আকাশবার্তা ডেস্ক :
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন বলেছেন, জাতীয় ঐক্য একটি জগাখিচুড়ি ঐক্য। বিএনপির এখন প্রয়োজন ড. কামাল হোসেনের ওপর ভর করা।অলরেডি তাদের দুই উইকেট পড়ে গেছে, নির্বাচনের আগে আসন ভাগাভাগির সময় এলে দেখা যাবে কত ধানে কত চাল।
ঐক্যফ্রন্টের জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকির জবাবে এসময় তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যারা ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্য আন্দোলন করতে পারেনি, তারা এসেছে ঐক্যফ্রন্ট করতে!
শনিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কাদের এ কথা বলেন। এর আগে ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভায় সারাদেশে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার অব্যাহত রাখা এবং জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মানি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সাম্প্রদায়িক ও অশুভ জোট হিসেবে অভিহিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় এক্যফ্রন্টের জোট হয়েছে। এটা সাম্প্রদায়িক ও অশুভ শক্তির জোট। তাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া নয়, শেখ হাসিনাকে হঠানো। নীতিগতভাবে তাদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না।
সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, সিলেটে মাজার জিয়ারত এ দেশের রাজনীতিতে একটা ট্রেন্ড। তাই তারা মাজার জিয়ারত করতেই পারে। কিন্তু এই মাজার জিয়ারতকে কেন্দ্র করে যদি কোনো নাশকতা বা সহিংসতা তৈরি হয়, সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যা যা করণীয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটা করবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের গোঁড়াতেই গলদ, তারা শুরুতে জনগণের কাছে না গিয়ে বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়েছে। দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে। জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। যারা ভোটমুখী জনগণকে আন্দোলনমুখী করতে চায়, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
তিনি বলেন, কেউ এখন আন্দোলনের দিকে তাকিয়ে নেই। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে, সেই আশা করে জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে পড়েছে। নির্বাচনমুখী জনগণকে ১৫ থেকে ২০ দিনে আন্দোলনমুখী করা কিছুতেই সম্ভব নয়।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে দুই দলের বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কাদের বলেন, আমরা কোনো দলকে, কোনো জোটকে ভাঙতে চাই না। আওয়ামী লীগ ভাঙনে বিশ্বাসী নয়। যদি কোনো দল ভাঙে, নিজেদের কারণেই ভাঙবে। এখানে আওয়ামী লীগের হাত থাকার প্রশ্নই আসে না।
একাত্তর টিভির টকশো’তে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলায় আওয়ামী লীগ ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মাসুদা ভাট্টির প্রতি ব্যারিস্টার মঈনুলের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের মন্তব্য নজিরবিহীন ও শিষ্টাচার বহির্ভূত। এ সময় নারী সাংবাদিকদের দাবির প্রতি একাত্মতাও ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।