বুধবার ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফের নির্বাচিত হলে সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় : প্রধানমন্ত্রী

আকাশবার্তা ডেস্ক :


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে আবার ক্ষমতায় আসলে দেশের সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা এলাকায় থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারবে। আমাদের দেশ আরও উন্নত হোক। আমরা দেশের মানুষের উন্নতি চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি এস্টাবলিস্টমেন্ট অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারসহ আরও আটটি অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।

সরকারের টানা মেয়াদে চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তাছাড়া এখন বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের বদৌলতে সমগ্র বাংলাদেশে এখন ইন্টারনেট সার্ভিস আছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও এখন মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি আমরা, যার মাধ্যমে এই যোগাযোগটা আরও দ্রুত হবে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক সিরাজুল ইসলাম শিশিরের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিরাজুল ইসলাম শিশির ভাই আছেন। থাকেন আমেরিকায়। মাঝে মাঝে ওখান থেকে কিন্তু অনলাইনে আমাদের এখানে লেকচার দিতে পারবেন, ট্রেনিং দিতে পারবেন, কথা বলতে পারবেন। আর যখন বাংলাদেশে আসবেন, তখন তো করবেনই। ওখানে কিন্তু আমাদের অনেক বাঙালি চিকিৎসক আছে। শুধু উনি একা নন, আরও যারা আছেন, তাদের নিয়েই এই বিশেষায়িত (হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট) ব্যাপারে আমাদেরকে সাহায্য করবেন। সেটাই আমরা চাই। আর কতদিন বিদেশে থাকবেন? এখন তো দেশে এসে দেশের মানুষের সেবা করাটাই ভালো বলে আমি মনে করি।’

মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও মেডিকেল কলেজ সরকার স্থাপন করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ করে দিয়েছি। যেখানে যেখানে সেনানিবাস আছে, সেসব জায়গায় পাঁচটি মেডিকেল কলেজ আমরা করে দিয়েছি।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষেরা যে রোগগুলোর প্রকোপে বেশি ভুগছে, সেগুলোর ওপর চিকিৎসা গবেষণা করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবার মান উন্নতির লক্ষ্যে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন
বুধবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে দিয়ে দেশেও পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনাল রোগের উন্নত মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।এছাড়াও স্বাস্থ্যখাতে আরো ৯টি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

হাসপতাল উদ্বোধন ও আটটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে হাসপাতালের প্রতিটি ফ্লোরে ঘুরে ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি। এতে সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উদ্বোধনসহ এস্টাবলিস্টমেন্ট অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের উদ্বোধনসহ আরও আটটি অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা।

এসময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও সচিব সিরাজুল হক খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের হাসপাতাল বাংলাদেশে এই প্রথম।

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনাল রোগের প্রকোপ রয়েছে। জলবায়ু ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে বর্তমানে গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনালজনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এ জাতীয় রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর মহাখালীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের যাত্রা শুরু হলো।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহে এ হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে। হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হলে এ সংক্রান্ত রোগীরা ন্যূনতম ব্যয়ে বিশ্বমানের সেবা পাবেন। রাজধানীর মহাখালীতে (বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায়) ২ একর জমির ওপর ১০ তলা মূল হাসপাতাল ভবনসহ আরও চারটি পাঁচ তলা ভবন নিয়ে ২৫০ শয্যার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রির্সাচ অ্যান্ড হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে। হাসপাতালটি চিকিৎসক, নার্সসহ ৩৬৩ জন জনবল নিয়াগের অনুমোদন পেয়েছে।

এখানে ইমার্জেন্সি এন্ডোসকপিক ইন্টারভেনশন, ইমার্জেন্সি সার্জিক্যাল কেয়ার ও ১২ বেডের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডসহ গ্যাস্ট্রো ইনটেসটাইনাল ইমার্জেন্সি সেবার সুবিধা থাকবে। এছাড়া বহির্বিভাগে পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও প্যানক্রিয়াসজনিত গ্যাস্ট্রো ইন্টেসটাইনাল রোগগুলোর মেডিকেল ও সার্জিক্যাল কনসালটেশন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এই হাসপাতালে থাকবে চারটি অপারেশন থিয়েটার, আট বেডের আইসিইউ, ১২ বেডের এইচডিইউ, ১২টি ওয়ার্ড, ৩০টি কেবিন, মৃতদেহ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বেজমেন্ট পার্কিং সুবিধা। এছাড়া পাঁচ তলা ভবনগুলোয় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট হোস্টেল, ডক্টরস ডরমেটরি, নার্সেস হোস্টেল ও ইমার্জেন্সি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ হয়েছে।

গ্যাস্ট্রোলিভার চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমডিসির প্রতিনিধি দলের হাসপাতালটি পরিদর্শনের পর এ-সংক্রান্ত কোর্স চালু করা হবে। প্রতি বছর মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগে ১৫ জন করে মোট ৪৫ জন চিকিৎসক উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন এখানে। ২০১১ সালের অক্টোবরে প্রায় ২১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১