাকুক সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে এই দলগুলো তাদের পাশে ছিলো বিধায় বিএনপির অনেক ব্যর্থতার কিছু ভাগ দিতে পারেন। না থাকলে তাও দিতে পারতেন না।

বি. চৌধুরীর সাথে বিএনপির আচরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলেও মন্তব্য করেন ন্যাপ চেয়ারম্যান। বিএনপি জোট ভাঙার পেছনে কারো ইঙ্গিত আছে কিনা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে কোনো ক্ষতি হবে আমরা মনে করি না। আমরা এখনো তাদের বন্ধু হিসেবেই মনে করি। গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্ন মত থাকবে। নির্বাচনের আগে তাদের এই সিদ্ধান্তকে আমরা নিন্দাও জানাই না অভিনন্দনও জানাই না। এটা কোনো গুরুত্ব দেয়ার বিষয় না। উস্কানি আছে কিনা তা নিয়ে আপাতত কিছু বলবো না।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১